তারেক রহমানের নিদের্শে সিলেট ৬ আসনে সৈয়দা আদিবা
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫
- / 275
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার) আসনে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক উত্তাপ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী, সাবেক এমপি মরহুম ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন (লেচু মিয়া)-এর কন্যা, তরুণ ও প্রগতিশীল নারী নেতা সৈয়দা আদিবা হোসেন। বাবার জনপ্রিয়তা ও নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মতৎপরতায় তিনি হয়ে উঠেছেন জনপদের ‘নারী নেতৃত্বের নতুন সম্ভাবনা’ এবং বিএনপির মাঠে নারীর নতুন কণ্ঠস্বর। এমনকি লন্ডন থেকে গ্রীণ সিগনাল নিয়েই পুরোদমে মাঠে নেমেছেন আবিদা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে দিক নির্দেশনা নিয়েই স্থানীয় জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করছেন। বিএনপিতে নারী নেতৃত্বের কোটা পূরণের ক্ষেত্রে দল তাকেই বেছে নিবে বলে বিশ্বাস স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অধিকাংশ নেতাকর্মীর। ইতিমধ্যেই তিনি সাধারণ ভোটারদেরও মন জয় করে নিয়েছেন।
রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নারীর কণ্ঠস্বর হিসেবে সিলেট-৬ আসনে উঠে আসছেন সৈয়দা আদিবা। গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজারের প্রতিটি গ্রাম, হাট ও উঠানে ছড়িয়ে দিচ্ছেন উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের বার্তা।
সৈয়দা আদিবা শুধু বিএনপির নেত্রী নন; তিনি সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য মরহুম ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের সুযোগ্য কন্যা। রাজনীতিতে তার প্রবেশ কেবল পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে নয়, জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের পক্ষে দৃঢ় অঙ্গীকার থেকে।
মরহুম ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন ছিলেন সিলেট-৬ আসনের দুইবারের সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও শিল্পপতি। এলাকায় তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্মৃতি আজও মানুষের মনে গেঁথে আছে। সেই ঐতিহ্যের উত্তরসূরি হিসেবে মঞ্চে এসেছেন কন্যা সৈয়দা আদিবা, শুধু বাবার নামের জোরেই নয়—নিজের গতিশীলতা, স্পষ্ট রাজনৈতিক দর্শন ও মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততার মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলছেন নিজস্ব পরিচিতি।
প্রতিদিনই তাকে দেখা যায় গ্রামের উঠান বৈঠকে, স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ও বাজারে সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নিতে। বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি তুলে ধরছেন আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, তরুণদের কর্মসংস্থান, নারী ক্ষমতায়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার পরিকল্পনা। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তার সভা ও বৈঠকগুলো জমে উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেন, “একজন নারী হিসেবে আদিবা আপা আমাদের সাহস জোগাচ্ছেন। আমরা চাই তিনি এগিয়ে যান এবং নারীদের জন্য কাজ করুন।”
প্রবীণ ভোটার আসাদ উদ্দিন বলেন, “তিনি সৎ, শিক্ষিত ও পরিশ্রমী। এমন নেতৃত্ব পেলে আমাদের এলাকার অনেক উপকার হবে।”
গত ১৭ জুলাই লন্ডনের কিংস্টনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সৈয়দা আদিবা। এই সাক্ষাৎকালে তিনি সিলেট-৬ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তারেক রহমান তাকে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও দলের রাজনীতিকে গতিশীল করার দিকনির্দেশনা দেন।

বিগত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে গোলাপগঞ্জ পৌর বিএনপির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি। সেখানে বলেন, “আমার অঙ্গীকার উন্নয়ন, ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, চাই রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্প্রীতি; যেখানে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে।”
নারীদের জন্য কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও নেতৃত্বের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। স্থানীয় নারী ভোটাররা বলছেন, তার উপস্থিতি তাদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সাহস জোগাচ্ছে।
৮ আগস্ট গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের উপজেলা শাখার সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মীকে পাশে নিয়ে আমি মাঠে থাকতে চাই। এই এলাকা ও জনগণের জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা থাকবে।”
গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে তার পরিবারের নামে প্রতিষ্ঠিত পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিক্ষার মান উন্নয়ন, অবকাঠামো আধুনিকায়ন, তরুণদের উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রবাসী কমিউনিটির সঙ্গে শক্তিশালী যোগাযোগ গড়ার।
সিলেট-৬ এর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “নারী নেতৃত্বের উত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বার্তা। সৈয়দা আদিবা সেই বার্তার প্রতীক। তিনি শুধু বাবার উত্তরাধিকার বহন করছেন না, বরং নিজস্ব দক্ষতা ও প্রগতিশীল চিন্তায় তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করছেন।”
দুই উপজেলার ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন এখন, “গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজারের নতুন দিন কি আসছে সৈয়দা আদিবা হোসেনের হাত ধরে?”
































