ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩০ কি.মি. দীর্ঘ যানজট

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / 82

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট

দেশের ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এক রাতের ব্যবধানে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত থেকে শত শত যানবাহন আটকে পড়ায় যাত্রী ও চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

পুলিশের তথ্যমতে, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি সড়কের মাঝখানে আটকে থাকায় মহাসড়কে গাড়ির সারি দ্রুত দীর্ঘ হতে থাকে। এর অল্প সময় পর মেঘনা সেতুর কাছাকাছি আরেকটি ট্রাক দুর্ঘটনায় পড়লে যানজট আরও জটিল আকার ধারণ করে।

ফলে সাইনবোর্ড থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যান চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। রাতভর শত শত ট্রাক, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি মহাসড়কে স্থবির হয়ে পড়ে।

শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন জানান, একই রাতে দুটি দুর্ঘটনার কারণে পুরো সড়কপথে দীর্ঘস্থায়ী যানজট তৈরি হয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রাকগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং বর্তমানে একাধিক টিম কাজ করছে। ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকালে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার নেয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়িতে আটকে থাকার কারণে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা বিপাকে পড়েন। খাবার ও পানির সংকটও দেখা দেয়।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রী সেলিম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল ছয়টার দিকে বাসে উঠি, কিন্তু তিন ঘণ্টায় মাত্র কয়েক কিলোমিটার অগ্রসর হয়েছে। শেষ পর্যন্ত হেঁটেই যেতে হয়েছে। খাবার ও পানি পাওয়া ছিল কঠিন।”

অন্য এক যাত্রী নাসরিন আক্তার জানান, গরমে বাচ্চাসহ ভোগান্তির সীমা ছিল না। সারা রাত গাড়ির ভেতর বসে থাকতে হয়েছে, শিশুটি কান্নাকাটি করেছে।

দীর্ঘ যানজটে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পণ্য সময়মতো বাজারে না পৌঁছানোয় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। সোনারগাঁওয়ের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রায়ই এ ধরনের যানজট হয়। এতে আমাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, গ্রাহক আসে না, আবার পণ্যও সময়মতো পৌঁছাতে পারি না।”

ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর যানবাহন সরিয়ে ফেলা হলেও প্রচুর গাড়ি জমে থাকায় পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

তাদের মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে যায়। একইসঙ্গে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় যানজট আরও জটিল হয়ে উঠছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩০ কি.মি. দীর্ঘ যানজট

সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

দেশের ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এক রাতের ব্যবধানে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত থেকে শত শত যানবাহন আটকে পড়ায় যাত্রী ও চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

পুলিশের তথ্যমতে, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি সড়কের মাঝখানে আটকে থাকায় মহাসড়কে গাড়ির সারি দ্রুত দীর্ঘ হতে থাকে। এর অল্প সময় পর মেঘনা সেতুর কাছাকাছি আরেকটি ট্রাক দুর্ঘটনায় পড়লে যানজট আরও জটিল আকার ধারণ করে।

ফলে সাইনবোর্ড থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যান চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। রাতভর শত শত ট্রাক, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি মহাসড়কে স্থবির হয়ে পড়ে।

শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন জানান, একই রাতে দুটি দুর্ঘটনার কারণে পুরো সড়কপথে দীর্ঘস্থায়ী যানজট তৈরি হয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রাকগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং বর্তমানে একাধিক টিম কাজ করছে। ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকালে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার নেয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়িতে আটকে থাকার কারণে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা বিপাকে পড়েন। খাবার ও পানির সংকটও দেখা দেয়।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রী সেলিম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল ছয়টার দিকে বাসে উঠি, কিন্তু তিন ঘণ্টায় মাত্র কয়েক কিলোমিটার অগ্রসর হয়েছে। শেষ পর্যন্ত হেঁটেই যেতে হয়েছে। খাবার ও পানি পাওয়া ছিল কঠিন।”

অন্য এক যাত্রী নাসরিন আক্তার জানান, গরমে বাচ্চাসহ ভোগান্তির সীমা ছিল না। সারা রাত গাড়ির ভেতর বসে থাকতে হয়েছে, শিশুটি কান্নাকাটি করেছে।

দীর্ঘ যানজটে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পণ্য সময়মতো বাজারে না পৌঁছানোয় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। সোনারগাঁওয়ের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রায়ই এ ধরনের যানজট হয়। এতে আমাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, গ্রাহক আসে না, আবার পণ্যও সময়মতো পৌঁছাতে পারি না।”

ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর যানবাহন সরিয়ে ফেলা হলেও প্রচুর গাড়ি জমে থাকায় পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

তাদের মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে যায়। একইসঙ্গে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় যানজট আরও জটিল হয়ে উঠছে।