ঢাকা ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

থ্রি জিরো অর্জনে মুসলিম বিশ্ব নেতাদের পাশে চান রিজওয়ানা

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:১০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
  • / 216

উপদেষ্টা রিজওয়ানা (পুরনো ছবি)

শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ—এই তিন ‘শূন্য’ অর্জনে আন্তরিক সামাজিক দায়িত্ব ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মুসলিম বিশ্বের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

রাজধানীর গুলশানে ‘আন্তর্জাতিক সামাজিক ব্যবসা সম্মেলন (আইএসবিএস) ২০২৫: মুসলিম বিশ্বের তিনটি শূন্য (থ্রি জিরো) অর্জনে এনজিও নেতৃত্ব’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “মূল্যবোধ নিয়ে আমরা কথা বলি, কিন্তু বাস্তবে তা প্রয়োগ করি না—এটাই মূল সমস্যা। প্রকৃত পরিবর্তন তখনই আসে, যখন নৈতিক আদর্শ বাস্তবে কাজে লাগানো হয়।”

তিনি সতর্ক করেন, “আধুনিক পুঁজিবাদ সমাজ ও প্রকৃতির ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। এখনই অর্থনৈতিক মডেল পরিবর্তন না করলে শতকের শেষে অনেক দেশ পানির নিচে চলে যাবে।”

অতিরিক্ত ভোগের প্রবণতার সমালোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, “প্রয়োজন ও অতিরিক্ত চাহিদার পার্থক্য বুঝতে শিখতে হবে। আমাদের যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, চিরতরে।”

ইসলামের নৈতিক শিক্ষা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ইসলাম কেবল কথার ধর্ম নয়—এটি বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং মানবকল্যাণে কাজ করতে বলে। দুঃখজনকভাবে, ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন মানবিক সংকটে মুসলিম বিশ্ব এক কণ্ঠে কথা বলে না। নৈতিক সাহস ছাড়া ভ্রাতৃত্ববোধ মূল্যহীন।”

তিনি যাকাত ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, “যাকাত একটি প্রমাণিত সামাজিক অর্থনৈতিক মডেল। কর যেমন রাষ্ট্র নেয় গরিবদের কল্যাণে ব্যয় করার কথা বলে, বাস্তবে সেই অর্থ চলে যায় বড় বড় প্রকল্পে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উপকারে আসে না।”

সবশেষে তিনি বলেন, “ঘৃণা নয়, বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করাই মানবতার পথ। সহমর্মিতা থেকে কথা বলতে হবে—সব সম্প্রদায়কে মূল্য দিতে শিখতে হবে।”

এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী প্রফেসর ড. হালিস ইউনুস এরসোজ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী, ইউএনআইডব্লিউ-এর মহাসচিব ইউপ আকমাল, সওয়াব-এর চেয়ারম্যান এস এম রাশেদুজ্জামান, বিআইআইটি-এর মহাপরিচালক ড. এম আবদুল আজিজ এবং কৃষিবিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আলী আফজাল।

এই সম্মেলন ছিল এক মানবিক এবং আদর্শনির্ভর অর্থনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান—যেখানে মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে ভবিষ্যৎ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

থ্রি জিরো অর্জনে মুসলিম বিশ্ব নেতাদের পাশে চান রিজওয়ানা

সর্বশেষ আপডেট ০৩:১০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫

শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ—এই তিন ‘শূন্য’ অর্জনে আন্তরিক সামাজিক দায়িত্ব ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মুসলিম বিশ্বের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

রাজধানীর গুলশানে ‘আন্তর্জাতিক সামাজিক ব্যবসা সম্মেলন (আইএসবিএস) ২০২৫: মুসলিম বিশ্বের তিনটি শূন্য (থ্রি জিরো) অর্জনে এনজিও নেতৃত্ব’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “মূল্যবোধ নিয়ে আমরা কথা বলি, কিন্তু বাস্তবে তা প্রয়োগ করি না—এটাই মূল সমস্যা। প্রকৃত পরিবর্তন তখনই আসে, যখন নৈতিক আদর্শ বাস্তবে কাজে লাগানো হয়।”

তিনি সতর্ক করেন, “আধুনিক পুঁজিবাদ সমাজ ও প্রকৃতির ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। এখনই অর্থনৈতিক মডেল পরিবর্তন না করলে শতকের শেষে অনেক দেশ পানির নিচে চলে যাবে।”

অতিরিক্ত ভোগের প্রবণতার সমালোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, “প্রয়োজন ও অতিরিক্ত চাহিদার পার্থক্য বুঝতে শিখতে হবে। আমাদের যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, চিরতরে।”

ইসলামের নৈতিক শিক্ষা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ইসলাম কেবল কথার ধর্ম নয়—এটি বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং মানবকল্যাণে কাজ করতে বলে। দুঃখজনকভাবে, ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন মানবিক সংকটে মুসলিম বিশ্ব এক কণ্ঠে কথা বলে না। নৈতিক সাহস ছাড়া ভ্রাতৃত্ববোধ মূল্যহীন।”

তিনি যাকাত ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, “যাকাত একটি প্রমাণিত সামাজিক অর্থনৈতিক মডেল। কর যেমন রাষ্ট্র নেয় গরিবদের কল্যাণে ব্যয় করার কথা বলে, বাস্তবে সেই অর্থ চলে যায় বড় বড় প্রকল্পে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উপকারে আসে না।”

সবশেষে তিনি বলেন, “ঘৃণা নয়, বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করাই মানবতার পথ। সহমর্মিতা থেকে কথা বলতে হবে—সব সম্প্রদায়কে মূল্য দিতে শিখতে হবে।”

এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী প্রফেসর ড. হালিস ইউনুস এরসোজ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী, ইউএনআইডব্লিউ-এর মহাসচিব ইউপ আকমাল, সওয়াব-এর চেয়ারম্যান এস এম রাশেদুজ্জামান, বিআইআইটি-এর মহাপরিচালক ড. এম আবদুল আজিজ এবং কৃষিবিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আলী আফজাল।

এই সম্মেলন ছিল এক মানবিক এবং আদর্শনির্ভর অর্থনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান—যেখানে মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে ভবিষ্যৎ।