ঢাকা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তেলের বাজারে অস্থিরতা, চালে কিছুটা স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবদেক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:০২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 81

ফাইল ছবি

দেশের খুচরা বাজারে আবারও বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। ব্যবসায়ীরা প্রতি লিটার তেলে ১০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত লিটারপ্রতি ৫ টাকা করে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে ভারত থেকে চাল আমদানির ফলে বাজারে চালের দামে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে সবজির দাম কমলেও এখনো তা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

তেলের দাম নতুন করে বাড়েনি জানিয়ে পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কমিশন কমিয়ে দিয়েছে সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো। এতে বাজারে বেড়েছে খোলা সয়াবিন ও সুপার পাম অয়েলের দাম।

ভারত থেকে সরু নাজিরশাইল ও মোটা দানার কিছু প্রজাতির চাল আমদানির কারণে বাজারে দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

বাজারে নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮৪ থেকে ৮৬ টাকা, যা আগে ছিল ৯০–৯২ টাকা। মোটা চাল (পায়জাম ও স্বর্ণা) বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, যা কেজিপ্রতি ৪–৫ টাকা কমেছে। মিনিকেট চাল এখনো আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে, প্রতি কেজি ৭৮ থেকে ৮৫ টাকা।

তেলের দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলে। বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৭০ থেকে ১৭২ টাকা (পূর্বে ১৬৯ টাকা)। সুপার পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা, যা আগে ছিল ১৫০ টাকা।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, পরিবহন খরচ এবং আমদানিকৃত দামের ঊর্ধ্বগতির কারণেই তেলবাজারে এ অস্থিরতা। সবজির দামে সামান্য পতন, তবে এখনো উচ্চ সবজির দাম কিছুটা কমলেও তা এখনো সাধ্যের মধ্যে আসেনি অনেক ক্রেতার জন্য।

বাজারের সবজি ক্রেতা রাজিব বলেন, ‘বাজারে এখন সবজির সরবরাহ ভাল। এতে দাম কিছুটা কমেছে। তবে তেলের বাজারে দাম বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, নিত্যপণ্যের বাজারের দাম কমলে বা বাড়লেও সংসারের জন্য প্রতিদিনের বাজার করতেই হবে। তবে বাজারে গেলেই দাম নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয় প্রতিনিয়ত।

বর্তমানে বাজারে পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা: ৬০–৮০ টাকা প্রতি কেজি। করলা, বেগুন, বরবটি, চিচিঙা: ৮০–১০০ টাকা প্রতি কেজি। পেঁপে ও আলু তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে – পেঁপে ৪০ টাকা এবং আলু ৩০ টাকা প্রতি কেজি। গত কয়েক সপ্তাহে এসব সবজির দাম ৮০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে উঠানামা করছিল, সেখান থেকে কিছুটা কমলেও এখনো তা স্বস্তিদায়ক নয়।

তেলের ও সবজির বাজারে অস্থিরতা থাকলেও মুরগি ও ডিমের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাজারে ব্রয়লার মুরগি: ১৭০–১৮০ টাকা প্রতি কেজি। সোনালি মুরগি: ৩০০–৩২০ টাকা প্রতি কেজি। ডিম (ফার্ম): ১৩৫–১৪০ টাকা প্রতি ডজন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তেলের বাজারে অস্থিরতা, চালে কিছুটা স্বস্তি

সর্বশেষ আপডেট ০১:০২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দেশের খুচরা বাজারে আবারও বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। ব্যবসায়ীরা প্রতি লিটার তেলে ১০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত লিটারপ্রতি ৫ টাকা করে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে ভারত থেকে চাল আমদানির ফলে বাজারে চালের দামে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে সবজির দাম কমলেও এখনো তা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

তেলের দাম নতুন করে বাড়েনি জানিয়ে পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কমিশন কমিয়ে দিয়েছে সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো। এতে বাজারে বেড়েছে খোলা সয়াবিন ও সুপার পাম অয়েলের দাম।

ভারত থেকে সরু নাজিরশাইল ও মোটা দানার কিছু প্রজাতির চাল আমদানির কারণে বাজারে দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

বাজারে নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮৪ থেকে ৮৬ টাকা, যা আগে ছিল ৯০–৯২ টাকা। মোটা চাল (পায়জাম ও স্বর্ণা) বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, যা কেজিপ্রতি ৪–৫ টাকা কমেছে। মিনিকেট চাল এখনো আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে, প্রতি কেজি ৭৮ থেকে ৮৫ টাকা।

তেলের দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলে। বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৭০ থেকে ১৭২ টাকা (পূর্বে ১৬৯ টাকা)। সুপার পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা, যা আগে ছিল ১৫০ টাকা।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, পরিবহন খরচ এবং আমদানিকৃত দামের ঊর্ধ্বগতির কারণেই তেলবাজারে এ অস্থিরতা। সবজির দামে সামান্য পতন, তবে এখনো উচ্চ সবজির দাম কিছুটা কমলেও তা এখনো সাধ্যের মধ্যে আসেনি অনেক ক্রেতার জন্য।

বাজারের সবজি ক্রেতা রাজিব বলেন, ‘বাজারে এখন সবজির সরবরাহ ভাল। এতে দাম কিছুটা কমেছে। তবে তেলের বাজারে দাম বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, নিত্যপণ্যের বাজারের দাম কমলে বা বাড়লেও সংসারের জন্য প্রতিদিনের বাজার করতেই হবে। তবে বাজারে গেলেই দাম নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয় প্রতিনিয়ত।

বর্তমানে বাজারে পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা: ৬০–৮০ টাকা প্রতি কেজি। করলা, বেগুন, বরবটি, চিচিঙা: ৮০–১০০ টাকা প্রতি কেজি। পেঁপে ও আলু তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে – পেঁপে ৪০ টাকা এবং আলু ৩০ টাকা প্রতি কেজি। গত কয়েক সপ্তাহে এসব সবজির দাম ৮০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে উঠানামা করছিল, সেখান থেকে কিছুটা কমলেও এখনো তা স্বস্তিদায়ক নয়।

তেলের ও সবজির বাজারে অস্থিরতা থাকলেও মুরগি ও ডিমের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাজারে ব্রয়লার মুরগি: ১৭০–১৮০ টাকা প্রতি কেজি। সোনালি মুরগি: ৩০০–৩২০ টাকা প্রতি কেজি। ডিম (ফার্ম): ১৩৫–১৪০ টাকা প্রতি ডজন।