ঢাকা ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দীঘিনালায় সার ডিলার নিয়োগে রাউজানের বাসিন্দার পুনর্বহালে আপত্তি

প্রমোদ কুমার মুৎসুদ্দী, দিঘীনালা (খাগড়াছড়ি)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • / 147

দীঘিনালায় সার ডিলার নিয়োগে রাউজানের বাসিন্দার পুনর্বহালে আপত্তি

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সার ডিলার নিয়োগ–সংক্রান্ত কোর সভা টানা দুই দিন (২৫ ও ২৬ নভেম্বর) স্থগিত হয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আপত্তির কারণে। জানা গেছে, ২৭ নভেম্বর পুনরায় সভাটি আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বোয়ালখালী, কবাখালী ও বাবুছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা অভিযোগ তোলেন—বোয়ালখালী ইউনিয়নের বর্তমান সার ডিলার মোহাম্মদ লোকমান মূলত চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম থেকেই ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান ও সার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগও এর আগে একাধিকবার উঠেছে এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ইস্পাহানিটি লিমিটেডের চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবস্থাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা যায়।

২০২৩ সালে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র স্থানান্তর করে নিজেকে দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা হিসেবে নিবন্ধিত করান। এনআইডিতে উল্লেখ করা হয়েছে—তিনি পাঁচ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, লোকমান বাস্তবে দীঘিনালা বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে মাসে ৪–৫ দিন থাকার ব্যবস্থা করেন মাত্র। হোটেল কর্তৃপক্ষও তাঁর এমন অনিয়মিত অবস্থানের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয় দেখাতে না পারায় তিনি কল্পরঞ্জন মাঠ এলাকায় প্রায় সত্তর লাখ টাকায় জমি কেনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। হেডম্যানের প্রত্যয়ন ও স্থানীয় সনদ না থাকায় জমি ক্রয় সম্ভব হয়নি।

‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা–২০২৫’-এর ১.৪ ধারায় বলা আছে—ডিলার নিয়োগে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন। এরপর পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন, তারপর সংশ্লিষ্ট উপজেলা এবং সর্বশেষ জেলা। জেলা–বহির্ভূত কাউকে নিয়োগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ—এ নীতিমালা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে রাউজানের বাসিন্দাকে বহাল রাখার চেষ্টা চলছে।

কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞানো চাকমা বলেন, “স্থানীয় বাসিন্দাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। চট্টগ্রামের একজন ব্যক্তি কীভাবে সার ডিলারের দায়িত্ব ধরে রাখেন—এটি অনুধাবন করা কঠিন।”

বাবুছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমা বলেন, “দীঘিনালার বাসিন্দাদের যোগ্যতা বিচার করার আগেই বাইরের জেলার একজনকে সুবিধা দেওয়া নীতিমালার পরিপন্থী। বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় বাতিল করা উচিত।”

সভায় উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা সার্বিক বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দীঘিনালায় সার ডিলার নিয়োগে রাউজানের বাসিন্দার পুনর্বহালে আপত্তি

সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সার ডিলার নিয়োগ–সংক্রান্ত কোর সভা টানা দুই দিন (২৫ ও ২৬ নভেম্বর) স্থগিত হয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আপত্তির কারণে। জানা গেছে, ২৭ নভেম্বর পুনরায় সভাটি আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বোয়ালখালী, কবাখালী ও বাবুছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা অভিযোগ তোলেন—বোয়ালখালী ইউনিয়নের বর্তমান সার ডিলার মোহাম্মদ লোকমান মূলত চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম থেকেই ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান ও সার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগও এর আগে একাধিকবার উঠেছে এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ইস্পাহানিটি লিমিটেডের চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবস্থাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা যায়।

২০২৩ সালে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র স্থানান্তর করে নিজেকে দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা হিসেবে নিবন্ধিত করান। এনআইডিতে উল্লেখ করা হয়েছে—তিনি পাঁচ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, লোকমান বাস্তবে দীঘিনালা বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে মাসে ৪–৫ দিন থাকার ব্যবস্থা করেন মাত্র। হোটেল কর্তৃপক্ষও তাঁর এমন অনিয়মিত অবস্থানের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয় দেখাতে না পারায় তিনি কল্পরঞ্জন মাঠ এলাকায় প্রায় সত্তর লাখ টাকায় জমি কেনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। হেডম্যানের প্রত্যয়ন ও স্থানীয় সনদ না থাকায় জমি ক্রয় সম্ভব হয়নি।

‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা–২০২৫’-এর ১.৪ ধারায় বলা আছে—ডিলার নিয়োগে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন। এরপর পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন, তারপর সংশ্লিষ্ট উপজেলা এবং সর্বশেষ জেলা। জেলা–বহির্ভূত কাউকে নিয়োগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ—এ নীতিমালা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে রাউজানের বাসিন্দাকে বহাল রাখার চেষ্টা চলছে।

কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞানো চাকমা বলেন, “স্থানীয় বাসিন্দাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। চট্টগ্রামের একজন ব্যক্তি কীভাবে সার ডিলারের দায়িত্ব ধরে রাখেন—এটি অনুধাবন করা কঠিন।”

বাবুছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমা বলেন, “দীঘিনালার বাসিন্দাদের যোগ্যতা বিচার করার আগেই বাইরের জেলার একজনকে সুবিধা দেওয়া নীতিমালার পরিপন্থী। বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় বাতিল করা উচিত।”

সভায় উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা সার্বিক বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।