ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রতি ৪ জনে একজন উচ্চ দারিদ্র্যসীমার নিচে

দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২৮ শতাংশে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
  • / 120

দারিদ্র্যসীমা

দেশে গত তিন বছরে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়ে এখন প্রায় ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি চারজন নাগরিকের একজনই উচ্চ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।

সোমবার রাজধানীর এলজিইডি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশের প্রায় ১৮ শতাংশ পরিবার যে কোনো সময় দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়তে পারে।

সরকারি হিসেবে ২০২২ সালে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ৫.৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৩৫ শতাংশে। অর্থাৎ, মাত্র তিন বছরের মধ্যে দেশের দারিদ্র্যের হার তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পিপিআরসি ৮,৬৭১টি পরিবার ও ৩৩,২০৭ জনের মতামতের ভিত্তিতে গবেষণা পরিচালনা করেছে। এতে উঠে এসেছে, বর্তমানে দেশে দারিদ্র্যের হার প্রায় ২৮ শতাংশ। ২০২২ সালে এই হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ।

গবেষণা সহযোগী নামিরা শামীম বলেন, “প্রায় ৯.৩৫ শতাংশ মানুষ উচ্চ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। অন্যদিকে ২৭.৯৩ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে। তিন বছরের ব্যবধানে দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ থেকে ২৭.৯২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।”

গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের পরিবারের মাসিক আয় কমেছে, কিন্তু খরচ বেড়েছে। গ্রামীণ অঞ্চলের পরিবারের আয় কিছুটা বেড়েছে। পিপিআরসি জানাচ্ছে, একটি পরিবারের মাসিক গড় খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশ অর্থাৎ ১০,৬১৪ টাকা খাবারের জন্য ব্যয় হয়। এছাড়া শিক্ষায় খরচ হয় ১,৮২২ টাকা এবং চিকিৎসায় ১,৫৫৬ টাকা।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “নিচের ২০ শতাংশ পরিবারের জন্য খরচ আয়ের তুলনায় বেশি। নিচের ৪০ শতাংশ পরিবারেও একই অবস্থা। এমনকি মধ্যবিত্ত পরিবারও খরচের চাপ অনুভব করছে।”

সংস্থাটি জিডিপি আলোচনার বাইরে সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা এবং নাগরিক কল্যাণ বিষয়েও বেশি মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্রতি ৪ জনে একজন উচ্চ দারিদ্র্যসীমার নিচে

দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২৮ শতাংশে

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

দেশে গত তিন বছরে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়ে এখন প্রায় ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি চারজন নাগরিকের একজনই উচ্চ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।

সোমবার রাজধানীর এলজিইডি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশের প্রায় ১৮ শতাংশ পরিবার যে কোনো সময় দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়তে পারে।

সরকারি হিসেবে ২০২২ সালে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ৫.৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৩৫ শতাংশে। অর্থাৎ, মাত্র তিন বছরের মধ্যে দেশের দারিদ্র্যের হার তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পিপিআরসি ৮,৬৭১টি পরিবার ও ৩৩,২০৭ জনের মতামতের ভিত্তিতে গবেষণা পরিচালনা করেছে। এতে উঠে এসেছে, বর্তমানে দেশে দারিদ্র্যের হার প্রায় ২৮ শতাংশ। ২০২২ সালে এই হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ।

গবেষণা সহযোগী নামিরা শামীম বলেন, “প্রায় ৯.৩৫ শতাংশ মানুষ উচ্চ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। অন্যদিকে ২৭.৯৩ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে। তিন বছরের ব্যবধানে দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ থেকে ২৭.৯২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।”

গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের পরিবারের মাসিক আয় কমেছে, কিন্তু খরচ বেড়েছে। গ্রামীণ অঞ্চলের পরিবারের আয় কিছুটা বেড়েছে। পিপিআরসি জানাচ্ছে, একটি পরিবারের মাসিক গড় খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশ অর্থাৎ ১০,৬১৪ টাকা খাবারের জন্য ব্যয় হয়। এছাড়া শিক্ষায় খরচ হয় ১,৮২২ টাকা এবং চিকিৎসায় ১,৫৫৬ টাকা।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “নিচের ২০ শতাংশ পরিবারের জন্য খরচ আয়ের তুলনায় বেশি। নিচের ৪০ শতাংশ পরিবারেও একই অবস্থা। এমনকি মধ্যবিত্ত পরিবারও খরচের চাপ অনুভব করছে।”

সংস্থাটি জিডিপি আলোচনার বাইরে সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা এবং নাগরিক কল্যাণ বিষয়েও বেশি মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।