ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাবিতে ‘আর্ট ফর ইক্যুয়ালিটি’: সমতার ভাষায় ৯০ শিল্পকর্ম

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 31

ঢাবিতে শুরু হয়েছে তিনদিন ব্যাপী চিত্র প্রদর্শনী ‘আর্ট ফর ইক্যুয়ালিট’। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

সমতা, ন্যায় ও বৈচিত্র্যের বার্তা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমী শিল্প প্রদর্শনী ‘আর্ট ফর ইক্যুয়ালিটি’। আজ বুধবার চারুকলা অনুষদের শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে নয়টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও খ্যাতিমান শিল্পীদের আঁকা মোট ৯০টি চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। একই সঙ্গে উন্মোচন করা হয়েছে একটি ডিজিটাল ক্যাটালগ।

 

প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। সভাপতিত্ব করেন প্রদর্শনীর কিউরেটর ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শেখ মনির উদ্দিন।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যুক্ত করে এমন আয়োজন একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতের অংশগ্রহণ এই উদ্যোগের আন্তর্জাতিক গুরুত্বও তুলে ধরে। তিনি ‘আর্ট ফর ইক্যুয়ালিটি’ কর্মশালা, প্রদর্শনী ও সেমিনারে অংশগ্রহণকারী সবাইকে অভিনন্দন জানান।

বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জরিস ভ্যান বোমেল বলেন, সমতার শক্তি, তারুণ্যের শক্তি ও শিল্পের শক্তি—এই তিনটির সমন্বয় মানুষের হৃদয়ে ন্যায় ও সাম্যের বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। এই উদ্যোগের অংশ হতে পেরে নেদারল্যান্ডস সরকার গর্বিত।

নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের যৌথ বাস্তবায়নে চার বছর মেয়াদি ‘সমতায় তারুণ্য- ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনীটি আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সাত্তার, চারুকলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক এ এ এম কাওসার হাসান, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস এবং জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান করভি রাখসান্দ।

 

উদ্বোধনীতে শবনম মোস্তারী বলেন, প্রদর্শিত চিত্রকর্মগুলোতে সমাজের বাস্তবতা ও শক্তিশালী বার্তা ফুটে উঠেছে। তিনি গ্রামীণ শিল্পী ও প্রান্তিক শিশুদের সম্পৃক্ত করে শিল্পভিত্তিক উদ্যোগ বিস্তারের ওপর জোর দেন।

অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সাত্তার বলেন, সমতা প্রতিষ্ঠা সহজ নয়, তবে শিল্প ও সংলাপের মাধ্যমে এই পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

অধ্যাপক এ এ এম কাওসার হাসান বলেন, ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য অঞ্চল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের আয়োজন ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।

কবিতা বোস বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে শিল্প একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে। গণমাধ্যম ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

করভি রাখসান্দ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো অন্যান্য সামাজিক ইস্যুর সঙ্গে ‘আর্ট ফর ইক্যুয়ালিটি’ যুক্ত করা গেলে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে।

 

প্রদর্শনীটি ২১ থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিল্পী ও গবেষকদের অংশগ্রহণে তিনটি বিষয়ভিত্তিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

মোট ৯০ জন শিল্পীর মধ্যে ৫৩ জন সেরা দশ চিত্রকর্ম নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। খ্যাতিমান শিল্পীদের আঁকা ৩৭টি শিল্পকর্ম প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়। সেরা দশ শিল্পীসহ সকল অংশগ্রহণকারীকে সনদ প্রদান করা হয়।

সেরা দশ শিল্পী হলেন, নাদিয়া ইয়াসমিন, দেবাজ্যোতি বর্ষণ, মোছাঃ মোমেনুন নেছা সুরমা, নিহা রানী দাস, সোমা সুরভী জান্নাত (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়); মোঃ সাজ্জাদুর রহমান সিহান ও ঐশী চাকমা (ঢাকা আর্ট কলেজ); শামীম আহমেদ (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়); সাইম আহমেদ (শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি); ফারিহা খান (খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়)।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪–১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত দুইদিনব্যাপী শিল্প কর্মশালার মাধ্যমে এই প্রদর্শনীর প্রস্তুতি নেওয়া হয়, যেখানে দেশের নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও খ্যাতিমান শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঢাবিতে ‘আর্ট ফর ইক্যুয়ালিটি’: সমতার ভাষায় ৯০ শিল্পকর্ম

সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

সমতা, ন্যায় ও বৈচিত্র্যের বার্তা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমী শিল্প প্রদর্শনী ‘আর্ট ফর ইক্যুয়ালিটি’। আজ বুধবার চারুকলা অনুষদের শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে নয়টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও খ্যাতিমান শিল্পীদের আঁকা মোট ৯০টি চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। একই সঙ্গে উন্মোচন করা হয়েছে একটি ডিজিটাল ক্যাটালগ।

 

প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। সভাপতিত্ব করেন প্রদর্শনীর কিউরেটর ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শেখ মনির উদ্দিন।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যুক্ত করে এমন আয়োজন একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতের অংশগ্রহণ এই উদ্যোগের আন্তর্জাতিক গুরুত্বও তুলে ধরে। তিনি ‘আর্ট ফর ইক্যুয়ালিটি’ কর্মশালা, প্রদর্শনী ও সেমিনারে অংশগ্রহণকারী সবাইকে অভিনন্দন জানান।

বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জরিস ভ্যান বোমেল বলেন, সমতার শক্তি, তারুণ্যের শক্তি ও শিল্পের শক্তি—এই তিনটির সমন্বয় মানুষের হৃদয়ে ন্যায় ও সাম্যের বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। এই উদ্যোগের অংশ হতে পেরে নেদারল্যান্ডস সরকার গর্বিত।

নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের যৌথ বাস্তবায়নে চার বছর মেয়াদি ‘সমতায় তারুণ্য- ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনীটি আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সাত্তার, চারুকলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক এ এ এম কাওসার হাসান, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস এবং জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান করভি রাখসান্দ।

 

উদ্বোধনীতে শবনম মোস্তারী বলেন, প্রদর্শিত চিত্রকর্মগুলোতে সমাজের বাস্তবতা ও শক্তিশালী বার্তা ফুটে উঠেছে। তিনি গ্রামীণ শিল্পী ও প্রান্তিক শিশুদের সম্পৃক্ত করে শিল্পভিত্তিক উদ্যোগ বিস্তারের ওপর জোর দেন।

অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সাত্তার বলেন, সমতা প্রতিষ্ঠা সহজ নয়, তবে শিল্প ও সংলাপের মাধ্যমে এই পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

অধ্যাপক এ এ এম কাওসার হাসান বলেন, ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য অঞ্চল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের আয়োজন ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।

কবিতা বোস বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে শিল্প একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে। গণমাধ্যম ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

করভি রাখসান্দ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো অন্যান্য সামাজিক ইস্যুর সঙ্গে ‘আর্ট ফর ইক্যুয়ালিটি’ যুক্ত করা গেলে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে।

 

প্রদর্শনীটি ২১ থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিল্পী ও গবেষকদের অংশগ্রহণে তিনটি বিষয়ভিত্তিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

মোট ৯০ জন শিল্পীর মধ্যে ৫৩ জন সেরা দশ চিত্রকর্ম নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। খ্যাতিমান শিল্পীদের আঁকা ৩৭টি শিল্পকর্ম প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়। সেরা দশ শিল্পীসহ সকল অংশগ্রহণকারীকে সনদ প্রদান করা হয়।

সেরা দশ শিল্পী হলেন, নাদিয়া ইয়াসমিন, দেবাজ্যোতি বর্ষণ, মোছাঃ মোমেনুন নেছা সুরমা, নিহা রানী দাস, সোমা সুরভী জান্নাত (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়); মোঃ সাজ্জাদুর রহমান সিহান ও ঐশী চাকমা (ঢাকা আর্ট কলেজ); শামীম আহমেদ (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়); সাইম আহমেদ (শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি); ফারিহা খান (খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়)।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪–১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত দুইদিনব্যাপী শিল্প কর্মশালার মাধ্যমে এই প্রদর্শনীর প্রস্তুতি নেওয়া হয়, যেখানে দেশের নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও খ্যাতিমান শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন।