ওয়াসায় কথিত ‘ছাত্রলীগ’ নেতার বেপরোয়া দুর্নীতি!
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
- / 112
ঢাকা ওয়াসার উপ-সচিব নুরুজ্জামান মিয়াজী। চাকরিবিধি লঙ্ঘণ করে গত ৫ আগস্টের আগে এভাবেই আওয়ামী লীগের প্রচার-প্রচারণা চালাতেন। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা ওয়াসায় বিগত সরকারের সমর্থনপুষ্ট এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। নুরুজ্জামান মিয়াজী নামে ‘ছাত্রলীগের’ কথিত এই নেতা বর্তমানে সংস্থাটির উপ সচিব (প্রশাসন-১)এর দায়িত্বে রয়েছেন।
এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগেও দুর্নীতি ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগ ছিলো। ঘুষ কেলেঙ্কারির কারণে বিগত সরকারের আমলে চাকরি থেকে বরখাস্তও করা হয় নুরুজ্জামান মিয়াজীকে। তখন ‘ছাত্রলীগ’ এবং কুমিল্লার বাসিন্দা পরিচয়ে সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের মাধ্যমে চাকরিতে পুনর্বহাল হয়েছে।
বর্তমান অন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ওয়াসায় শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৬ ডিসেম্বর এই কর্মকর্তাকে প্রশাসন বিভাগ-২ থেকে সরিয়ে সংস্থাটির অপেক্ষাকৃত কমগুরুত্বপূর্ণ শ্রম ও কল্যাণ বিভাগে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে সংস্থাটির বিএনপিপন্থী কর্মচারি ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুল আলম খান (অবসরপ্রাপ্ত) ও সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন পাটোয়ারির সহায়তায় পুনরায় প্রশাসন-১ বিভাগে বদলি হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ওয়াসা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন করে পদায়নের পরপরই আগের তুলনায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন নুরুজ্জামান মিয়াজী। সংস্থায় কিছু দিন সচিব ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আউটসোর্সিং কর্মচারী বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য করে ফাঁকা মাঠে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
গত ৩০ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদকে) দায়ের করা এক অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, গত মাসে দুই শত আউটসোর্সিং কর্মচারী বদলি এবং চল্লিশ জন বিলিং সহকারী নিয়োগ করে ওয়াসা। যার তালিকা প্রস্তুতসহ যাবতীয় কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন উপরে উল্লেখিত তিন ব্যাক্তি। এবং এই কাজের মাধ্যমে কোটি টাকার বেশি দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে নুরুজ্জামান মিয়াজীকে ঢাকা ওয়াসার কর্মচারি ও ঠিকাদারদের নিকট ‘মুর্তিমান আতঙ্ক’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে আরো জানা যায়, নুরুজ্জামান মিয়াজীর নিয়োগও বিতর্কিত। কেননা এই কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় নবম স্থান অধিকারী হয়েও ১৪ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে এই পদে আসীন হয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, দুর্নীতির বরপুত্র খ্যাত ওয়াসার সাবেক এমডি তাকসিম এ খানের দুর্নীতির অন্যতম সহযোগী ও সুবিধাভোগী ছিলেন নুরুজ্জামান মিয়াজী। নিয়োগ, বদলী ও পদোন্নতি বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি এখন প্লট, ফ্ল্যাট, বাড়ি সহ অঢেল সম্পদের মালিক; যা তার জ্ঞাত আয়-এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করলে তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছেন।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা দাবি করতেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা আছে এমন প্রচারণা চালিয়ে ওয়াসায় প্রভাব বিস্তার করতেন; স্যোশাল মিডিয়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন পোস্ট দিতেন। এমনকি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উস্কানি প্রদান করতেন।
অভিযোগের বিষয়ে নুরুজ্জামান মিয়াজী বাংলা অ্যাফেয়ার্স ডটকম-কে জানান, বদলি এবং নিয়োগের তথ্যটি সঠিক; তবে সংখ্যা আরো কিছু কম। এর সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। কারা নিয়োগ পাবেন, কাদের বদলি করা হবে- পুরো বিষয়টি এমডির দপ্তর থেকে তাকে তালিকা পাঠানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে এই কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি সঠিক না। তিনি কখনো কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
তবে এই কর্মকর্তার স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করা বিগত দিনের কিছু স্ট্যাটাস আমাদের হাতে এসেছে। যেখানে তিনি আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেশ কিছু কর্মসূচী ও দিবসের ছবি পোস্ট করেছেন। যদিও সেগুলো এখন আর তার স্যোশাল মিডিয়ায় নেই।
অভিযোগের বিষয়ে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী শওকত মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।



































