ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠক, বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৫১:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
- / 156
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৮ আগস্ট) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ট্রাম্প এ বৈঠককে ভালো বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের নেতারা ইউক্রেনের নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্ত হবেন বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করবেন তিনি।
এ বৈঠকে ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন, ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রো এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে বলেন, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে যেভাবে মানুষ নিহত হচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ইউক্রেনের অবকাঠামো ধ্বংসও ঠেকাতে হবে। এটি একটি ভয়াবহ যুদ্ধ। তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ট্রাম্প ‘অচলাবস্থা ভেঙেছেন’।
উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা এখানে এসেছি ইউক্রেনের জন্য একটি ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করতে।” তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
ফ্রিডরিখ মার্জ বলেন, “আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে, পরবর্তী বৈঠক যুদ্ধবিরতি ছাড়া হবে। তাই আসুন আমরা এটি নিয়ে কাজ করি এবং রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করি।”
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, “আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব। এর প্রথমটি হলো নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। কীভাবে এটি নিশ্চিত করা যায় যে, এই যুদ্ধ আবার ঘটবে না— সেটিই সব ধরনের শান্তির পূর্বশর্ত।”
এমানুয়েল ম্যাঁক্রো বলেন, “গত কয়েক বছর শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। আমাদের লক্ষ্য জোরালো ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি। এজন্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটাই সমাধানের একমাত্র পথ।”
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “আমরা নিরাপত্তার কথা বলছি। এটা শুধু ইউক্রেনের নয়, পুরো ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তার বিষয়। তাই এটি এত গুরুত্বপূর্ণ।”
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব বলেন, “প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, আজ আমরা যে এই টেবিলে বসেছি, এটি অত্যন্ত প্রতীকী। এর অর্থ হচ্ছে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে ইউক্রেনকে সহায়তা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “ফিনল্যান্ডের রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সংঘাতের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে আমরা ১৯৪৪ সালে একটি সমাধান খুঁজে পেয়েছিলাম। আমি নিশ্চিত, ২০২৫ সালে এসে আমরা রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধে একটি সমাধান পাব এবং একটি স্থায়ী ও ন্যায্য শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো।”
































