ডাকসু ও জাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিএনপির জাহিদ হোসেন
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৩:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 109
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাকসু) ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এজেডএম জাহিদ হোসেন।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রশ্ন উঠছে। গতকালকের জাকসু নির্বাচনে শুধু ছাত্রদল নয়, বিভিন্ন প্যানেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী, এমনকি শিক্ষকরা পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নিশ্চয়ই এর কোনো কারণ আছে।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, “২০০৯ সালে মানুষ ভোট দিতে পারেনি, ২০১৪ তে ভোটারবিহীন নির্বাচন হয়েছে, ২০১৮ তে দিনের ভোট রাতে হয়েছে, ২০২৪ এ আই-ডামি নির্বাচন হয়েছে। তাই জনগণ এখনো নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফেরাতে চায়।”
জাহিদ হোসেন নির্বাচন আয়োজকদের উদ্দেশে বলেন, “এমন কোনো নির্বাচন আয়োজন করা যাবে না, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বা মানুষ দ্বিধায় পড়বে। প্রতিদ্বন্দ্বী দল বা প্রার্থী সরে যাবে—এমন নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়।”
ডাকসু নির্বাচনে সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম এবং জাকসু নির্বাচনে দায়িত্ব পালনরত শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যুতেও শোক প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে ডাকসু নির্বাচনে শিবির বিপুল বিজয় অর্জন করেছে। ভিপি ও জিএসসহ ১২টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ৯টিতেই জয় পেয়েছে সংগঠনটির প্রার্থীরা। বাকি তিনটি পদে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল কোনো পদেই জয় পায়নি।
জাকসু নির্বাচনে বৃহস্পতিবার ভোট শেষ হওয়ার আগে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। তাদের অভিযোগ, ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা জামায়াত নেতার কোম্পানি সরবরাহ করায় পুরো প্রক্রিয়া শিবির দ্বারা মনিটর করা হয়েছে।
ভোট বর্জনের পর রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।
জাহিদ হোসেন বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য যারা লড়াই করেছেন, তারা বিভাজনের রাজনীতিতে যাবেন না। ঐক্যের রাজনীতিতে আসুন, জনগণের উপর আস্থা রাখুন। নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে বিপথে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে বিএনপি এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে রাষ্ট্র সংস্কারের চলমান কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “শেষ বিচারে জনগণের জয় হবে, গণতন্ত্রের জয় হবে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে ভবিষ্যতের সংবিধান ও সংস্কার কেমন হবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ৩১ দফার আলোকে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতৃত্ব দেবেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ডিইএব) আহ্বায়ক মো. হানিফ, সদস্য সচিব কাজী শাখাওয়াত হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
































