ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তামাকের ক্ষতি ভয়াবহ: অধ্যাদেশ ২০২৫ সংসদে আইন করার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 30

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত অতিথিরা। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুর লাগাম টানতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ আইন হিসেবে পাস করার দাবি উঠেছে।

আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এই দাবি জানায় ডব্লিউবিপি (WBP)।

বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন শেখ মোমেনা মনি। আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির ডেন্টিস্ট্রি অনুষদের ডিন ড. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থা, বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির পরিচালক মো. সুরাতুজ্জামান, লাইট হাউস অর্গানাইজেশনের উপদেষ্টা ওয়াহিদা ইয়াসমিন, সাবেক সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. তাসনিম লস্কর, ডব্লিউবিপির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন এবং প্রধান নির্বাহী এএইচএম নোমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডব্লিউবিপির প্রকল্প সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডব্লিউবিপির উপ-নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান

ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, তামাকের ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রায় ২ লাখ মানুষ অকালে মারা যায়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকার সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করেছে, তবে এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সংসদে আইন হিসেবে পাস করা জরুরি।

অধ্যাদেশের অর্জন তুলে ধরে শেখ মোমেনা মনি বলেন, ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে দেশে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যার প্রায় ১৬ শতাংশ পরিবেশগত ক্ষতি। একই সময়ে তামাকজাত পণ্য থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা ব্যয়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। ফলে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় কমাতে অধ্যাদেশটির বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

বৈঠকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, তামাক হৃদ্‌রোগ, হার্ট অ্যাটাকসহ নানা প্রাণঘাতী রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। শক্তিশালী আইন প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

বক্তারা আরও জানান, অধ্যাদেশটি সংসদে বিল আকারে পাস করাতে সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়কে সহায়ক ভূমিকা পালন এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারণায় তামাক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫-এর উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো হলো—
ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচসহ সব উদীয়মান তামাকপণ্যের সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা; গ্রাফিক স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করা; সব তামাকপণ্যের জন্য মানসম্মত প্যাকেট প্রবর্তন।

এছাড়া তামাক শিল্পের সব ধরনের সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব ধরনের তামাক বিজ্ঞাপন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে কঠোর শাস্তির বিধানসহ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও খেলার মাঠের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকপণ্যের বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারিত ধূমপান এলাকা বাতিল করে সব ইনডোর এলাকা এবং নির্বাচিত আউটডোর স্থানকে ধূমপানমুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তামাকের ক্ষতি ভয়াবহ: অধ্যাদেশ ২০২৫ সংসদে আইন করার আহ্বান

সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুর লাগাম টানতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ আইন হিসেবে পাস করার দাবি উঠেছে।

আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এই দাবি জানায় ডব্লিউবিপি (WBP)।

বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন শেখ মোমেনা মনি। আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির ডেন্টিস্ট্রি অনুষদের ডিন ড. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থা, বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির পরিচালক মো. সুরাতুজ্জামান, লাইট হাউস অর্গানাইজেশনের উপদেষ্টা ওয়াহিদা ইয়াসমিন, সাবেক সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. তাসনিম লস্কর, ডব্লিউবিপির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন এবং প্রধান নির্বাহী এএইচএম নোমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডব্লিউবিপির প্রকল্প সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডব্লিউবিপির উপ-নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান

ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, তামাকের ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রায় ২ লাখ মানুষ অকালে মারা যায়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকার সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করেছে, তবে এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সংসদে আইন হিসেবে পাস করা জরুরি।

অধ্যাদেশের অর্জন তুলে ধরে শেখ মোমেনা মনি বলেন, ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে দেশে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যার প্রায় ১৬ শতাংশ পরিবেশগত ক্ষতি। একই সময়ে তামাকজাত পণ্য থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা ব্যয়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। ফলে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় কমাতে অধ্যাদেশটির বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

বৈঠকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, তামাক হৃদ্‌রোগ, হার্ট অ্যাটাকসহ নানা প্রাণঘাতী রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। শক্তিশালী আইন প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

বক্তারা আরও জানান, অধ্যাদেশটি সংসদে বিল আকারে পাস করাতে সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়কে সহায়ক ভূমিকা পালন এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারণায় তামাক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫-এর উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো হলো—
ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচসহ সব উদীয়মান তামাকপণ্যের সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা; গ্রাফিক স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করা; সব তামাকপণ্যের জন্য মানসম্মত প্যাকেট প্রবর্তন।

এছাড়া তামাক শিল্পের সব ধরনের সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব ধরনের তামাক বিজ্ঞাপন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে কঠোর শাস্তির বিধানসহ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও খেলার মাঠের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকপণ্যের বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারিত ধূমপান এলাকা বাতিল করে সব ইনডোর এলাকা এবং নির্বাচিত আউটডোর স্থানকে ধূমপানমুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।