তিস্তাপাড়ে রিজওয়ানা: এতসব দাবি করলে আমরা কীভাবে করব?
- সর্বশেষ আপডেট ০১:০৭:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
- / 188
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, “স্থানীয় জনগণ তিস্তা নদীতীরে স্থায়ী বাঁধের দাবি করছেন। কিন্তু দেড় বছরের একটি সরকারের কাছে এতসব দাবি করলে আমরা কীভাবে করব? তিস্তা আমাদের নদী। ভাটির দেশ হিসেবে তিস্তা নদীর ওপর আমাদের অধিকার আছে। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই নদী কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, সে জন্য আমরা তিস্তার পাঁচটি স্থানে গণশুনানি করেছি।”
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুর ১২টায় কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন তিস্তা নদীতীরে চলমান কাজ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ২০১৬ সালে চীনের সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে একটি চুক্তি হয়েছিল; তবে পরে সেই পরিকল্পনায় অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আবারও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীন সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। আশা করছি, আগামী অক্টোবরের মধ্যে আমাদের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত নকশা সম্পন্ন হবে। এরপর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কী পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হবে তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দরকষাকষি হবে। তারপরই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, ইতিপূর্বে আমরা ১৯.৫ কিলোমিটার অতি ভাঙনপ্রবণ এলাকায় ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিয়েছি। ভবিষ্যতে নতুন করে কোথাও ভাঙন দেখা দিলে সেখানেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপদেষ্টা দুপুর ১২টায় রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তাপাড়ে চলমান কাজ পরিদর্শনে এলে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলের চারাগাছ উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
পরে তিনি জিওব্যাগ ব্যবহারের মাধ্যমে নদীতীর রক্ষা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি নদীভাঙনের শিকার নারী-পুরুষদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনেন। এরপর তিনি তিস্তাপাড়ে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা, পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান, রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মোজাহিদ এবং স্থানীয় তিস্তা নদীপাড়ের হাজারো জনগণ।



































