ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢামেকে একসঙ্গে জন্ম নেয়া ৬ শিশুর ৪ জন মারা গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 132

রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেলে একসঙ্গে জন্ম নেয়া ৬ শিশু। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেকে) একসঙ্গে জন্ম নেওয়া ৬ শিশুর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ও মধ্যরাতে এবং আজ সোমবার (১৫) ঢামেক হাসপাতালের এনআইসিইউতে দুই জন ও বেসরকারি হাসপাতালে দুই জন মারা যায়।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই মায়ের ননদ ফারজানা আক্তার।

 

তিনি জানান, ৬ নবজাতকের মধ্যে ৩ জনকে ঢাকা মেডিকেলের এনআইসিএইচইতে আর বাকি ৩ জনকে বেসরকারি হাসপাতালের এনআইসিইউতে রাখা হয়। ঢাকা মেডিকেলে থাকা দুই ছেলে নবজাতক ও বেসরকারি হাসপাতালে থাকা দুই মেয়ে নবজাতক এনআইসিইউতে মারা যায়।

 

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নবজাতকের মধ্যে সন্ধ্যায় এক নবজাতক এনআইসিইউতে মারা যায়। এরপর ঢাকা মেডিকেলে আরও এক নবজাতকের মৃত্যু হয় এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালে আরও দুজন নবজাতক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ঢামেক হাসপাতালে বর্তমানে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছে বাকি একজন বেসরকারিতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

এর আগে গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের লেবার ওয়ার্ডে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কাতার প্রবাসীর স্ত্রী মোকসেদা আক্তার প্রিয়া (২৩) নামে এক নারী তিনটি ছেলে ও তিনটি মেয়ে প্রসব করেন। এরমধ্যে তিনজন নবজাতকের ওজন ৯০০ গ্রামের মতো এবং বাকি তিন জনের ওজন প্রায় ৮০০ গ্রাম।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগের এক নম্বর ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবিদা সুলতানা জানান, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘বেবি’ বলা যায় না, এটি আসলে ২৭ সপ্তাহের ইনএবিটেবল অ্যাবরশন।’

 

এই চিকিৎসকের মতে, আমাদের দেশে চিকিৎসকেরা ২৮ সপ্তাহকে ভ্রূণের জীবনোপযোগী বয়স হিসেবে গণ্য করেন। কিন্তু এই নারীর ক্ষেত্রে সেই সময়ের আগেই ডেলিভারি হয়েছে।

 

ঢামেকের এই সহযোগী অধ্যাপক জানান, সাধারণত একসঙ্গে ছয়টি শিশু গর্ভে ধারণ করা স্বাভাবিকভাবে সম্ভব নয়। রোগী ‘ফার্টিলিটি ওভুলেশন ইন্ডাকশন ড্রাগ’ সেবন করেছিলেন, যার কারণে একসঙ্গে একাধিক সন্তান ধারণ হয়েছে। এই ওষুধ সেবন করলে নারীদের দুই, তিন, চার, পাঁচ, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ছয়টি সন্তানধারণও হয়ে থাকে।

 

জানা যায়, এর আগেও মোকসেদা আক্তার একটি পূর্ণবয়স্ক শিশুর জন্ম দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি ডেলিভারির সময় মারা যায়।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঢামেকে একসঙ্গে জন্ম নেয়া ৬ শিশুর ৪ জন মারা গেছে

সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেকে) একসঙ্গে জন্ম নেওয়া ৬ শিশুর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ও মধ্যরাতে এবং আজ সোমবার (১৫) ঢামেক হাসপাতালের এনআইসিইউতে দুই জন ও বেসরকারি হাসপাতালে দুই জন মারা যায়।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই মায়ের ননদ ফারজানা আক্তার।

 

তিনি জানান, ৬ নবজাতকের মধ্যে ৩ জনকে ঢাকা মেডিকেলের এনআইসিএইচইতে আর বাকি ৩ জনকে বেসরকারি হাসপাতালের এনআইসিইউতে রাখা হয়। ঢাকা মেডিকেলে থাকা দুই ছেলে নবজাতক ও বেসরকারি হাসপাতালে থাকা দুই মেয়ে নবজাতক এনআইসিইউতে মারা যায়।

 

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নবজাতকের মধ্যে সন্ধ্যায় এক নবজাতক এনআইসিইউতে মারা যায়। এরপর ঢাকা মেডিকেলে আরও এক নবজাতকের মৃত্যু হয় এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালে আরও দুজন নবজাতক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ঢামেক হাসপাতালে বর্তমানে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছে বাকি একজন বেসরকারিতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

এর আগে গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের লেবার ওয়ার্ডে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কাতার প্রবাসীর স্ত্রী মোকসেদা আক্তার প্রিয়া (২৩) নামে এক নারী তিনটি ছেলে ও তিনটি মেয়ে প্রসব করেন। এরমধ্যে তিনজন নবজাতকের ওজন ৯০০ গ্রামের মতো এবং বাকি তিন জনের ওজন প্রায় ৮০০ গ্রাম।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগের এক নম্বর ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবিদা সুলতানা জানান, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘বেবি’ বলা যায় না, এটি আসলে ২৭ সপ্তাহের ইনএবিটেবল অ্যাবরশন।’

 

এই চিকিৎসকের মতে, আমাদের দেশে চিকিৎসকেরা ২৮ সপ্তাহকে ভ্রূণের জীবনোপযোগী বয়স হিসেবে গণ্য করেন। কিন্তু এই নারীর ক্ষেত্রে সেই সময়ের আগেই ডেলিভারি হয়েছে।

 

ঢামেকের এই সহযোগী অধ্যাপক জানান, সাধারণত একসঙ্গে ছয়টি শিশু গর্ভে ধারণ করা স্বাভাবিকভাবে সম্ভব নয়। রোগী ‘ফার্টিলিটি ওভুলেশন ইন্ডাকশন ড্রাগ’ সেবন করেছিলেন, যার কারণে একসঙ্গে একাধিক সন্তান ধারণ হয়েছে। এই ওষুধ সেবন করলে নারীদের দুই, তিন, চার, পাঁচ, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ছয়টি সন্তানধারণও হয়ে থাকে।

 

জানা যায়, এর আগেও মোকসেদা আক্তার একটি পূর্ণবয়স্ক শিশুর জন্ম দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি ডেলিভারির সময় মারা যায়।