দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা কমেনি, বরং আরও বেড়েছে
- সর্বশেষ আপডেট ০২:০৯:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
- / 145
নারীর প্রতি সহিংসতা কমার কোনো লক্ষণ নেই, বরং উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে—এমন মন্তব্য করেছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সোমবার (২৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শারমীন মুরশিদের ভাষ্য মতে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো অনেক সময় নিজেদের স্বার্থে নারী ও শিশুদের ওপর অত্যাচারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তিনি বলেন,
“জমি দখল করতে চাইলে নারী-শিশুকে নির্যাতন করা হয়। নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে চাইলে নির্দিষ্ট কমিউনিটির ওপর সহিংসতা নামানো হয়, যাতে তারা ভয়ে এলাকা বা অবস্থান বদলাতে বাধ্য হয়। এই সহিংসতার মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয় কিছু গোষ্ঠী।”
তিনি আরও বলেন, যে সমাজে নারী ও শিশুদের প্রতি সম্মান ভেঙে পড়ে, সেই সমাজ গোড়া থেকে দুর্বল হতে শুরু করে।
গত ১৬–১৭ বছরের স্বৈরাচারী পরিস্থিতিতে এ ধরনের আচরণের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, যদি সংস্কৃতি ও নীতির গভীরে নারীর প্রতি অসম্মান স্বাভাবিক হয়ে যায়, তাহলে পুরো সমাজই ভয়ংকর পরিণতির দিকে ধাবিত হয়।শারমীন এস মুরশিদের বক্তব্য, বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা কমার পরিবর্তে ক্রমেই বাড়ছে। তিনি বলেন, “একটি দেশকে বিচার করতে হলে দেখতে হবে সে দেশ নারী ও শিশুকে কীভাবে রাখে। যে সমাজে নারী-শিশু নির্যাতন ঘটতে দেওয়া হয়, সেটা অসভ্যতার পরিচায়ক।”
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে দেশের নারীরা দুঃসাহস ও নেতৃত্বের যে চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, তা দেশের সংকটে নারীর ভূমিকার প্রমাণ—মন্তব্য করেন তিনি।
২৪ ঘণ্টায় তথ্য পৌঁছানোর লক্ষ্য ও দ্রুত সাড়া
দেশের যেকোনো জায়গায় নারী বা শিশুর ওপর নির্যাতনের ঘটনা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানতে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানান উপদেষ্টা। এ জন্য ‘কুইক রেসপন্স স্ট্র্যাটেজি’ চালু করা হয়েছে।
১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে ১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত হবে, যার উদ্বোধন হবে ২৫ নভেম্বর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে।
































