ঢাকা ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় যাত্রা শুরু করলো শিফট-এর ক্যাম্পেইন

নিজস্ব প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:১১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 166

তরুণদের নেতৃত্বে শিক্ষা সচেতনতা

মানসম্মত শিক্ষায় শিশুদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গাইবান্ধার সাঘাটায় শুরু হলো ‘শিফট ক্যাম্পেইন-২০২৫’। সেভ দ্য চিলড্রেন-এর সহায়তায় এসকেএস ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ কর্মসূচিতে তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সাঘাটা উপজেলার এসকেএস রিসোর্স সেন্টারের প্রশিক্ষণ কক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর মোঃ আল কামাহ্ তমাল।

তিনি বলেন, “শিক্ষা হওয়া উচিত নৈতিক ও কর্মমুখী। শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, বরং তা কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। শিশুদের ঝরে পড়া ঠেকাতে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। শিফটাররা এ ক্ষেত্রে সেতুবন্ধনের কাজ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ-এর ম্যানেজার (অ্যাডোলসেন্ট ডেভেলপমেন্ট) কনিকা ফেরদৌস। তিনি বলেন, “শিফট ক্যাম্পেইন তরুণদের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে তারা নিজেরাই সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খোঁজে। এবার তারা সাঘাটার মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় শিশুর মানসম্মত শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কাজ করছে—এটি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষণ কুমার দাশ বলেন, “মানসম্মত শিক্ষায় শিশুদের সক্রিয় অংশগ্রহণ খুব জরুরি। অনেক সময় অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে শিশুরা পড়াশোনায় অনাগ্রহী হয়ে পড়ে। শিফটাররা যদি অভিভাবকদের সচেতন করতে পারে তবে শিশুদের ঝরে পড়া অনেকটাই কমে আসবে।”

উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মামুনুর রশীদ শিফটারদের ‘সাঘাটার স্বপ্নের ফেরিওয়ালা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “অভিভাবকদের স্বপ্ন দেখানোই হবে তাদের প্রধান কাজ—যাতে তারা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী হয়।”

এসকেএস ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়ক মোঃ জামাল উদ্দিন সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “শিফট ক্যাম্পেইন তরুণদের শক্তিকে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। এ কার্যক্রম মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। শিফটার গ্রুপের পরিবেশনায় শিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ে নাটক, গান, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশিত হয়।

শিফট ক্যাম্পেইন একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য তরুণদের ক্ষমতায়ন করা—যাতে তারা নীতিনির্ধারকদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং সমাজে টেকসই পরিবর্তন আনতে পারে। বাংলাদেশে এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো তরুণদের কণ্ঠকে জোরালো করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

সেভ দ্য চিলড্রেন-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশে শিফট ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করছে এসকেএস ফাউন্ডেশন। ২০২৩ সালে বরিশালের বাকেরগঞ্জে প্রথম, ২০২৪ সালে ঢাকার রায়েরবাজারে দ্বিতীয় আয়োজনের পর সাঘাটার এই আয়োজন তৃতীয় পর্ব।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গাইবান্ধায় যাত্রা শুরু করলো শিফট-এর ক্যাম্পেইন

সর্বশেষ আপডেট ১১:১১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মানসম্মত শিক্ষায় শিশুদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গাইবান্ধার সাঘাটায় শুরু হলো ‘শিফট ক্যাম্পেইন-২০২৫’। সেভ দ্য চিলড্রেন-এর সহায়তায় এসকেএস ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ কর্মসূচিতে তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সাঘাটা উপজেলার এসকেএস রিসোর্স সেন্টারের প্রশিক্ষণ কক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর মোঃ আল কামাহ্ তমাল।

তিনি বলেন, “শিক্ষা হওয়া উচিত নৈতিক ও কর্মমুখী। শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, বরং তা কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। শিশুদের ঝরে পড়া ঠেকাতে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। শিফটাররা এ ক্ষেত্রে সেতুবন্ধনের কাজ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ-এর ম্যানেজার (অ্যাডোলসেন্ট ডেভেলপমেন্ট) কনিকা ফেরদৌস। তিনি বলেন, “শিফট ক্যাম্পেইন তরুণদের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে তারা নিজেরাই সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খোঁজে। এবার তারা সাঘাটার মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় শিশুর মানসম্মত শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কাজ করছে—এটি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষণ কুমার দাশ বলেন, “মানসম্মত শিক্ষায় শিশুদের সক্রিয় অংশগ্রহণ খুব জরুরি। অনেক সময় অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে শিশুরা পড়াশোনায় অনাগ্রহী হয়ে পড়ে। শিফটাররা যদি অভিভাবকদের সচেতন করতে পারে তবে শিশুদের ঝরে পড়া অনেকটাই কমে আসবে।”

উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মামুনুর রশীদ শিফটারদের ‘সাঘাটার স্বপ্নের ফেরিওয়ালা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “অভিভাবকদের স্বপ্ন দেখানোই হবে তাদের প্রধান কাজ—যাতে তারা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী হয়।”

এসকেএস ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়ক মোঃ জামাল উদ্দিন সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “শিফট ক্যাম্পেইন তরুণদের শক্তিকে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। এ কার্যক্রম মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। শিফটার গ্রুপের পরিবেশনায় শিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ে নাটক, গান, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশিত হয়।

শিফট ক্যাম্পেইন একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য তরুণদের ক্ষমতায়ন করা—যাতে তারা নীতিনির্ধারকদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং সমাজে টেকসই পরিবর্তন আনতে পারে। বাংলাদেশে এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো তরুণদের কণ্ঠকে জোরালো করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

সেভ দ্য চিলড্রেন-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশে শিফট ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করছে এসকেএস ফাউন্ডেশন। ২০২৩ সালে বরিশালের বাকেরগঞ্জে প্রথম, ২০২৪ সালে ঢাকার রায়েরবাজারে দ্বিতীয় আয়োজনের পর সাঘাটার এই আয়োজন তৃতীয় পর্ব।