ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ড. ইউনূসের জুলাই ঘোষণাপত্র দেওয়ার কোনো অধিকার নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
  • / 239

ফরহাদ মজহার

কবি, লেখক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, “প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জুলাই ঘোষণাপত্র দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। তিনি শেখ হাসিনার সংবিধানের অধীন একজন উপদেষ্টা, তিনি চুপ্পুর উপদেষ্টা। গণ-অভ্যুত্থানের নেতা নন, তিনি গণ-অভ্যুত্থানের একটি ফল মাত্র।” তিনি বলেন, “ছাত্ররা ঘোষণাপত্র দিতে চেয়েছিল, এই সরকার তখন মিথ্যা কথা বলে তা দিতে দেয়নি।”

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে গণশক্তি সভা আয়োজিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্রে বঞ্চনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, “সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লবের কারণে এই গণ-অভ্যুত্থান যদি ব্যর্থ হয়, আমরা আবার লড়াই করে গণ-অভ্যুত্থানের দিকে যাবো। গণ-অভ্যুত্থানের শুরুতেই আমরা বলেছি জাতীয় সরকার গঠনের কথা। যে তরুণরা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে, বুকের রক্ত দিয়ে এ গণ-অভ্যুত্থান করেছে তারা বলেছে—আসুন আমরা জাতীয় সরকার করি। শেখ হাসিনার যে ফ্যাসিবাদী সংবিধান ফেলে দিয়ে আসুন আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠন করি। কেন আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠন করতে চাই? কারণ জিয়াউর রহমানও এইরকম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করতে চেয়েছিলেন। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য লড়াই করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি কি সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বা জাতীয়তাবাদের জন্য যুদ্ধ করেছেন? বাহাত্তরের সংবিধান আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।”

বিএনপির উদ্দেশে ফরহাদ মজহার বলেন, “আপনারা কেন এই সংবিধান ধরে রাখতে চান? জিয়াউর রহমান তো বাহাত্তরের সংবিধান ধরে রাখতে চাননি। আমি যতটুকু জানি, বেগম খালেদা জিয়াও এই সংবিধান ধরে রাখতে চাননি। তিনিও বলেছিলেন, এই সংবিধান ছুড়ে ফেলে দিতে হবে। তাহলে আপনারা কেন গণ-অভ্যুত্থানের ওপর চাপ দিয়ে এই সংবিধান ধরে রাখলেন এবং একটা প্রতিবিপ্লব ঘটালেন? যা করার কথা ছিল তা না করে কার জন্য এটা করলেন?”

তিনি আরও বলেন, “শুরু থেকেই আপনারা নির্বাচন, নির্বাচন করতে লাগলেন। জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাননি কেন আপনারা? নির্বাচন মানেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়। শেখ হাসিনাও নির্বাচন করতেন। এখন সবার আগে দরকার গণপরিষদ নির্বাচন। সেই গণপরিষদের সবাই মিলে ঠিক করবে কী ধরনের রাষ্ট্র আমাদের লাগবে।”

ফরহাদ মজহার বলেন, “গণসার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে—কেমন সে গণসার্বভৌমত্ব? রাষ্ট্রের সকল সিদ্ধান্তে জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে। কোনো প্রকল্প নিলে যারা এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমনকি যারা লাভবান হবে তাদের এ-সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকতে হবে। আমলারা সিদ্ধান্ত নিলেই হবে না, কারণ তারা অল্প টাকায় বিক্রি হয়ে যায়।”

তিনি বলেন, “একটা নির্বাচন দিলে সব হয়ে যাবে? রাষ্ট্র তো আগের জায়গাতেই আছে, সেনাবাহিনীও আগের জায়গাতেই আছে, কিছু বদল হয়নি।”

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে ফরহাদ মজহার বলেন, “শেখ হাসিনার শাসনামলে সেনাবাহিনীর নৈতিক শক্তি ও মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই সেনাবাহিনীকে দিয়ে দেশ রক্ষা করার কথা বলেও লাভ নেই। আপনারা সেনাবাহিনীকে নির্বাচন করাতে চাইছেন, কারণ নির্বাচন করার ক্ষমতা আপনাদের নেই। কিন্তু সেনাবাহিনীর কাজ তো নির্বাচন পরিচালনা করা নয়। সেনাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ষড়যন্ত্র আমরা নাগরিকরা সহ্য করবো না।”

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ড. ইউনূসের জুলাই ঘোষণাপত্র দেওয়ার কোনো অধিকার নেই

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

কবি, লেখক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, “প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জুলাই ঘোষণাপত্র দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। তিনি শেখ হাসিনার সংবিধানের অধীন একজন উপদেষ্টা, তিনি চুপ্পুর উপদেষ্টা। গণ-অভ্যুত্থানের নেতা নন, তিনি গণ-অভ্যুত্থানের একটি ফল মাত্র।” তিনি বলেন, “ছাত্ররা ঘোষণাপত্র দিতে চেয়েছিল, এই সরকার তখন মিথ্যা কথা বলে তা দিতে দেয়নি।”

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে গণশক্তি সভা আয়োজিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্রে বঞ্চনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, “সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লবের কারণে এই গণ-অভ্যুত্থান যদি ব্যর্থ হয়, আমরা আবার লড়াই করে গণ-অভ্যুত্থানের দিকে যাবো। গণ-অভ্যুত্থানের শুরুতেই আমরা বলেছি জাতীয় সরকার গঠনের কথা। যে তরুণরা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে, বুকের রক্ত দিয়ে এ গণ-অভ্যুত্থান করেছে তারা বলেছে—আসুন আমরা জাতীয় সরকার করি। শেখ হাসিনার যে ফ্যাসিবাদী সংবিধান ফেলে দিয়ে আসুন আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠন করি। কেন আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠন করতে চাই? কারণ জিয়াউর রহমানও এইরকম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করতে চেয়েছিলেন। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য লড়াই করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি কি সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বা জাতীয়তাবাদের জন্য যুদ্ধ করেছেন? বাহাত্তরের সংবিধান আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।”

বিএনপির উদ্দেশে ফরহাদ মজহার বলেন, “আপনারা কেন এই সংবিধান ধরে রাখতে চান? জিয়াউর রহমান তো বাহাত্তরের সংবিধান ধরে রাখতে চাননি। আমি যতটুকু জানি, বেগম খালেদা জিয়াও এই সংবিধান ধরে রাখতে চাননি। তিনিও বলেছিলেন, এই সংবিধান ছুড়ে ফেলে দিতে হবে। তাহলে আপনারা কেন গণ-অভ্যুত্থানের ওপর চাপ দিয়ে এই সংবিধান ধরে রাখলেন এবং একটা প্রতিবিপ্লব ঘটালেন? যা করার কথা ছিল তা না করে কার জন্য এটা করলেন?”

তিনি আরও বলেন, “শুরু থেকেই আপনারা নির্বাচন, নির্বাচন করতে লাগলেন। জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাননি কেন আপনারা? নির্বাচন মানেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়। শেখ হাসিনাও নির্বাচন করতেন। এখন সবার আগে দরকার গণপরিষদ নির্বাচন। সেই গণপরিষদের সবাই মিলে ঠিক করবে কী ধরনের রাষ্ট্র আমাদের লাগবে।”

ফরহাদ মজহার বলেন, “গণসার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে—কেমন সে গণসার্বভৌমত্ব? রাষ্ট্রের সকল সিদ্ধান্তে জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে। কোনো প্রকল্প নিলে যারা এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমনকি যারা লাভবান হবে তাদের এ-সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকতে হবে। আমলারা সিদ্ধান্ত নিলেই হবে না, কারণ তারা অল্প টাকায় বিক্রি হয়ে যায়।”

তিনি বলেন, “একটা নির্বাচন দিলে সব হয়ে যাবে? রাষ্ট্র তো আগের জায়গাতেই আছে, সেনাবাহিনীও আগের জায়গাতেই আছে, কিছু বদল হয়নি।”

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে ফরহাদ মজহার বলেন, “শেখ হাসিনার শাসনামলে সেনাবাহিনীর নৈতিক শক্তি ও মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই সেনাবাহিনীকে দিয়ে দেশ রক্ষা করার কথা বলেও লাভ নেই। আপনারা সেনাবাহিনীকে নির্বাচন করাতে চাইছেন, কারণ নির্বাচন করার ক্ষমতা আপনাদের নেই। কিন্তু সেনাবাহিনীর কাজ তো নির্বাচন পরিচালনা করা নয়। সেনাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ষড়যন্ত্র আমরা নাগরিকরা সহ্য করবো না।”