তেহরানের বাসিন্দাদের শহর ছাড়ার আহ্বান ট্রাম্পের
- সর্বশেষ আপডেট ১১:২১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
- / 210
ইরানের রাজধানী তেহরান নিয়ে উত্তেজনাকর মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, “তেহরানের সব বাসিন্দার উচিত দ্রুত শহর ছেড়ে যাওয়া।”
এই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই তেহরানে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়।
ট্রাম্প বর্তমানে কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছিলেন। সেখান থেকেই তিনি তেহরান সম্পর্কিত পোস্টটি দেন। একই পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন, “ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।”
পরে জানা গেছে, তিনি পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন। ফিরে গিয়ে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, “আমি ইরানকে ৬০ দিনের সময় দিয়েছিলাম পারমাণবিক চুক্তিতে ফেরার জন্য। ৬১তম দিনে কী হয়েছে, আপনারা সবাই জানেন।” তিনি আরও বলেন, “আমার ধারণা, দুই দেশের মধ্যে একটা চুক্তি হবে, না হলে ইরান বড় ভুল করবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের জনগণকে সরে যাওয়ার বার্তা দিয়ে মূলত ইরান সরকারকে চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প, যাতে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করতে তারা বাধ্য হয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের চলমান অভিযানে সরাসরি অংশ নিচ্ছে না, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ভবনসহ তেহরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। পশ্চিম ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
সোমবার দুপুর থেকে আতঙ্কে তেহরান ছাড়তে শুরু করেছে হাজার হাজার মানুষ। রাতের দিকে শহরের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট দেখা যায়।
অন্যদিকে ইরানও ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। মঙ্গলবার ভোরে তেল আভিভ ও জেরুজালেমে সতর্কতা সাইরেন বেজে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির দূতাবাস। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “চীনের নাগরিকরা যেন সম্ভব হলে স্থলপথে দ্রুত জর্ডানের দিকে চলে যান।”
দূতাবাসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েল-ইরান সংঘর্ষ দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে, মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরমভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে।





































