দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩৯:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 116
দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এর সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন দামে বিক্রি হবে স্বর্ণ। তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত থাকছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এবার ভরিতে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২ হাজার ৭১৮ টাকা। নতুন দামে – প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা; যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩০৪ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪১ টাকা। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৭ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণের মূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬% মজুরি আবশ্যিকভাবে যোগ হবে। তবে গহনার মান ও ডিজাইনের ভিত্তিতে মজুরি পরিবর্তন হতে পারে।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ভরিতে ৩ হাজার ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩২ টাকা, যা তখন পর্যন্ত ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৫০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ বার দাম বেড়েছে, আর ১৬ বার কমেছে। ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার দাম সমন্বয় হয়েছিল— যেখানে ৩৫ বার বেড়েছিল এবং ২৭ বার কমেছিল।
স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে- ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ২ হাজার ৮১১ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার ভরি ২ হাজার ৬৮৩ টাকা।১৮ ক্যারেট রুপার ভরি ২ হাজার ২৯৮ টাকা। এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি ১ হাজার ৭২৬ টাকা।
প্রশ্ন উঠছে, কেন এত ঘন ঘন পরিবর্তন হয় স্বর্ণের দামে ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের বিনিময় হার, স্থানীয় চাহিদা-যোগানসহ নানা কারণে প্রায়ই ওঠানামা করে এই মূল্যবান ধাতুর দাম।
বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশেই স্বর্ণ আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে দেশের বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে। লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট, দুবাই ও সিঙ্গাপুরের বাজারে স্বর্ণের রেট পরিবর্তিত হলে বাংলাদেশেও সমন্বয় করতে হয়।
স্বর্ণ কেনাবেচা হয় মার্কিন ডলারে। ফলে ডলারের দাম বাড়লে আমদানির খরচ বেড়ে যায়, আর কমলে খরচ কমে আসে। এ কারণেই টাকার বিপরীতে ডলারের মান ওঠানামা করলে সরাসরি প্রভাব পড়ে স্বর্ণের বাজারে।
এছাড়া দেশে বিয়ের মৌসুম, উৎসব কিংবা বিনিয়োগকারীদের ঝোঁকের কারণে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেলে দাম বাড়ে। আবার চাহিদা কমলে দামও কিছুটা নেমে আসে।
বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ কিংবা মন্দার সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণ কেনেন। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। তারা আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তন ও ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করে নিয়মিত দাম সমন্বয় করে। এজন্য এক মাসে একাধিকবারও দাম বাড়ানো বা কমানো হয়ে থাকে।
































