দিল্লিতে বিপাকে বাংলাদেশের কিংবদন্তী রাণী হামিদ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫
- / 225
৮২ বছর বয়সেও বিশ্বমঞ্চে দাবা খেলতে ছুটে বেড়ানো বাংলাদেশি কিংবদন্তী রাণী হামিদ এবার দিল্লির একটি গ্র্যান্ডমাস্টার দাবা টুর্নামেন্টে অংশ নিতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনার মুখে পড়েছেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে যাওয়া তরুণ দাবাড়ু আছিয়া সুলতানাকে ভারতের ইমিগ্রেশন ঢুকতে দেয়নি, বরং ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশে।
ঈদের ঠিক আগের দিন রাণী হামিদ ও আছিয়া দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাণী হামিদ প্রবেশ করলেও আছিয়াকে বিমানবন্দরেই আটকে রাখা হয়। ঈদের দিন সকালে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। আছিয়া জানান, দুজনেই সার্ক ভিসা নিয়ে ভারত যান। কিন্তু ভারতীয় ইমিগ্রেশন তাকে জানায়, অতীতে তিনি মেডিকেল ভিসায় ভারতে গিয়ে দাবা খেলেছেন, যা তাদের মতে নিয়মবহির্ভূত।
আছিয়া বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমি তখন কাশ্মিরে একটি টুর্নামেন্ট খেলি এবং একই সফরে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে ডাক্তার অনুপস্থিত থাকায় আমি চিকিৎসা না নিয়ে ফিরে আসি।” ভারতের দাবা সংশ্লিষ্ট অনেকেই আছিয়ার অবস্থানকে সমর্থন করে ইমিগ্রেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, এমনকি জরিমানা দেওয়ার প্রস্তাবও দেন, তবুও তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এই পরিস্থিতিতে রাণী হামিদ পড়েন বিপাকে। উচ্চ বয়সের কারণে তিনি একা ভ্রমণ করতে পারেন না এবং আছিয়া না থাকায় তাকে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা, লাগেজ সংগ্রহসহ নানা কাজে অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয়। আছিয়ার অনুপস্থিতিতে তার মুম্বাইয়ের পরবর্তী টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
রাণী হামিদের ছেলে, সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদ জানান, “আম্মার একা থাকা খুব কষ্টকর। আছিয়া তার জন্য অনেক কিছু করতো। এখন আম্মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, খেলাতেও মনোযোগ দিতে পারছেন না।”
রাণী হামিদ উপমহাদেশের এক অনন্য দাবাড়ু, যিনি শুধু বাংলাদেশেরই নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার দাবা অঙ্গনে অনুপ্রেরণার প্রতীক। বিভিন্ন দেশ তাকে দাবার দূত হিসেবে আমন্ত্রণ জানায়। ভারতের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এই ঘটনায় গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।































