ঢাকা ১২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পকে ঠেকাতে রুশ-ভারত ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / 127

ট্রাম্পকে ঠেকাতে রুশ-ভারত ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির তীব্র বিরোধিতা করেছে রাশিয়া। পাশাপাশি, ভারতের পাশে থাকারও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে মস্কো। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সার্বভৌম কোনো দেশের স্বাধীনভাবে বাণিজ্যসঙ্গী বেছে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

এছাড়া মস্কো অভিযোগ করেছে, ট্রাম্প বিভিন্ন দেশকে হুমকি দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করছেন।

রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করায় বুধবার (৬ আগস্ট) ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এই বাড়তি শুল্ক কার্যকর হলে আগামী ২৭ আগস্ট থেকে ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করতে ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে রুশ সরকারের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “আমরা (ট্রাম্পের) অনেক বক্তব্য শুনছি, যেগুলো মূলত হুমকি। বিভিন্ন দেশকে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। আমরা এই বক্তব্যগুলোকে বৈধ কিংবা ন্যায্য বলে মনে করি না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো সার্বভৌম দেশের স্বাধীনভাবে বাণিজ্যসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো দেশের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী এসব বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক বোঝাপড়া গড়ে ওঠে।”

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, পেসকভের বক্তব্যে ভারতের নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন রাশিয়া যে ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে ভারতের পাশে রয়েছে, তা পরিষ্কার।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি এবং বাড়তি শুল্কের চাপ উপেক্ষা করে মস্কো সফর করছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

যদিও ভারত ও রাশিয়া; দুই দেশই এখনো ডোভালের এই সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ডোভালের সঙ্গে পুতিনের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নাকচও করেননি।

এছাড়া, শুল্কনীতি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই চীন সফরের পরিকল্পনা করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সীমান্ত বিরোধ সত্ত্বেও বাণিজ্যিক স্বার্থে ভারত-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে এগোচ্ছে; এমনটিই উল্লেখ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

তাই ট্রাম্পের শুল্কনীতির হুমকির প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লি-বেইজিং সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। মোদির চীন সফর হলে ভূরাজনৈতিক সমীকরণে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ট্রাম্পকে ঠেকাতে রুশ-ভারত ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে

সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির তীব্র বিরোধিতা করেছে রাশিয়া। পাশাপাশি, ভারতের পাশে থাকারও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে মস্কো। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সার্বভৌম কোনো দেশের স্বাধীনভাবে বাণিজ্যসঙ্গী বেছে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

এছাড়া মস্কো অভিযোগ করেছে, ট্রাম্প বিভিন্ন দেশকে হুমকি দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করছেন।

রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করায় বুধবার (৬ আগস্ট) ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এই বাড়তি শুল্ক কার্যকর হলে আগামী ২৭ আগস্ট থেকে ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করতে ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে রুশ সরকারের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “আমরা (ট্রাম্পের) অনেক বক্তব্য শুনছি, যেগুলো মূলত হুমকি। বিভিন্ন দেশকে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। আমরা এই বক্তব্যগুলোকে বৈধ কিংবা ন্যায্য বলে মনে করি না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো সার্বভৌম দেশের স্বাধীনভাবে বাণিজ্যসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো দেশের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী এসব বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক বোঝাপড়া গড়ে ওঠে।”

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, পেসকভের বক্তব্যে ভারতের নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন রাশিয়া যে ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে ভারতের পাশে রয়েছে, তা পরিষ্কার।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি এবং বাড়তি শুল্কের চাপ উপেক্ষা করে মস্কো সফর করছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

যদিও ভারত ও রাশিয়া; দুই দেশই এখনো ডোভালের এই সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ডোভালের সঙ্গে পুতিনের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নাকচও করেননি।

এছাড়া, শুল্কনীতি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই চীন সফরের পরিকল্পনা করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সীমান্ত বিরোধ সত্ত্বেও বাণিজ্যিক স্বার্থে ভারত-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে এগোচ্ছে; এমনটিই উল্লেখ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

তাই ট্রাম্পের শুল্কনীতির হুমকির প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লি-বেইজিং সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। মোদির চীন সফর হলে ভূরাজনৈতিক সমীকরণে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।