রৌমারীতে ট্রিপল মার্ডার ঘটনায় থানা ঘেরাও
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
- / 141
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন নিহতদের স্বজনসহ বিক্ষুব্ধ জনতা।
শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল ১০ টায় বিক্ষোভকারিরা একটি মিছিল নিয়ে থানায় ঢোকার চেষ্টা করলে এ সময় ওসিসহ পুলিশের সদস্যরা বাঁধা দেন। পরে বিক্ষোভকারীরা আধা ঘণ্টা ধরে থানা ঘেরাও করে রাখেন।
এর আগে সকাল ৯ টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভন্দুরচর – চরনতুন বন্দর এলাকা থেকে একটি মিছিল নিয়ে প্রথমে উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে তারা রৌমারী থানার গেট খুলে প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা বাঁধা দেন। পরে থানা ঘেরাও করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। তারা ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত সকলকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’—এমন নানা স্লোগান দেন তারা।
এ সময় তারা দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে ওসি লুৎফর রহমানের অপসারণ চায় তারা।

নিহত নুরুল মিয়ার বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ছেলে নুরুল হত্যাকারিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। পুলিশ আসামি ধরতে গাফিলতি করছে, আমি এই ওসির অপসারণ চাই।
নিহত বুলু ও ফুলু মিয়ার ভাই শাহাজালাল বলেন, আমি এক মাস আগে অভিযোগ করেছি রৌমারী থানার ওসি কোন পদক্ষেপ নেয় নাই। তখন ওই ঘটনার পদক্ষেপ নেয়া হলে তাহলে হয়তো এতোবড় ঘটনা ঘটতো না। আবার এদিকে মূল আসামী ধরছে না।
থানা ঘেরাও ও অপসারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান অস্বীকার করে বলেন, আমাদের কাছে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন দাবি দাওয়া বিষয়ে এসেছিল। তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা প্রশাসন চত্বরে মানববন্ধন করেন সংক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও নিহতদের স্বজনরা।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে জমি নিয়ে বিরোধে রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভুন্দুরচর গ্রামের শাহজামাল গ্রুপের সঙ্গে একই গ্রামের রব্বানী গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় শাহাজামালের দুই ভাই ফুলবাবু (৪৩), বুলু মিয়া (৫২) ও ভাতিজা নুরুল আমিন (২৭) নিহত হন। আহত হন উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন শাহাজামাল মিয়া বাদী হয়ে ৩৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮-১০জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় প্রধান অভিযুক্ত রাজু মিয়াসহ, আপেল মিয়া, সিবেনী বেগম, কিনেজা খাতুন ও নুর মোহাম্মদ নামের ৫ জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।


































