যুক্তরাষ্ট্র-জাপান চুক্তি ঘিরে নতুন প্রশ্ন
ট্রাম্পের কঠোর শুল্কনীতি কী সত্যিই ফল দিচ্ছে?
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
- / 173
জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে ‘বড় অর্জন’ হিসেবে তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করছেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন বাণিজ্য নিয়ে তার যে আগ্রাসী ও কঠোর কৌশল ছিল, বিশেষ করে শুল্ক আরোপ, এখন তার বাস্তব ফল দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও চাপ প্রয়োগ কৌশলই অবশেষে জাপানকে একটি চুক্তির পথে আনতে বাধ্য করেছে।
চুক্তিটি এমন এক সময়ে হয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। জাপান যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক পরিমাণে পণ্য রফতানি করলেও আমদানি করে তুলনামূলকভাবে কম। এই অসম সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই সংশোধনের চেষ্টা করে আসছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ আলোচনার পরও এতদিন চুক্তি অধরাই ছিল। একাধিক প্রতিনিধিদলের সফর এবং টানা কূটনৈতিক দেন-দরবারের পর অবশেষে এটি চূড়ান্ত হলো। যদিও দুই পক্ষ এখনও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, জাপান যুক্তরাষ্ট্র থেকে চাল আমদানিতে ছাড় দেবে এবং কিছু খাতে বিনিয়োগও বাড়াবে।
বিবিসির ইকোনমিকস এডিটর ফয়সাল ইসলাম তার বিশ্লেষণে লিখেছেন, আলোচনা চলাকালে জাপানি প্রতিনিধিরা বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সাধারণত সৌজন্য ও নরম আচরণে অভ্যস্ত জাপানি কর্মকর্তাদের এই ধরনের প্রতিক্রিয়া ওয়াশিংটনের কাছে ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত।
ফয়সাল ইসলাম আরও বলেন, “আলোচনার সময় জাপান কঠোর অবস্থান নেয়। কারণ, দেশটির হাতে রয়েছে প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন ট্রেজারি বন্ড। জাপানের অর্থমন্ত্রী এমনকি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, দরকার হলে এই বন্ড মার্কিনদের চাপ দিতে আলোচনার টেবিলে তোলা হতে পারে।”
চুক্তির দিনটিও গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক যেদিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা টোকিও সফরে ছিলেন, সেদিনই এই চুক্তি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ধারণা করা হচ্ছিল, জাপান, ইইউ এবং কানাডা মিলে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। নতুন চুক্তি সেই সম্ভাবনাকে এক প্রকার ঠেকিয়ে দিল।

নতুন চুক্তির আওতায় জাপান তার কৃষি খাতকে সুরক্ষা দেওয়ার কৌশল বজায় রেখেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চালসহ কিছু কৃষিপণ্যের আমদানিতে ছাড় দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাপানের বেসরকারি খাতকে যুক্তরাষ্ট্রে আধা ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে আভাস মিলেছে।
বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, জাপান চাইলে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে পারতো। কারণ আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি আরও কঠোর আকারে কার্যকর হতে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নিলেও পারতো জাপান। কিন্তু দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দুর্বল রাজনৈতিক অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ চাপে তারা চুক্তিতে রাজি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক বছর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের মিত্র দেশগুলোর ওপর এই ধরনের শুল্ক আরোপ ছিল অচিন্তনীয়। কিন্তু এখন বাস্তবতা হলো; আন্তর্জাতিক ভয়ের কারণে অনেক দেশই যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে। জাপানের ক্ষেত্রে এই চুক্তি হয়তো তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর হলেও এটি প্রমাণ করছে যে, ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি বিশ্ব অর্থনীতিতে শক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।
সূত্র: বিবিসি
































