ঢাকা ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ত্রুটিপূর্ণ ভবন নির্মাণে রাজউকের দায় আছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 99

রাজউকের

রাজধানীর ভবন নির্মাণে ত্রুটি ও অনিয়মের বিষয়ে রাজউকেরও দায় রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপতির (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) তেজগাঁওয়ের এফডিসিতে ‘ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি রোধে ভবন মালিকদের দায়িত্বশীলতা’ শীর্ষক ছায়া সংসদ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

রিয়াজুল ইসলাম বলেন, নগর পরিকল্পনা ও ভবন নির্মাণে রাজউকের কিছু ত্রুটি ও দায়িত্বহীনতা আছে—এ ব্যাপারে তিনি বরাবরই স্বচ্ছ। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তসহ মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অনিয়ম রোধে এখন রাজউকের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

তিনি বলেন, নকশা অনুমোদন ও তদারকি—দুটি দায়িত্বই বর্তমানে রাজউকের অধীনে। তদারকির দায়িত্ব পৃথক কোনো সংস্থার হাতে গেলে কার্যকারিতা আরও বাড়তে পারে। ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু রাজউক নয়, সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকেও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব নিতে হবে বলে মত দেন তিনি। সাম্প্রতিক কসাইটুলি এলাকার ত্রুটিপূর্ণ ভবন প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জানান, ভবনটির মালিককে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয় বাসিন্দারা সমস্যার সমাধানে রাজউককে সহযোগিতা করছেন।

তিনি বলেন, অনুমোদনবিহীন ভবন নির্মাতাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে বিদ্যুতের মিটার জব্দ, মামলা ও প্রয়োজন হলে ভবন ভাঙার কাজও চলছে। যেসব প্রকৌশলী ও স্থপতি যথাযথ মানদণ্ড নিশ্চিত না করেই নকশায় স্বাক্ষর করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া তিনি জানান, তথ্য গোপন করে একাধিক প্লট নেওয়া ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কেরাণীগঞ্জ, ডেমরা, বসিলা—এসব এলাকায় জলাশয় ভরাট করে অনুমোদন ছাড়া নির্মাণ করা হাউজিং প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানে রয়েছে রাজউক।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ দেশে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে, কিন্তু সচেতনতার ঘাটতি রয়ে গেছে। বর্তমান বিল্ডিং কোড সময়োপযোগী নয়; এটিকে দ্রুত আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ জরুরি। অতীতে সচেতনতা তৈরিতে ব্যয় হলেও প্রস্তুতিমূলক কাজ হয়নি।

ছায়া সংসদে আলোচকরা আরও জানান, ঢাকার আশপাশে দ্রুত গড়ে ওঠা অনেক হাউজিং কোম্পানি বিল্ডিং কোড বা নকশা অনুসরণ করছে না; ১৫ থেকে ২০ তলা ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে রাজউকের কিছু অসাধু কর্মচারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও আলোচনা ওঠে। অনিয়ম রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

অংশগ্রহণকারী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শহিদ বীর-উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিজয়ী হয়, সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলকে পরাজিত করে। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ত্রুটিপূর্ণ ভবন নির্মাণে রাজউকের দায় আছে

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর ভবন নির্মাণে ত্রুটি ও অনিয়মের বিষয়ে রাজউকেরও দায় রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপতির (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) তেজগাঁওয়ের এফডিসিতে ‘ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি রোধে ভবন মালিকদের দায়িত্বশীলতা’ শীর্ষক ছায়া সংসদ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

রিয়াজুল ইসলাম বলেন, নগর পরিকল্পনা ও ভবন নির্মাণে রাজউকের কিছু ত্রুটি ও দায়িত্বহীনতা আছে—এ ব্যাপারে তিনি বরাবরই স্বচ্ছ। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তসহ মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অনিয়ম রোধে এখন রাজউকের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

তিনি বলেন, নকশা অনুমোদন ও তদারকি—দুটি দায়িত্বই বর্তমানে রাজউকের অধীনে। তদারকির দায়িত্ব পৃথক কোনো সংস্থার হাতে গেলে কার্যকারিতা আরও বাড়তে পারে। ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু রাজউক নয়, সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকেও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব নিতে হবে বলে মত দেন তিনি। সাম্প্রতিক কসাইটুলি এলাকার ত্রুটিপূর্ণ ভবন প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জানান, ভবনটির মালিককে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয় বাসিন্দারা সমস্যার সমাধানে রাজউককে সহযোগিতা করছেন।

তিনি বলেন, অনুমোদনবিহীন ভবন নির্মাতাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে বিদ্যুতের মিটার জব্দ, মামলা ও প্রয়োজন হলে ভবন ভাঙার কাজও চলছে। যেসব প্রকৌশলী ও স্থপতি যথাযথ মানদণ্ড নিশ্চিত না করেই নকশায় স্বাক্ষর করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া তিনি জানান, তথ্য গোপন করে একাধিক প্লট নেওয়া ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কেরাণীগঞ্জ, ডেমরা, বসিলা—এসব এলাকায় জলাশয় ভরাট করে অনুমোদন ছাড়া নির্মাণ করা হাউজিং প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানে রয়েছে রাজউক।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ দেশে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে, কিন্তু সচেতনতার ঘাটতি রয়ে গেছে। বর্তমান বিল্ডিং কোড সময়োপযোগী নয়; এটিকে দ্রুত আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ জরুরি। অতীতে সচেতনতা তৈরিতে ব্যয় হলেও প্রস্তুতিমূলক কাজ হয়নি।

ছায়া সংসদে আলোচকরা আরও জানান, ঢাকার আশপাশে দ্রুত গড়ে ওঠা অনেক হাউজিং কোম্পানি বিল্ডিং কোড বা নকশা অনুসরণ করছে না; ১৫ থেকে ২০ তলা ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে রাজউকের কিছু অসাধু কর্মচারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও আলোচনা ওঠে। অনিয়ম রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

অংশগ্রহণকারী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শহিদ বীর-উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিজয়ী হয়, সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলকে পরাজিত করে। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।