ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশ কোন পথে, নির্বাচন কি আদৌ হবে?

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 85

নির্বাচন

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন—আসলে কোন দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ? বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদ নিয়ে চলমান মতপার্থক্য দেশকে অনিশ্চিত এক গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে জাতীয় নির্বাচনসহ সামগ্রিক অগ্রগতি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। অনেকের মতে, নতুন সংবিধান ও গণপরিষদ নির্বাচনের প্রশ্ন মীমাংসা না হলে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আসবে না।

গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ঘিরে এক বছর ধরে জাতীয় ঐকমত্যের আলাপ চললেও জুলাই সনদ এখনো অমীমাংসিত। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত নির্বাচন নিয়ে নিত্য নতুন ইস্যু রাজনীতিকে আরও জটিল করছে। নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়েছে, আর পিআর পদ্ধতিতে ভোটের দাবিতে কয়েকটি দল আবারও রাজপথে নেমেছে। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

গবেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, বর্তমান অবস্থায় জাতীয় ঐকমত্য না হলে নির্বাচন ঝুলে যাবে। নির্বাচন অনিশ্চিত হলে দুটো বড় প্রভাব পড়বে—প্রথমত, বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে, দ্বিতীয়ত, সমাজে ‘মব সংস্কৃতি’ বাড়বে। তার মতে, জুলাই সনদ ও পিআর পদ্ধতির নির্বাচন দুটোরই যৌক্তিকতা আছে, তবে সেগুলোকে সামনে এনে জাতীয় নির্বাচনকে অনিশ্চিত করা হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের জন্য একটি আইনি ভিত্তি জরুরি। বিএনপি সবকিছুর বিপক্ষে আছে—এমনটা বলা যায় না; বরং যতটুকু ঐকমত্য আছে, তার ভিত্তিতেই এগোতে হবে। তবে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি তার কাছে ভালো মনে হলেও সেটা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

অন্যদিকে চিন্তক ফরহাদ মজহার মনে করেন, মূল দ্বন্দ্ব নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে কেন্দ্র করে। তার মতে, পুরোনো সংবিধান রেখে শুধু সরকার নির্বাচন করলে কোনো সমাধান আসবে না। তাই তিনি গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তার দৃষ্টিতে, যারা দ্রুত নির্বাচনের দাবি করছে তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে দেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে, আর যারা নতুন গঠনতন্ত্রের পক্ষে তারা মনে করছে রাষ্ট্র কাঠামো বদলানো ছাড়া কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে ব্যক্তি নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে যেন প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আক্রমণের শিকার না হতে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—বাংলাদেশ কি নির্বাচনী ধারায় এগোবে, নাকি নতুন সংবিধান ও গণপরিষদের পথে হাঁটবে? আপাতত দেশ এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দেশ কোন পথে, নির্বাচন কি আদৌ হবে?

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন—আসলে কোন দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ? বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদ নিয়ে চলমান মতপার্থক্য দেশকে অনিশ্চিত এক গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে জাতীয় নির্বাচনসহ সামগ্রিক অগ্রগতি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। অনেকের মতে, নতুন সংবিধান ও গণপরিষদ নির্বাচনের প্রশ্ন মীমাংসা না হলে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আসবে না।

গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ঘিরে এক বছর ধরে জাতীয় ঐকমত্যের আলাপ চললেও জুলাই সনদ এখনো অমীমাংসিত। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত নির্বাচন নিয়ে নিত্য নতুন ইস্যু রাজনীতিকে আরও জটিল করছে। নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়েছে, আর পিআর পদ্ধতিতে ভোটের দাবিতে কয়েকটি দল আবারও রাজপথে নেমেছে। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

গবেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, বর্তমান অবস্থায় জাতীয় ঐকমত্য না হলে নির্বাচন ঝুলে যাবে। নির্বাচন অনিশ্চিত হলে দুটো বড় প্রভাব পড়বে—প্রথমত, বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে, দ্বিতীয়ত, সমাজে ‘মব সংস্কৃতি’ বাড়বে। তার মতে, জুলাই সনদ ও পিআর পদ্ধতির নির্বাচন দুটোরই যৌক্তিকতা আছে, তবে সেগুলোকে সামনে এনে জাতীয় নির্বাচনকে অনিশ্চিত করা হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের জন্য একটি আইনি ভিত্তি জরুরি। বিএনপি সবকিছুর বিপক্ষে আছে—এমনটা বলা যায় না; বরং যতটুকু ঐকমত্য আছে, তার ভিত্তিতেই এগোতে হবে। তবে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি তার কাছে ভালো মনে হলেও সেটা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

অন্যদিকে চিন্তক ফরহাদ মজহার মনে করেন, মূল দ্বন্দ্ব নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে কেন্দ্র করে। তার মতে, পুরোনো সংবিধান রেখে শুধু সরকার নির্বাচন করলে কোনো সমাধান আসবে না। তাই তিনি গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তার দৃষ্টিতে, যারা দ্রুত নির্বাচনের দাবি করছে তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে দেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে, আর যারা নতুন গঠনতন্ত্রের পক্ষে তারা মনে করছে রাষ্ট্র কাঠামো বদলানো ছাড়া কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে ব্যক্তি নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে যেন প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আক্রমণের শিকার না হতে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—বাংলাদেশ কি নির্বাচনী ধারায় এগোবে, নাকি নতুন সংবিধান ও গণপরিষদের পথে হাঁটবে? আপাতত দেশ এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে।