পরিবেশ সংকট মোকাবেলায়
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ঐক্যের আহ্বান রিজওয়ানা হাসানের
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
- / 59
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, পরিবেশগত সংকট কোনো দেশের সীমানা মানে না। তাই আঞ্চলিক আস্থা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নিয়মিত সংলাপের ভিত্তিতে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সচিবালয়ে দক্ষিণ এশীয় পরিবেশ কর্মসূচির (সাকেপ) মহাপরিচালক নরবু ওয়াংচুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই মত প্রকাশ করেন। বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সীমান্তবর্তী পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আঞ্চলিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, সীমান্ত অতিক্রমকারী বায়ুদূষণ, নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা, প্লাস্টিক বর্জ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং সুন্দরবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ব্যবস্থার সুরক্ষা—এসব সমস্যা দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর জন্য অভিন্ন। তাই সাকেপের মতো প্ল্যাটফর্ম এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় আঞ্চলিক কাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে।
ওয়াংচুক জানান, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জলবায়ু অভিযোজন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বায়ুগুণমান উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে সাকেপ-এর চলমান কর্মসূচি এগিয়ে চলছে। তিনি বাংলাদেশের পরিবেশ নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং যৌথ প্রকল্প, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দাতা তহবিল ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
রিজওয়ানা হাসান বাংলাদেশ ও সাকেপের মধ্যে জলবায়ু অভিযোজন, বায়ুমান ব্যবস্থাপনা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নতুন ও গভীরতর যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক পরিবর্তন যাই হোক, পরিবেশকে সবসময় নীতি অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে রাখতে হবে।
বৈঠকে সাকেপ মহাপরিচালক সংস্থার প্রশাসনিক কার্যক্রম, আগামীর গভর্নিং কাউন্সিল বৈঠক এবং বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও কর্মসূচিগত সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বায়ুমান কর্মসূচিসহ ভবিষ্যৎ বিভিন্ন উদ্যোগে নেতৃত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান।
রিজওয়ানা হাসান সাকেপের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দক্ষিণ এশীয় পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদার হলে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মানুষ বাস্তব উপকার পাবে।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশের জাতীয় পরিবেশ ও জলবায়ু অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন সহযোগিতা সম্ভাবনা অনুসন্ধান ও সমন্বয়কে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে সম্মত হয়। বৈঠকে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহানা আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
































