ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নিহত ১৫, জাতিসংঘে বৈঠক

থাই-কাম্বোডিয়া উত্তেজনায় যুদ্ধের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
  • / 176

থাই- কম্বোডিয়া যুদ্ধ

থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ভেচায়াচাই সতর্ক করে বলেছেন, কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্তে সংঘর্ষ যুদ্ধের রূপ নিতে পারে। কারণ, পরপর দ্বিতীয় দিন ধরে দুই দেশ প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

ব্যাংককে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “যদি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়, তাহলে এটি যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারে।” যদিও আপাতত এটি সীমিত সংঘর্ষের পর্যায়েই আছে।

দুই দিনের সংঘর্ষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
বার্তা সংস্থা এএফপি ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া একে অপরের সীমান্তে ভারী কামান ও রকেট হামলা চালিয়েছে। থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সীমান্ত এলাকা থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকার কয়েকটি হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে; সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৪২৮ রোগীকে। দেশজুড়ে ৩০০টি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘাতে ১৪ জন বেসামরিক নাগরিক ও একজন সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৪৬ জন, যাদের মধ্যে ১৫ জন সেনাসদস্য।

এএফপিকে কম্বোডিয়ার এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, থাই সেনাদের হামলায় ৭০ বছর বয়সী এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

থাই সেনাদের বিরুদ্ধে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের অভিযোগ

বিবিসি জানিয়েছে, নমপেনের (কম্বোডিয়ার রাজধানী) পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে— দেশটির ভূখণ্ডে থাই সেনারা নিষিদ্ধ ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপ করেছে। তবে এ নিয়ে থাই কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।

বিশ্বের অনেক দেশে ক্লাস্টার বোমা নিষিদ্ধ। বিস্তৃত এলাকাজুড়ে এলোমেলো বিস্ফোরণের কারণে এতে হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হয়।

জাতিসংঘে জরুরি বৈঠক

এই সংঘাতের প্রেক্ষিতে কম্বোডিয়ার অনুরোধে শুক্রবার জরুরি বৈঠকে বসছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি)। নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় বিকেলে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সীমান্ত যোগাযোগ বন্ধ, নাগরিকদের ফিরে আসার নির্দেশ

সংঘাতের কারণে থাই সরকার কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত থাই নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঐতিহাসিক সীমান্ত বিরোধের পেছনের গল্প

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যকার সীমান্ত বিরোধের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ফরাসি শাসনামলে কম্বোডিয়ার সীমান্ত নির্ধারণের সময় থেকেই এই বিরোধ শুরু। ২০০৮ সালে বিরোধপূর্ণ অঞ্চলের একটি মন্দিরকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চাইলে থাইল্যান্ড এর প্রতিবাদ করে। তখন থেকেই দুই দেশের মধ্যে এই সীমান্ত বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে, যার জেরে সময় সময় সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নিহত ১৫, জাতিসংঘে বৈঠক

থাই-কাম্বোডিয়া উত্তেজনায় যুদ্ধের আশঙ্কা

সর্বশেষ আপডেট ০১:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫

থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ভেচায়াচাই সতর্ক করে বলেছেন, কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্তে সংঘর্ষ যুদ্ধের রূপ নিতে পারে। কারণ, পরপর দ্বিতীয় দিন ধরে দুই দেশ প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

ব্যাংককে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “যদি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়, তাহলে এটি যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারে।” যদিও আপাতত এটি সীমিত সংঘর্ষের পর্যায়েই আছে।

দুই দিনের সংঘর্ষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
বার্তা সংস্থা এএফপি ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া একে অপরের সীমান্তে ভারী কামান ও রকেট হামলা চালিয়েছে। থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সীমান্ত এলাকা থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকার কয়েকটি হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে; সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৪২৮ রোগীকে। দেশজুড়ে ৩০০টি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘাতে ১৪ জন বেসামরিক নাগরিক ও একজন সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৪৬ জন, যাদের মধ্যে ১৫ জন সেনাসদস্য।

এএফপিকে কম্বোডিয়ার এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, থাই সেনাদের হামলায় ৭০ বছর বয়সী এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

থাই সেনাদের বিরুদ্ধে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের অভিযোগ

বিবিসি জানিয়েছে, নমপেনের (কম্বোডিয়ার রাজধানী) পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে— দেশটির ভূখণ্ডে থাই সেনারা নিষিদ্ধ ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপ করেছে। তবে এ নিয়ে থাই কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।

বিশ্বের অনেক দেশে ক্লাস্টার বোমা নিষিদ্ধ। বিস্তৃত এলাকাজুড়ে এলোমেলো বিস্ফোরণের কারণে এতে হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হয়।

জাতিসংঘে জরুরি বৈঠক

এই সংঘাতের প্রেক্ষিতে কম্বোডিয়ার অনুরোধে শুক্রবার জরুরি বৈঠকে বসছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি)। নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় বিকেলে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সীমান্ত যোগাযোগ বন্ধ, নাগরিকদের ফিরে আসার নির্দেশ

সংঘাতের কারণে থাই সরকার কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত থাই নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঐতিহাসিক সীমান্ত বিরোধের পেছনের গল্প

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যকার সীমান্ত বিরোধের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ফরাসি শাসনামলে কম্বোডিয়ার সীমান্ত নির্ধারণের সময় থেকেই এই বিরোধ শুরু। ২০০৮ সালে বিরোধপূর্ণ অঞ্চলের একটি মন্দিরকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চাইলে থাইল্যান্ড এর প্রতিবাদ করে। তখন থেকেই দুই দেশের মধ্যে এই সীমান্ত বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে, যার জেরে সময় সময় সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে