ইশরাকপন্থী দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
- / 164
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইশরাক হোসেনের সমর্থিত দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে পাঁচজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগর ভবনে বেলায়েত হোসেন বাদল ও আরিফুজ্জামান চৌধুরী প্রিন্সের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগের দিনই প্রিন্স গ্রুপের কর্মীরা প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগর ভবন ছাড়তে বাধ্য করে বলে অভিযোগ ওঠে, যা নগর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়।
সূত্র জানায়, গত ২৯ মে এ ধরনের আরেকটি সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন এবং তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় দায়েরকৃত অভিযোগটি পরদিন (৩০ মে) নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয় (মামলা নম্বর: ৩৮)। অভিযুক্তদের মধ্যে ডিএসসিসির পরিবহন, বর্জ্য, সংস্থাপন ও রাজস্ব বিভাগের কর্মচারীরা রয়েছেন। তবে এদের কোনো অনুমোদিত কমিটি বা রেজিস্ট্রেশন নেই।
বিএনপির নাম ভাঙিয়ে নগর ভবনে চাঁদাবাজি, দখল, পদায়ন বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা অনেকটাই আতঙ্কিত। গত ৫ আগস্টের পর থেকেই এসব কার্যক্রম জোরদার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একই সঙ্গে গত ১৪ মে মেয়রের দায়িত্ব ইশরাক হোসেনকে দেওয়ার দাবিতে ডিএসসিসিতে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। বহিরাগতদের সহায়তায় তালা লাগানো হয় নগর ভবনের ৬৫টি দপ্তরে, ফলে নগরবাসীর জন্য সব ধরনের সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
টানা ৪০ দিনের এই অচলাবস্থার পর আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মশিউর রহমান ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের ঘনিষ্ঠরা সরে দাঁড়ান। গত ২২ জুন মশিউর রহমান নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে সেবা চালু করার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, বর্জ্য, আইন, সমাজকল্যাণ, রাজস্ব, বিদ্যুৎ, ট্রেড লাইসেন্সসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যাবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—সাবেক আমলা মশিউর রহমানের এমন ঘোষণা দেওয়ার আইনগত বৈধতা কী? কারণ, সরকার নিযুক্ত প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া এখনও দায়িত্বে রয়েছেন।
এই অচলাবস্থা ও সংঘর্ষ নগরবাসীর সেবাপ্রাপ্তিতে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীদের মতে, ব্যক্তি স্বার্থে পরিচালিত এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব ও গণসেবাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
































