ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশে ছড়ানো হচ্ছে জাল নোট, বড় অর্থনৈতিক হুমকি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:০০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 116

দেশে ছড়ানো হচ্ছে জাল নোট, বড় অর্থনৈতিক হুমকি

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পার্শ্ববর্তী দেশের বিশেষ গোয়েন্দা ইউনিটের সহায়তায় প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণ জাল নোট দেশে প্রবেশের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের টাকশাল ছাপা নোটের আদলে নিখুঁত কাগজের জাল মুদ্রাগুলো পার্শ্ববর্তী দেশে তৈরি করে চোরাপথে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। এরপর বিভিন্ন হাত ঘুরে এগুলো খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। জাল নোট তৈরির এই চক্রে দেশ-বিদেশের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় সহযোগী জড়িত রয়েছে। চক্রটি ডিলার থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত সকলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

তদন্তে জানা গেছে, জাল নোট বিক্রির জন্য ফেসবুক, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে। চক্রটি চটকদার অফারের মাধ্যমে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। কিছু বিজ্ঞাপনে ১ লাখ টাকার জাল নোট মাত্র ১০–১৮ হাজার টাকায় বিক্রির প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের জন্য ‘মানি ব্যাক গ্যারান্টি’ বা ‘উচ্চমানের রেপ্লিকা’ প্রভৃতি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।

এক ফেসবুক গ্রুপের নাম ‘জাল টাকা বানানোর প্রসিকিউটর’, যেখানে জাল নোটের ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সরবরাহ করা হচ্ছে। এক লাখ টাকার জাল নোটের জন্য ১৮ হাজার টাকা চাইছে গ্রুপটি। গ্রুপের এক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, তিনি টাঙ্গাইল বা গাজীপুরে অবস্থান করছেন এবং নগদ বা বিকাশে অগ্রিম টাকা পাঠালে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে জাল নোট সরবরাহ করা হবে।

আরেক গ্রুপের নাম ‘জাল টাকা বিক্রি করি’। এখানে ‘এ গ্রেড’ নোটের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে, যেখানে জলছাপ সহ নিখুঁত মানের নোট উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রুপের কর্তারা জানান, মেশিন ছাড়া সাধারণ মানুষ এই নোট চিনতে পারবে না।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাল নোট কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দেশে ছড়ানো হচ্ছে জাল নোট, বড় অর্থনৈতিক হুমকি

সর্বশেষ আপডেট ০৫:০০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পার্শ্ববর্তী দেশের বিশেষ গোয়েন্দা ইউনিটের সহায়তায় প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণ জাল নোট দেশে প্রবেশের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের টাকশাল ছাপা নোটের আদলে নিখুঁত কাগজের জাল মুদ্রাগুলো পার্শ্ববর্তী দেশে তৈরি করে চোরাপথে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। এরপর বিভিন্ন হাত ঘুরে এগুলো খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। জাল নোট তৈরির এই চক্রে দেশ-বিদেশের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় সহযোগী জড়িত রয়েছে। চক্রটি ডিলার থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত সকলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

তদন্তে জানা গেছে, জাল নোট বিক্রির জন্য ফেসবুক, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে। চক্রটি চটকদার অফারের মাধ্যমে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। কিছু বিজ্ঞাপনে ১ লাখ টাকার জাল নোট মাত্র ১০–১৮ হাজার টাকায় বিক্রির প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের জন্য ‘মানি ব্যাক গ্যারান্টি’ বা ‘উচ্চমানের রেপ্লিকা’ প্রভৃতি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।

এক ফেসবুক গ্রুপের নাম ‘জাল টাকা বানানোর প্রসিকিউটর’, যেখানে জাল নোটের ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সরবরাহ করা হচ্ছে। এক লাখ টাকার জাল নোটের জন্য ১৮ হাজার টাকা চাইছে গ্রুপটি। গ্রুপের এক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, তিনি টাঙ্গাইল বা গাজীপুরে অবস্থান করছেন এবং নগদ বা বিকাশে অগ্রিম টাকা পাঠালে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে জাল নোট সরবরাহ করা হবে।

আরেক গ্রুপের নাম ‘জাল টাকা বিক্রি করি’। এখানে ‘এ গ্রেড’ নোটের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে, যেখানে জলছাপ সহ নিখুঁত মানের নোট উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রুপের কর্তারা জানান, মেশিন ছাড়া সাধারণ মানুষ এই নোট চিনতে পারবে না।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাল নোট কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।