তাহিরপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে গরু ডাকাতির অভিযোগ
- সর্বশেষ আপডেট ১০:২৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
- / 189
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সংঘবদ্ধ গরু ডাকাতির ঘটনায় ২০টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে, যার অধিকাংশই পাওয়া গেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা পল্লী চিকিৎসক শামসুদ্দিনের ভাই ও ভগ্নিপতির বাড়ি থেকে। বুধবার (২৩ জুলাই) উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কলাগাঁও এলাকায় এই গরুগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনাটি সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকার কথা জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ।
জানা যায়, মঙ্গলবার মধ্যনগরের মহিষখলা বাজার থেকে ২০টি গরু কেনেন গবাদিপশু ব্যবসায়ী বাহার উদ্দিন ও জিল্লু মিয়া। গরুগুলো ট্রলারে করে হাওড়পথে বহনের সময় ২৫–৩০ জন মুখোশধারী ডাকাত দল ট্রলারে হামলা চালিয়ে গরুগুলো লুট করে নেয়। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীদের স্বজনরা ট্রলার নিয়ে হাওড়ে অনুসন্ধানে নামেন এবং বুধবার কলাগাঁও গ্রামের তিনটি বাড়িতে গরুগুলোর অবস্থান শনাক্ত করেন।
স্থানীয়দের সহায়তায় আলালের বাড়ি থেকে ১০টি, আইন উদ্দিনের বাড়ি থেকে ৬টি এবং কসাই সাইকুলের বাড়ি থেকে ৪টি গরু উদ্ধার করা হয়। তিনজনই বিএনপি নেতা শামসুদ্দিনের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও অনুসারী। আলাল তার ভগ্নিপতি, আইন উদ্দিন তার ছোট ভাই এবং সাইকুল স্থানীয় যুবদল কর্মী এমরানের মাধ্যমে তার লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচিত।
গরুর মালিক বাহার উদ্দিন ও জিল্লু মিয়া অভিযোগ করেন, শামসুদ্দিন তাদের কাছ থেকে মুচলেকা রেখে গরুগুলো ফেরত দেন যাতে তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে না পারেন। এমনকি গরু ফেরতের সময় শামসুদ্দিনের ভাইয়ের ছেলে রাজু তাদের কাছ থেকে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী শামসুদ্দিন এ ঘটনার বিষয়ে বলেন, “বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী। দয়া করে এটি নিয়ে আর পত্রিকায় লেখালেখি করবেন না।” তবে এক পর্যায়ে তিনি দাবি করেন, “আমার ভাইয়ের বাড়ি থেকে গরু উদ্ধার হয়নি, অন্যদের বাড়ি থেকে হয়েছে।”
অন্যদিকে, তাহিরপুর থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন ও টেকেরঘাট পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই পঙ্কজ দাস বলেন, “গরু ডাকাতির ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না।”
বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আনিসুল হক বলেন, “যে কেউ যদি ডাকাতিসহ অপরাধে জড়িত থাকে, তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত। আমি শামসুদ্দিনকে মনোনয়ন পাইয়ে দিইনি, জেলা কমিটির মাধ্যমেই সে মনোনীত হয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, সুনামগঞ্জ-১ আসনে আগাম প্রভাব বিস্তার ও রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যেই এ ধরনের সন্ত্রাসী চক্রকে উৎসাহিত করা হয়েছে, যা এখন সীমান্ত অঞ্চলে চোরাচালান, চাঁদাবাজি, সালিস বাণিজ্যসহ নানা অপরাধে যুক্ত হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের নীরবতা ও রাজনৈতিক প্রভাবে এসব অপরাধ চেপে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।


































