ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দিনের আলো ও ঘুম কীভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে

ইব্রাহীম ওয়ালিদ
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 58

সংগৃহীত ছবি

বর্তমান শহুরে জীবনে কৃত্রিম আলোর মধ্যেই কাটছে মানুষের বেশিরভাগ সময়। অনেকের ক্ষেত্রেই দিনের প্রাকৃতিক আলো পাওয়াই কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রতিদিন কিছুটা সময় প্রাকৃতিক দিনের আলোতে কাটানো শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী—বিশেষ করে টাইপ–২ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয় (ইউনিজ) এবং নেদারল্যান্ডসের গবেষকদের যৌথ এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের প্রাকৃতিক আলো টাইপ–২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি দেহের বিপাকীয় কার্যক্রম এবং জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান চক্রকে সঠিকভাবে সমন্বয় করতে সাহায্য করে, যা ঘুমের মান উন্নত করে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, যারা নিয়মিত প্রাকৃতিক আলোতে সময় কাটান, তাদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা সাধারণত স্বাভাবিক সীমার মধ্যে থাকে এবং শর্করার ওঠানামাও তুলনামূলকভাবে কম হয়। পাশাপাশি সন্ধ্যার দিকে তাদের শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের মাত্রা বেশি দেখা যায়, যা ঘুমের জন্য সহায়ক।

এ ছাড়া প্রাকৃতিক আলো শরীরের চর্বি কমানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বা ফ্যাট অক্সিডেটিভ মেটাবলিজম উন্নত করতেও ভূমিকা রাখে। ‘সেল মেটাবলিজম’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণাকে টাইপ–২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ওপর প্রাকৃতিক আলোর ইতিবাচক প্রভাবের প্রথম বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউনিজের সহযোগী অধ্যাপক চার্না ডিবনার বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই জানা গেছে যে দেহের সার্কাডিয়ান চক্র বা অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ির ব্যাঘাত বিপাকীয় রোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষণার অংশ হিসেবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী টাইপ–২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ১৩ জন স্বেচ্ছাসেবীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রথম পর্যায়ে চার দিনের বেশি সময় ধরে তাদের এমন একটি কক্ষে রাখা হয়, যেখানে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করত। এরপর চার সপ্তাহ বিরতির পর দ্বিতীয় পর্যায়ে একই স্বেচ্ছাসেবীদের কৃত্রিম আলোর পরিবেশে রাখা হয়।

এই সময় গবেষকরা স্বেচ্ছাসেবীদের রক্ত ও পেশির নমুনা সংগ্রহ করে বিপাকীয় পরিবর্তন, জিনের কার্যক্রম এবং দেহের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় দেখা যায়, আলোর ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সার্কাডিয়ান চক্র ও বিপাকীয় কার্যক্রমেও স্পষ্ট পরিবর্তন ঘটে।

বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়, যারা প্রাকৃতিক আলোর পরিবেশে ছিলেন, তাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং সামগ্রিক শারীরিক কার্যক্রমও তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দিনের আলো ও ঘুম কীভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে

সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

বর্তমান শহুরে জীবনে কৃত্রিম আলোর মধ্যেই কাটছে মানুষের বেশিরভাগ সময়। অনেকের ক্ষেত্রেই দিনের প্রাকৃতিক আলো পাওয়াই কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রতিদিন কিছুটা সময় প্রাকৃতিক দিনের আলোতে কাটানো শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী—বিশেষ করে টাইপ–২ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয় (ইউনিজ) এবং নেদারল্যান্ডসের গবেষকদের যৌথ এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের প্রাকৃতিক আলো টাইপ–২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি দেহের বিপাকীয় কার্যক্রম এবং জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান চক্রকে সঠিকভাবে সমন্বয় করতে সাহায্য করে, যা ঘুমের মান উন্নত করে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, যারা নিয়মিত প্রাকৃতিক আলোতে সময় কাটান, তাদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা সাধারণত স্বাভাবিক সীমার মধ্যে থাকে এবং শর্করার ওঠানামাও তুলনামূলকভাবে কম হয়। পাশাপাশি সন্ধ্যার দিকে তাদের শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের মাত্রা বেশি দেখা যায়, যা ঘুমের জন্য সহায়ক।

এ ছাড়া প্রাকৃতিক আলো শরীরের চর্বি কমানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বা ফ্যাট অক্সিডেটিভ মেটাবলিজম উন্নত করতেও ভূমিকা রাখে। ‘সেল মেটাবলিজম’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণাকে টাইপ–২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ওপর প্রাকৃতিক আলোর ইতিবাচক প্রভাবের প্রথম বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউনিজের সহযোগী অধ্যাপক চার্না ডিবনার বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই জানা গেছে যে দেহের সার্কাডিয়ান চক্র বা অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ির ব্যাঘাত বিপাকীয় রোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষণার অংশ হিসেবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী টাইপ–২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ১৩ জন স্বেচ্ছাসেবীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রথম পর্যায়ে চার দিনের বেশি সময় ধরে তাদের এমন একটি কক্ষে রাখা হয়, যেখানে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করত। এরপর চার সপ্তাহ বিরতির পর দ্বিতীয় পর্যায়ে একই স্বেচ্ছাসেবীদের কৃত্রিম আলোর পরিবেশে রাখা হয়।

এই সময় গবেষকরা স্বেচ্ছাসেবীদের রক্ত ও পেশির নমুনা সংগ্রহ করে বিপাকীয় পরিবর্তন, জিনের কার্যক্রম এবং দেহের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় দেখা যায়, আলোর ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সার্কাডিয়ান চক্র ও বিপাকীয় কার্যক্রমেও স্পষ্ট পরিবর্তন ঘটে।

বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়, যারা প্রাকৃতিক আলোর পরিবেশে ছিলেন, তাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং সামগ্রিক শারীরিক কার্যক্রমও তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল।