তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরাতে তৃতীয় দিনে আপিল শুনানি চলছে
- সর্বশেষ আপডেট ১১:১৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
- / 98
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো চূড়ান্ত আপিল শুনানি চলছে।বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়।
আদালতে ইন্টারভেনার হিসেবে শুনানি করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক।
এর আগে, গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়।
১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন।
২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট রায় দেন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বৈধ। এ রায়ের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে আবেদনকারীরা সরাসরি আপিল করার অনুমতি পান এবং ২০০৫ সালে আপিল দাখিল করেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন।
পরবর্তীতে ওই রায়ের আলোকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তসহ বেশ কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে পাস হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী। ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে এটি গৃহীত হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
সরকার পরিবর্তনের পর ৫ আগস্ট এ রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিক। অন্যরা হলেন তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া এবং জাহরা রহমান।
এরপর ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এছাড়া, গত বছরের ২৩ অক্টোবর একই বিষয়ে আবেদন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
পরে নওগাঁর রানীনগর উপজেলার নারায়ণপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।
বর্তমানে এসব আবেদন একসঙ্গে শুনানি করছে আপিল বিভাগ, যা আজ তৃতীয় দিনের মতো চলছে।































