ঢাকা ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিপিডিসি এমডি নিয়োগ নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
  • / 151

প্রকৌশলী বি.এম. মিজানুল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের বৈধতা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ উঠেছে। এ নিয়ে ঢাকা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী তাহমিমা মহিমা বাঁধন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ও ডিপিডিসির চেয়ারম্যানের কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশটি ২৯ অক্টোবর স্বাক্ষরিত হয় এবং ৩০ অক্টোবর ডাকযোগে প্রেরণ করা হয়।

আইনজীবী তাহমিমা ২৩ ও ২৬ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান।

লিগ্যাল নোটিশের খবর জানাজানি হতেই ২ নভেম্বর রোববার ডিপিডিসির প্রধান কার্যালয়ে প্রকৌশলীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে অভিযোগ করেন, এমডি নিয়োগের বিদ্যমান মানদণ্ডে অসঙ্গতি থাকায় যোগ্য হয়েও তারা আবেদন করতে পারেননি। তারা দ্রুত বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার মানদণ্ড সংশোধনপূর্বক পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানান।

নোটিশে বলা হয়েছে, জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিভাগ ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে স্মারক নং ২৭.০০.০০০০.০৮৮.১১.০০৫.২৪-৪৭৩ এর মাধ্যমে প্রকৌশলী বি.এম. মিজানুল হাসানকে তিন বছরের জন্য ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই নিয়োগ ডিপিডিসির ৩৮৭তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অনুমোদিত।

তবে নোটিশে দাবি করা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ নন, কখনও এই খাতে দায়িত্ব পালনও করেননি। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় তিনি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ছিলেন, অথচ মেধা তালিকার শীর্ষ দুই প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই। এছাড়া ৩৮৭তম বোর্ড সভার কার্যবিবরণীতে এই নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে, ফলে প্রজ্ঞাপনে “বোর্ডের সিদ্ধান্তের” উল্লেখটি বিভ্রান্তিকর ও অসত্য।

তাহমিমা মহিমা বাঁধন লিগ্যাল নোটিশে সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ, মেধা ও অভিজ্ঞতার ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন- নিয়োগে সত্যিই মেধা অনুসারে মূল্যায়ন হয়েছে কি না, অথবা সিদ্ধান্ত পূর্বনির্ধারিত ছিল কি না।

নোটিশে বিদ্যুৎ সচিব ও ডিপিডিসি চেয়ারম্যানকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে মেধা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীকে এমডি হিসেবে নিয়োগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তা না হলে সংবিধানের আলোকে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিগ্যাল নোটিশের বিষয়ে প্রকৌশলী বি.এম. মিজানুল হাসানের সাথে বাংলা অ্যাফেয়ার্স এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। জানান, এই নোটিশের বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ডিপিডিসি এমডি নিয়োগ নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের বৈধতা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ উঠেছে। এ নিয়ে ঢাকা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী তাহমিমা মহিমা বাঁধন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ও ডিপিডিসির চেয়ারম্যানের কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশটি ২৯ অক্টোবর স্বাক্ষরিত হয় এবং ৩০ অক্টোবর ডাকযোগে প্রেরণ করা হয়।

আইনজীবী তাহমিমা ২৩ ও ২৬ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান।

লিগ্যাল নোটিশের খবর জানাজানি হতেই ২ নভেম্বর রোববার ডিপিডিসির প্রধান কার্যালয়ে প্রকৌশলীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে অভিযোগ করেন, এমডি নিয়োগের বিদ্যমান মানদণ্ডে অসঙ্গতি থাকায় যোগ্য হয়েও তারা আবেদন করতে পারেননি। তারা দ্রুত বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার মানদণ্ড সংশোধনপূর্বক পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানান।

নোটিশে বলা হয়েছে, জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিভাগ ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে স্মারক নং ২৭.০০.০০০০.০৮৮.১১.০০৫.২৪-৪৭৩ এর মাধ্যমে প্রকৌশলী বি.এম. মিজানুল হাসানকে তিন বছরের জন্য ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই নিয়োগ ডিপিডিসির ৩৮৭তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অনুমোদিত।

তবে নোটিশে দাবি করা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ নন, কখনও এই খাতে দায়িত্ব পালনও করেননি। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় তিনি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ছিলেন, অথচ মেধা তালিকার শীর্ষ দুই প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই। এছাড়া ৩৮৭তম বোর্ড সভার কার্যবিবরণীতে এই নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে, ফলে প্রজ্ঞাপনে “বোর্ডের সিদ্ধান্তের” উল্লেখটি বিভ্রান্তিকর ও অসত্য।

তাহমিমা মহিমা বাঁধন লিগ্যাল নোটিশে সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ, মেধা ও অভিজ্ঞতার ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন- নিয়োগে সত্যিই মেধা অনুসারে মূল্যায়ন হয়েছে কি না, অথবা সিদ্ধান্ত পূর্বনির্ধারিত ছিল কি না।

নোটিশে বিদ্যুৎ সচিব ও ডিপিডিসি চেয়ারম্যানকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে মেধা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীকে এমডি হিসেবে নিয়োগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তা না হলে সংবিধানের আলোকে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিগ্যাল নোটিশের বিষয়ে প্রকৌশলী বি.এম. মিজানুল হাসানের সাথে বাংলা অ্যাফেয়ার্স এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। জানান, এই নোটিশের বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।