ঢাকা ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-৭ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে নিয়ে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 125

ঢাকা- ৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হাফেজ হাজী মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ্ (গোল চিহ্ন), ডানে সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা- ৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হাফেজ হাজী মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ্-কে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ, এনায়েত উল্লাহ্ দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন; বিশেষ করে ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

 

ঢাকা-৭ সংসদীয় আসনটি লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানা নিয়ে গঠিত। এই এলাকায় বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে একাধিকবার সংসদ সদস্য ছিলেন হাজী মোহাম্মদ সেলিম।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, এমপি থাকাকালে তিনি পুরান ঢাকার বড় অংশে প্রভাব বিস্তার, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এক ধরনের দুঃশাসন কায়েম করেছিলেন। তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধেও নানা অনিয়ম ও অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, যা বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াত প্রার্থী হাফেজ হাজী মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ্ দীর্ঘদিন হাজী সেলিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, হাজী সেলিমের প্রত্যক্ষ অনুকম্পা নিয়ে তিনি বিগত সরকারের সময় পুরান ঢাকার অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়িক সংগঠন মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অতীতে এনায়েত উল্লাহ্ আওয়ামী লীগ পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব খাটিয়েছেন এবং ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তার চলাফেরা ছিল নিয়মিত। অথচ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে প্রার্থী হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

 

ঢাকা- ৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হাফেজ হাজী মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ্ । সম্প্রতি তার এই ছবিগুলো ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা- ৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হাফেজ হাজী মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ্ । সম্প্রতি তার এই ছবিগুলো ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ উঠেছে, পুরান ঢাকা ও গুলিস্তানের একটি অংশে নিজেদের পুরোনো প্রভাব ধরে রাখতে হাজী সেলিমসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন সাবেক নেতা ও সহযোগী সংগঠনের ব্যক্তিরা পরোক্ষভাবে এনায়েত উল্লাহ্-কে নির্বাচনী মাঠে সহযোগিতা করছেন। এজন্য জামায়াতের সঙ্গে গোপন সমঝোতা হয়েছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

 

ভোটারদের একাংশের দাবি, এই মনোনয়নের পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে; যা তদন্তের দাবি রাখে। যদিও সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ স্বীকার বা অস্বীকার করেনি।

 

এনায়েত উল্লাহ্ জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিভিন্ন পুরোনো ছবি ভাইরাল হয়। ছবিগুলোতে হাজী মোহাম্মদ সেলিমের উপস্থিতি দেখা যায়। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দৃশ্য ফুটে উঠেছে বলে দাবি করছেন নেটিজেনরা।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব ছবি নতুন করে প্রশ্ন তুলছে- একজন ব্যক্তি কীভাবে এক সময় আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হয়ে আবার ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

 

এনায়েত উল্লাহ্ এবং তার বড় ছেলের বিরুদ্ধে বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান দেখভাল ও ব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে।

 

ঢাকা-৭ আসনের ভোটারদের অনেকেই বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ রাজনীতিতে প্রকৃত পরিবর্তন আশা করেছিল। কিন্তু পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রের সুবিধাভোগীরা যদি দল বদল করে আবার নির্বাচনী মাঠে ফিরে আসে, তবে সেটি হবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঢাকা-৭ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে নিয়ে বিতর্ক

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা- ৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হাফেজ হাজী মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ্-কে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ, এনায়েত উল্লাহ্ দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন; বিশেষ করে ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

 

ঢাকা-৭ সংসদীয় আসনটি লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানা নিয়ে গঠিত। এই এলাকায় বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে একাধিকবার সংসদ সদস্য ছিলেন হাজী মোহাম্মদ সেলিম।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, এমপি থাকাকালে তিনি পুরান ঢাকার বড় অংশে প্রভাব বিস্তার, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এক ধরনের দুঃশাসন কায়েম করেছিলেন। তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধেও নানা অনিয়ম ও অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, যা বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াত প্রার্থী হাফেজ হাজী মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ্ দীর্ঘদিন হাজী সেলিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, হাজী সেলিমের প্রত্যক্ষ অনুকম্পা নিয়ে তিনি বিগত সরকারের সময় পুরান ঢাকার অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়িক সংগঠন মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অতীতে এনায়েত উল্লাহ্ আওয়ামী লীগ পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব খাটিয়েছেন এবং ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তার চলাফেরা ছিল নিয়মিত। অথচ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে প্রার্থী হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

 

ঢাকা- ৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হাফেজ হাজী মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ্ । সম্প্রতি তার এই ছবিগুলো ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা- ৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হাফেজ হাজী মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ্ । সম্প্রতি তার এই ছবিগুলো ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ উঠেছে, পুরান ঢাকা ও গুলিস্তানের একটি অংশে নিজেদের পুরোনো প্রভাব ধরে রাখতে হাজী সেলিমসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন সাবেক নেতা ও সহযোগী সংগঠনের ব্যক্তিরা পরোক্ষভাবে এনায়েত উল্লাহ্-কে নির্বাচনী মাঠে সহযোগিতা করছেন। এজন্য জামায়াতের সঙ্গে গোপন সমঝোতা হয়েছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

 

ভোটারদের একাংশের দাবি, এই মনোনয়নের পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে; যা তদন্তের দাবি রাখে। যদিও সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ স্বীকার বা অস্বীকার করেনি।

 

এনায়েত উল্লাহ্ জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিভিন্ন পুরোনো ছবি ভাইরাল হয়। ছবিগুলোতে হাজী মোহাম্মদ সেলিমের উপস্থিতি দেখা যায়। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দৃশ্য ফুটে উঠেছে বলে দাবি করছেন নেটিজেনরা।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব ছবি নতুন করে প্রশ্ন তুলছে- একজন ব্যক্তি কীভাবে এক সময় আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হয়ে আবার ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

 

এনায়েত উল্লাহ্ এবং তার বড় ছেলের বিরুদ্ধে বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান দেখভাল ও ব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে।

 

ঢাকা-৭ আসনের ভোটারদের অনেকেই বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ রাজনীতিতে প্রকৃত পরিবর্তন আশা করেছিল। কিন্তু পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রের সুবিধাভোগীরা যদি দল বদল করে আবার নির্বাচনী মাঠে ফিরে আসে, তবে সেটি হবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।