ড্যাফোডিল ও সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
- / 118
সাভারের আশুলিয়ার খাগান এলাকায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কয়েকজন শিক্ষার্থীর বাসায় সিটি ইউনিভার্সিটির কিছু শিক্ষার্থীর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার (২৬ অক্টোবর) রাত থেকে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি গ্রামের ব্যাচেলর প্যারাডাইস নামক ভবনের সামনে শুরু হয় এবং সংঘর্ষের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় এক ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশোভন আচরণকে কেন্দ্র করে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের ওই বাসায় হামলা ও ভাঙচুর করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।
হামলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যাচ্ছিলো—তাকে থামাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ আক্ষেপ সহকারীভাবে তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে প্রক্টর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীরা ব্যাচেলর প্যারাডাইসের সামনে অবস্থান নেন। এই সময় সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
রাতে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি—ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে আগুন দেখা গেছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া অব্যাহত থাকে। এক পর্যায়ে একটি গাড়িতে আগুন জ্বালানোর ঘটনা ঘটে।
সাভার থানার ডিউটি অফিসার এসআই হাবিবুর রহমান জানান, ‘আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাটি যেন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে থাকে সে চেষ্টা চলছে।’
প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (পুসাব) তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে দুই পাশের এ ধরণের সহিংসতা নিন্দা করে বলেন—শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিবাদ হতে পারে, তর্ক হতে পারে; তবে হাজারে হাজারে গিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ও অবকাঠামো ধ্বংস করা, মানুষকে আহত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং আগুন নেভাতে, পরিস্থিতি শীতল করতে বলেন।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।






































