ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডা. তাসনিম জারার নির্বাচনী ইশতেহারে কী আছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:১৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 3

ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা

ঢাকা-৯ আসনের নাগরিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। গ্যাস-পানি সংকট থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক সমস্যার সমাধানে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারী) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই ইশতেহার প্রকাশ করেন তিনি।

ইশতেহারে ডা. তাসনিম জারা বলেন, ঢাকা-৯ এলাকার মানুষ গুলশান-বনানীর মতোই কর ও বিল পরিশোধ করলেও সেবার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ভোটের সময় রাজনৈতিক নেতারা এলেও নির্বাচনের পর তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এই এলাকা রাষ্ট্রের কাছে যেন শুধু একটি ‘এটিএম মেশিন’।

নাগরিক সেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্যাস না পেলেও নিয়মিত বিল দিতে হচ্ছে, যা প্রতারণার শামিল। এ পরিস্থিতিতে সংসদে গিয়ে ‘সেবা না দিলে বিল নয়’ নীতির পক্ষে আইন প্রস্তাবের কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে পাইপলাইন গ্যাসের ঘাটতির কারণে এলপিজির দাম বাড়ানোর সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারি হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্ষার আগেই খাল ও নর্দমা পরিষ্কার এবং রাস্তা কাটার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করলে ঠিকাদারকে জরিমানার আওতায় আনার কথা বলেন তিনি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও পার্কগুলোকে হাঁটার উপযোগী করার পরিকল্পনার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে ডা. তাসনিম জারা বলেন, প্রায় আট লাখ মানুষের জন্য একটি মাত্র বড় হাসপাতাল থাকা অমানবিক। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট দূর করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ‘মিনি হাসপাতাল’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা বছরব্যাপী একটি স্থায়ী মশা নিধন টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। নারীস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা এবং কর্মস্থলে নারীবান্ধব সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও বলেন।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার অনেক রাস্তা মাদক সিন্ডিকেটের দখলে চলে গেছে। এ অবস্থায় স্কুল, কলেজ ও গার্মেন্টস এলাকায় সিসি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করে ‘নিরাপদ করিডোর’ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং আসক্তদের চিকিৎসার আওতায় আনার কথাও জানান।

শিক্ষা বিষয়ে ডা. তাসনিম জারা বলেন, ঘন ঘন নীতিগত পরিবর্তনে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার বস্তুতে পরিণত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, স্কুল ভর্তিতে এমপির কোনো কোটা বা সুপারিশ থাকবে না। মেধা ও স্বচ্ছতাই হবে একমাত্র মানদণ্ড। পাশাপাশি স্কুলগুলোতে আধুনিক ল্যাব, লাইব্রেরি, কোডিং ও ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

অর্থনীতি ও জীবিকা প্রসঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯’ ফান্ড গঠনের ঘোষণা দেন ডা. তাসনিম জারা। জামানত ছাড়া সহজ শর্তে ঋণ পেতে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার কথাও বলেন তিনি। কর্মজীবী মায়েদের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর প্রতিশ্রুতি দেন।

এমপির জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে এলাকায় স্থায়ী কার্যালয় চালু করবেন। অভিযোগের অগ্রগতি জানাতে একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালুর কথাও জানান তিনি। তাঁর দাবি, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগে কোনো প্রটোকল বা দালালের প্রয়োজন হবে না।

সবশেষে ডা. তাসনিম জারা বলেন, তিনি কোনো পেশাদার রাজনীতিবিদ নন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্বচ্ছ রাজনীতির সুযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি নির্বাচনে এসেছেন। এই ইশতেহারকে তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে নিজের ‘চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে ‘ফুটবল’ মার্কায় ভোট চান।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ডা. তাসনিম জারার নির্বাচনী ইশতেহারে কী আছে?

সর্বশেষ আপডেট ০৫:১৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-৯ আসনের নাগরিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। গ্যাস-পানি সংকট থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক সমস্যার সমাধানে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারী) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই ইশতেহার প্রকাশ করেন তিনি।

ইশতেহারে ডা. তাসনিম জারা বলেন, ঢাকা-৯ এলাকার মানুষ গুলশান-বনানীর মতোই কর ও বিল পরিশোধ করলেও সেবার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ভোটের সময় রাজনৈতিক নেতারা এলেও নির্বাচনের পর তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এই এলাকা রাষ্ট্রের কাছে যেন শুধু একটি ‘এটিএম মেশিন’।

নাগরিক সেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্যাস না পেলেও নিয়মিত বিল দিতে হচ্ছে, যা প্রতারণার শামিল। এ পরিস্থিতিতে সংসদে গিয়ে ‘সেবা না দিলে বিল নয়’ নীতির পক্ষে আইন প্রস্তাবের কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে পাইপলাইন গ্যাসের ঘাটতির কারণে এলপিজির দাম বাড়ানোর সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারি হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্ষার আগেই খাল ও নর্দমা পরিষ্কার এবং রাস্তা কাটার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করলে ঠিকাদারকে জরিমানার আওতায় আনার কথা বলেন তিনি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও পার্কগুলোকে হাঁটার উপযোগী করার পরিকল্পনার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে ডা. তাসনিম জারা বলেন, প্রায় আট লাখ মানুষের জন্য একটি মাত্র বড় হাসপাতাল থাকা অমানবিক। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট দূর করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ‘মিনি হাসপাতাল’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা বছরব্যাপী একটি স্থায়ী মশা নিধন টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। নারীস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা এবং কর্মস্থলে নারীবান্ধব সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও বলেন।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার অনেক রাস্তা মাদক সিন্ডিকেটের দখলে চলে গেছে। এ অবস্থায় স্কুল, কলেজ ও গার্মেন্টস এলাকায় সিসি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করে ‘নিরাপদ করিডোর’ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং আসক্তদের চিকিৎসার আওতায় আনার কথাও জানান।

শিক্ষা বিষয়ে ডা. তাসনিম জারা বলেন, ঘন ঘন নীতিগত পরিবর্তনে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার বস্তুতে পরিণত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, স্কুল ভর্তিতে এমপির কোনো কোটা বা সুপারিশ থাকবে না। মেধা ও স্বচ্ছতাই হবে একমাত্র মানদণ্ড। পাশাপাশি স্কুলগুলোতে আধুনিক ল্যাব, লাইব্রেরি, কোডিং ও ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

অর্থনীতি ও জীবিকা প্রসঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯’ ফান্ড গঠনের ঘোষণা দেন ডা. তাসনিম জারা। জামানত ছাড়া সহজ শর্তে ঋণ পেতে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার কথাও বলেন তিনি। কর্মজীবী মায়েদের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর প্রতিশ্রুতি দেন।

এমপির জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে এলাকায় স্থায়ী কার্যালয় চালু করবেন। অভিযোগের অগ্রগতি জানাতে একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালুর কথাও জানান তিনি। তাঁর দাবি, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগে কোনো প্রটোকল বা দালালের প্রয়োজন হবে না।

সবশেষে ডা. তাসনিম জারা বলেন, তিনি কোনো পেশাদার রাজনীতিবিদ নন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্বচ্ছ রাজনীতির সুযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি নির্বাচনে এসেছেন। এই ইশতেহারকে তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে নিজের ‘চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে ‘ফুটবল’ মার্কায় ভোট চান।