ঢাকা ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি কৌশল: অফশোর ড্রিলিং ও দেশীয় কয়লা ব্যবহারের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:১৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 35

কয়লা

বাংলাদেশ সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশল প্রণয়ন করেছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থানীয় উৎপাদনকে শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখবে। পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ উৎসগুলোকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারী) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “সম্প্রতি একটি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে সমন্বিতভাবে উন্নত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে আমাদের নিজস্ব অফশোর ড্রিলিং উদ্যোগ এবং দেশীয় কয়লা সম্পদের ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি আমরা জ্বালানি নিশ্চিত করতে না পারি, তবে স্থানীয় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই কৌশলটি শুধু নতুন উৎস আবিষ্কার বা ব্যবহার নয়, বরং বিদ্যমান সম্পদকে একটি একক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।”

ড. সালেহউদ্দিন জানান, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়, দক্ষ জনবল এবং প্রতিশ্রুতির ঘাটতি কৌশল বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, “সবকিছু সম্পন্ন হয়েছে বা শতভাগ অর্জন করা হয়েছে—এমন দাবি করা যাবে না। তবে পরিকল্পনার আওতায় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

অর্থ উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা তৈরি করা।

তিনি বলেন, “উচ্চ মূল্যস্ফীতি কেবল নীতিগত সুদের হারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এটি সরবরাহ ব্যবস্থা, বাজারের গতিশীলতা, জনগণের আচরণ এবং রাজনৈতিক সুশাসনের সঙ্গে যুক্ত। একইভাবে জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও সমন্বয় ও কার্যকর নীতির ওপর নির্ভরশীল।”

ড. সালেহউদ্দিন আরও উল্লেখ করেন, চলমান সিলিন্ডার গ্যাস সংকটের জন্য ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং জনগণের দুর্ভোগ কমানো বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, “এখন আমাদের প্রচেষ্টা জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং জ্বালানি ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি কৌশল: অফশোর ড্রিলিং ও দেশীয় কয়লা ব্যবহারের পরিকল্পনা

সর্বশেষ আপডেট ১০:১৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশল প্রণয়ন করেছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থানীয় উৎপাদনকে শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখবে। পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ উৎসগুলোকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারী) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “সম্প্রতি একটি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে সমন্বিতভাবে উন্নত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে আমাদের নিজস্ব অফশোর ড্রিলিং উদ্যোগ এবং দেশীয় কয়লা সম্পদের ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি আমরা জ্বালানি নিশ্চিত করতে না পারি, তবে স্থানীয় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই কৌশলটি শুধু নতুন উৎস আবিষ্কার বা ব্যবহার নয়, বরং বিদ্যমান সম্পদকে একটি একক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।”

ড. সালেহউদ্দিন জানান, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়, দক্ষ জনবল এবং প্রতিশ্রুতির ঘাটতি কৌশল বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, “সবকিছু সম্পন্ন হয়েছে বা শতভাগ অর্জন করা হয়েছে—এমন দাবি করা যাবে না। তবে পরিকল্পনার আওতায় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

অর্থ উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা তৈরি করা।

তিনি বলেন, “উচ্চ মূল্যস্ফীতি কেবল নীতিগত সুদের হারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এটি সরবরাহ ব্যবস্থা, বাজারের গতিশীলতা, জনগণের আচরণ এবং রাজনৈতিক সুশাসনের সঙ্গে যুক্ত। একইভাবে জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও সমন্বয় ও কার্যকর নীতির ওপর নির্ভরশীল।”

ড. সালেহউদ্দিন আরও উল্লেখ করেন, চলমান সিলিন্ডার গ্যাস সংকটের জন্য ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং জনগণের দুর্ভোগ কমানো বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, “এখন আমাদের প্রচেষ্টা জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং জ্বালানি ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে।”