বাড়িভাড়া হয়নি
দশ হাজারের বেশি হজযাত্রী অনিশ্চয়তায়
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:২৭:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫
- / 130
হজ মৌসুম ঘনিয়ে এলেও এখনও মক্কা ও মদিনায় ১০ হাজার ৪৮৭ জন হজযাত্রীর আবাসনের ব্যবস্থা চূড়ান্ত হয়নি। এর ফলে এই বিপুল সংখ্যক যাত্রীর হজ কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “মক্কায় ৭ হাজার ২৭৪ ও মদিনায় ৩ হাজার ২১৩ জন হজযাত্রীর বাড়িভাড়া এখনও নিশ্চিত হয়নি। নুসুক মাসার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এখনো অনেক এজেন্সি বাড়িভাড়ার অনুরোধই জমা দেয়নি।”
তিনি জানান, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে নিবন্ধিত ৮১ হাজার ৯০০ জনের মধ্যে মক্কায় ৭৪ হাজার ৬২৬ জন ও মদিনায় ৭৮ হাজার ৬৮৭ জন হজযাত্রীর বাড়িভাড়া নিশ্চিত হয়েছে। বাকিরা এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
তাগিদ সত্ত্বেও গাফিলতি
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “হজ এজেন্সিগুলোকে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও এখনো কিছু সংস্থা বাড়িভাড়ার অনুরোধ সাবমিট করেনি। এজন্য আমরা কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। আগে এমন এজেন্সির সংখ্যা ছিল ২১টি, যা এখন কমে ৯টিতে নেমে এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৮ এপ্রিলের মধ্যে হজযাত্রীদের ভিসা প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। বাড়িভাড়া চূড়ান্ত না হলে ভিসাও জটিলতায় পড়বে।

এজেন্সির অবহেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হজযাত্রী হলে কঠোর ব্যবস্থা
ধর্ম উপদেষ্টা কড়া ভাষায় বলেন, “হজযাত্রায় ব্যর্থ হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকেই নিতে হবে। কারও অবহেলায় একজন হজযাত্রীও হজ করতে না পারলে তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই দায় মন্ত্রণালয় কোনোভাবেই নেবে না।”
সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতি সম্পন্ন
সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধিত ৫ হাজার ২০০ হজযাত্রীর জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। মিনায় তাঁবু, ক্যাটারিং, আবাসন ও পরিবহন—সব কিছুর চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়াও চলছে। ফ্লাইট শিডিউল অনুযায়ী আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে হজযাত্রীরা সৌদি আরব রওনা হবেন।
সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে সৌদি সরকারের নিষেধাজ্ঞা
উপদেষ্টা বলেন, “সৌদি সরকার ২৫ মার্চের মধ্যে বাড়িভাড়া ও পরিবহন চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছিল। সেই সময়সীমা পার হওয়ার পরও অনেক এজেন্সি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। শেষ পর্যন্ত ৫ এপ্রিল প্ল্যাটফর্ম আবার খুলে দেওয়া হয়েছে, তবে তা যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”
তিনি জানান, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ধর্ম মন্ত্রণালয়, হজ অফিস ও এজেন্সিগুলোর সঙ্গে একাধিক ভার্চুয়াল সভা হয়েছে। এসব সভায় বারবার অনুরোধ জানানো হয়েছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়িভাড়া ও পরিবহন চুক্তি সম্পন্ন করতে।































