দুদকের চা খাওয়ার বিল ১ লাখ টাকা : হাসনাত
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
- / 249
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করে বলেছেন, ‘দুর্নীতির কোনো অভিযোগ না থাকলেও এর ক্লিয়ারেন্স নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা দিতে হয়।’ অভিযোগের সত্যতা প্রমাণে জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতুর কথা উল্লেখ করেন তিনি।
হাসনাতের দাবি, ডা. মাহমুদা আলম মিতুর কাছ থেকে এই অর্থ চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কয়েকটি কল রেকর্ডও ফাঁস করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) ফেসবুকে ‘স্বাধীন বাংলাদেশে দুদকের চা খাওয়ার বিল ১ লাখ টাকা’ শিরোনামে এক দীর্ঘ পোস্টে দুদকের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তোলেন তিনি।
পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, ‘আপনার নামে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ না থাকলেও তার ক্লিয়ারেন্স নিতে আপনাকে ১ লাখ টাকা দিতে হবে। সম্প্রতি মাহমুদা মিতুর কাছ থেকে এই টাকা চাওয়া হয়েছে দুদকের ডিজি আকতার এবং তার ডিডি পরিচয়ে। মাহমুদা মিতুকে বলা হয়—আপনি একজন ডাক্তার, আপনার তো টাকা-পয়সার অভাব থাকার কথা না, আপনি এক লাখ টাকা দিয়ে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে যান।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আকতার আবার ফোন দিয়ে জানতে চায়—টাকা দেবেন কি না? টাকা না দিলে নাকি “খবর করে ছেড়ে” দেওয়া হবে। আওয়ামী আমলের কর্মকর্তাদের নাম বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, রেড ক্রিসেন্টে মাহমুদা মিতু যোগ দিয়েছেন ৫ আগস্টের পরে। দুদক এখন তদন্ত করছে আওয়ামী লীগের সময়কার দুর্নীতি নিয়ে। অথচ হাস্যকরভাবে সেই সময়ের কর্মকর্তাদের নাম বাদ দিয়ে এখনকার লোকজনের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এখানে বড় অংকের টাকার লেনদেনের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু না করাদের কাছ থেকে যদি এক লাখ টাকা করে নেওয়া হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতিবাজদের কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে?’
হাসনাতের অভিযোগ, দুদকের এ ধরনের কাজ এই প্রথম নয়।
এনসিপির এই নেতা আরও লিখেছেন, ‘হাসিনার আমলে খালেদা জিয়াসহ বিরোধী দলের বহু নেতাকে এরা হয়রানি করেছে। অথচ আওয়ামী লীগের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি নিয়ে এরা কিছুই বলেনি। আমরা আশা করেছিলাম, ৫ আগস্টের পর এদের মধ্যে পরিবর্তন আসবে। কিন্তু আসেনি। বরং এখন তারা চা খাওয়ার জন্য ১ লাখ টাকা করে দাবি করছে। মাহমুদা মিতু সাহস করে ভিডিও করে রেখেছেন। অন্যায় ঘুষ দেননি। কিন্তু কত সাধারণ মানুষ যে এদের এই “চায়ের বিল” দিতে বাধ্য হয়েছে, তার হিসাব নেই।’
কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়ে হাসনাত লিখেছেন, ‘আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। মাহমুদা মিতু কেন, যদি আমার নামেও এক পয়সা দুর্নীতির অভিযোগ থাকে, সেটা মানুষের সামনে প্রকাশ করে দিন। কাউকে ফোন করার দরকার নেই। দুর্নীতি পেলেই মামলা করুন, আইনের হাতে তুলে দিন। তা না করে নিরীহ মানুষদের কাছে চাঁদাবাজি কেন করছেন? কেন চায়ের বিল চান? কেন টাকা না দিলে হুমকি দেন? ফ্যাসিবাদের পতনের পর আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চাই।’
দুদকের দুর্নীতির বিচার দাবি করে হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, ‘হাসিনার রেখে যাওয়া দুর্নীতির পথে যেন আর কেউ না যেতে পারে, সে জন্য দুদককেও আমরা নতুন রূপে দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নতুন বাংলাদেশেও দুদক সেই পুরনো পথেই হাঁটা শুরু করেছে। আমলাতন্ত্র আবারও বিষদাঁত নিয়ে কামড় বসাতে হাজির হয়েছে। এই বিষদাঁত ভাঙতে না পারলে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন হেরে যাবে, আমরাও হেরে যাব। আমরা দুদকের এই দুর্নীতির বিচার চাই। আমলাদের এক লাখ টাকার চা খাওয়ানোর জন্যই কি জুলাইতে বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়েছিল?’
































