ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

দেশের আকাশসীমায় ভারতীয় ড্রোন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:১৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫
  • / 260

দেশের আকাশসীমায় ভারতীয় ড্রোন, পুশইন ঠেকালো বিজিবি-জনতা

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও রৌমারী সীমান্তে একযোগে ৫ টি ড্রোন উড্ডয়ন ও পুশইনের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি ও আনসার বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মানব দেয়াল তৈরি করে রাতভর পাহারা দিয়েছে স্থানীয় জনগণ।

শুক্রবার (৩০ মে) রাত ৭টার দিকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার কেদার ইউনিয়নের শোভারকুটি ও শিপেরহাট সীমান্তে ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলার গোলকগঞ্জ থানার বিএসএফ সদস্যরা পুশইনের চেষ্টা করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএসএফ সদস্যরা দুইটি পিকআপে করে প্রায় ৫০-৬০ জন ভারতীয় নাগরিককে সীমান্ত লাগোয়া ভারতের ফাইসকারকুটি গ্রামের একটি স্কুলে জড়ো করে পুশইনের প্রস্তুতি নেয়। পরে সীমান্ত এলাকার সব আলো নিভিয়ে বাংলাদেশে তাদের পাঠানোর চেষ্টা চালায়।

খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা দ্রুত সীমান্তে গিয়ে মানব দেয়াল গড়ে তোলে এবং রাতভর পাহারা দেয়। একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবির কচাকাটা ও কেদার ক্যাম্প এবং আনসার ভিডিপির সদস্যরা ঘটনাস্থলে কঠোর অবস্থান নেয়। রাত ২টার দিকে বিএসএফ শূন্যরেখায় অবস্থান নেয় এবং বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও বিজিবি তা প্রত্যাখ্যান করে। রাত ৩টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটে।

এদিকে একই রাতে রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী ও বারবান্দা সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় বিএসএফ পাঁচটি ড্রোন বাংলাদেশ আকাশসীমায় উড়ায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ভারতের কাকদোড়িপাড়া বিএসএফ ক্যাম্প থেকে উড্ডয়ন করা ড্রোনগুলো বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে বড়াইবাড়ী ও বারবান্দা গ্রামের আকাশে টহল দেয়। এমনকি বড়াইবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের ওপর দিয়েও ড্রোনগুলো নজরদারি চালায়।

রৌমারী সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়া জানান, ড্রোনগুলো গ্রামের আকাশে দীর্ঘক্ষণ ঘোরাঘুরি করে, এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ২৭ মে ১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে পুশইনের ঘটনার পর থেকেই বিএসএফের তৎপরতা বেড়ে গেছে।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলেও বিজিবির বড়াইবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ফোন রিসিভ করেননি। তবে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, “আমরা ঘটনাটি নিশ্চিত হয়েছি। এটি সীমান্ত আইনবিরোধী কাজ। বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে এর কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে।”

কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহাবুব উল হক জানান, “পুশইন ঠেকাতে বিজিবি, আনসার ও স্থানীয় জনগণ যৌথভাবে পাহারা দিচ্ছে। সীমান্তে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

দেশের আকাশসীমায় ভারতীয় ড্রোন

সর্বশেষ আপডেট ০২:১৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও রৌমারী সীমান্তে একযোগে ৫ টি ড্রোন উড্ডয়ন ও পুশইনের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি ও আনসার বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মানব দেয়াল তৈরি করে রাতভর পাহারা দিয়েছে স্থানীয় জনগণ।

শুক্রবার (৩০ মে) রাত ৭টার দিকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার কেদার ইউনিয়নের শোভারকুটি ও শিপেরহাট সীমান্তে ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলার গোলকগঞ্জ থানার বিএসএফ সদস্যরা পুশইনের চেষ্টা করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএসএফ সদস্যরা দুইটি পিকআপে করে প্রায় ৫০-৬০ জন ভারতীয় নাগরিককে সীমান্ত লাগোয়া ভারতের ফাইসকারকুটি গ্রামের একটি স্কুলে জড়ো করে পুশইনের প্রস্তুতি নেয়। পরে সীমান্ত এলাকার সব আলো নিভিয়ে বাংলাদেশে তাদের পাঠানোর চেষ্টা চালায়।

খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা দ্রুত সীমান্তে গিয়ে মানব দেয়াল গড়ে তোলে এবং রাতভর পাহারা দেয়। একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবির কচাকাটা ও কেদার ক্যাম্প এবং আনসার ভিডিপির সদস্যরা ঘটনাস্থলে কঠোর অবস্থান নেয়। রাত ২টার দিকে বিএসএফ শূন্যরেখায় অবস্থান নেয় এবং বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও বিজিবি তা প্রত্যাখ্যান করে। রাত ৩টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটে।

এদিকে একই রাতে রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী ও বারবান্দা সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় বিএসএফ পাঁচটি ড্রোন বাংলাদেশ আকাশসীমায় উড়ায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ভারতের কাকদোড়িপাড়া বিএসএফ ক্যাম্প থেকে উড্ডয়ন করা ড্রোনগুলো বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে বড়াইবাড়ী ও বারবান্দা গ্রামের আকাশে টহল দেয়। এমনকি বড়াইবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের ওপর দিয়েও ড্রোনগুলো নজরদারি চালায়।

রৌমারী সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়া জানান, ড্রোনগুলো গ্রামের আকাশে দীর্ঘক্ষণ ঘোরাঘুরি করে, এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ২৭ মে ১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে পুশইনের ঘটনার পর থেকেই বিএসএফের তৎপরতা বেড়ে গেছে।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলেও বিজিবির বড়াইবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ফোন রিসিভ করেননি। তবে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, “আমরা ঘটনাটি নিশ্চিত হয়েছি। এটি সীমান্ত আইনবিরোধী কাজ। বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে এর কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে।”

কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহাবুব উল হক জানান, “পুশইন ঠেকাতে বিজিবি, আনসার ও স্থানীয় জনগণ যৌথভাবে পাহারা দিচ্ছে। সীমান্তে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।”