উপদেষ্টা ফরিদা আখতার
`দাদু’ বইটির নাম ’শেকড়’ হলে যুক্তিযুক্ত হতো
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 23
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ‘দাদু’ বইটি লেখকের ব্যক্তিগত জীবনবোধের মধ্যে আর সীমাবদ্ধ নেই। এটি একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থে রূপান্তরিত হয়েছে। দেশবিভাগ কিভাবে মানুষের হৃদয়ে ক্ষত তৈরি করে, মানুষের জীবনকে তছনছ করে দিতে পারে। দেশান্তর হওয়ার পরও তাঁর শেকড়ে ফেরা ইত্যাদি বিষয়গুলো উঠে এসেছে। লেখক ডনা দিলরুবা আখতার বইয়ের নাম দিয়েছেন ‘দাদু’। কিন্তু বইটি’র নাম ‘দাদু’ না হয় ‘শেকড়’ হলে যুক্তিযুক্ত হতো।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানী মোহাম্মদপুরে চন্দ্রিমা মডেল টাউনে যুক্ত প্রকাশনীর ডনা দিলরুবা আখতারের ‘দাদু’ গ্রন্থের বইবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার একথা বলেন। আবৃত্তিকার জয়ন্ত রায়ের সঞ্চালনায় প্রথম পর্বে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এছাড়াও বক্তব্য দেন যুক্ত এর প্রকাশক নিশাত জাহান রানা, গ্রন্থের লেখক ডনা দিলরুবা আখতার।
দ্বিতীয় পর্বে কবি ফিরোজ আহমেদ এর সঞ্চালনায় ‘দাদু’ বইয়ের দাদুর ব্যক্তিত্ব, নানীর ব্যক্তিত্ব থেকে কিছু অংশ পাঠ করে শোনান আবৃত্তিকার জয়ন্ত রায়। স্মৃতিচারণ করেন পারভীন মাহমুদ। বইটি আলোচনা করেন নাহিদ। কবিতা আবৃত্তি করেন কবি ফারুক আজম এবং স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন কবি হেলেনা কাদির। সুতপা সুচরিতা ‘দাদু’র প্রিয় দুটি রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাই নি তোমায়’ এবং ‘যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে’ পরিবেশন করেন।
ফরিদা আখতার বলেন, বইয়ে দাদু-নাতনির মিষ্টি সম্পর্ক উঠে এসেছে। যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডনা তার মায়ের কথা বলতে গিয়ে অনেক কথা তুলে এনেছেন।
ডনার সাথে কাটানো একটি মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানান, ডনার আর তিনি একবার কয়েকদিনের জন্য টাঙ্গাইলে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তারা দুই বন্ধু সেসময়ে মাকে হারিয়েছেন। মায়ের জন্য দুই বন্ধু একসাথে কেঁদেছেন। ওই কান্নাটা তাদের খুবই আবেগপ্রবণ ছিল। ডনা তার মায়ের কথা, তিনি তার মায়ের কথা বলে অনেকটা হালকা হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ডনার মতো আমি কেনো আমার মায়ের কথা লিখে রাখিনি। আম্মার এতো কথা বলার ছিলো, যা আমাকে এখন লিখতে হবে। আমি চট্টগ্রামের মেয়ে। আমাদের অঞ্চলের সাথে আরাকানের একটি সম্পর্ক রয়েছে। আমার দাদা আরাকানে ব্যবসা করতেন। মায়ের যে পর্যবেক্ষণ ছিলো, ছেলেবেলায় আমরা তা শুনে হাসতাম, মজা করতাম। কিন্তু লিখে রাখিনি। ডনা আমাকে শিখিয়ে দিলো এই লিখে রাখাটা কত বড় কাজ।
তিনি লেখককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ডনা শুধু দাদুর প্রতি নয়, মায়ের প্রতিও একটি বড় দায়িত্ব পালন করেছেন। আজকে আমরা যেখানে আছি এটা প্রত্যেক বাবা-মায়েরই অবদান। এটা আমাদেরকে সব সময় মনে রাখতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ডনা দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করছেন। কিন্তু তিনি বইটি ইংরেজিতে না লিখে ঝরঝরে বাংলায় লিখেছেন। বইটি সাবলীল ভাষায় লিখেছেন। বইটি পড়ে মনে হয়েছে, ভাষাটা ওর ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে।
লেখক ডনা দিলরুবা আখতার বলেন, বইটি লিখতে পারবো এটা কখনো আশা করিনি। ফেসবুকে একটি পেজ খুলি বন্ধুরা নিজের মনের ভাব প্রকাশ করবো এই ভেবে। আমার প্রিয় বন্ধু মামণি। মানে আমার মা। কি লিখছি মামণিকে পড়ে শোনাতাম। মামণির স্ট্রোক হওয়ায় তার কথা অস্পষ্ট হয়ে গেছিল। মামণিকে পুরনো দিনের গল্প বলতে বলার মাধ্যমে স্পিচ থেরাপি দিতাম। মামণি বলতো, আর আমি তা লিখে রাখতাম। এভাবে স্পিচ থেরাপি দেওয়ার মাধ্যমে মামণি আমাকে অমূল্য সম্পদ দেন। ভারত ছাড়ার পর পূর্ব পাকিস্তানে এসে আমাদের বেঁচে থাকার যে সংগ্রাম করতে হয়েছে তা এই বইতে উঠে এসেছে জানালেন লেখক।
নিশাত জাহান রানা বলেন, লেখক প্রবাসী। তিনি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে লন্ডনে বসবাস করছেন। তিনি কখনো কখনো বইটি লিখতে গিয়ে গুগলের অভিধানের সাহায্য নিয়েছেন ইংরেজি শব্দকে বাংলা শব্দে রূপান্তরিত করতে। যে শব্দগুলো অনেকটা বুঝতে পারছিলাম না। লেখকের সাথে এই শব্দগুলো নিয়ে বার বার আলোচনা করতে হয়েছে। অবশেষে বইটি প্রকাশ করতে পেরেছি।






































