টেস্ট ক্রিকেটে নতুন রূপকথা লিখলেন মিচেল স্টার্ক
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৪:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
- / 258
১৪৮ বছরের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক। নিজের ১০০তম টেস্টে তিনি মাত্র ১৫ বলে পাঁচটি উইকেট নিয়ে ভেঙেছেন টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড।
জামাইকার স্যাবাইনা পার্কে অনুষ্ঠিত এই ডে-নাইট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস শুরু থেকেই ধসে পড়ে স্টার্কের তীব্র গতির আক্রমণে। ম্যাচের শুরুতেই, ইনিংসের প্রথম বলেই জন ক্যাম্পবেলকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর একই ওভারে আরও দুই ব্যাটার কেভলন অ্যান্ডারসন ও ব্র্যান্ডন কিংকেও ফিরিয়ে দেন, যার ফলে প্রথম ওভারেই দেখা যায় তিন উইকেটের এক বিরল দৃশ্য।
তবে এখানেই থেমে থাকেননি স্টার্ক। নিজের তৃতীয় ওভারে আরও দুই ব্যাটার—শাই হোপ ও মিকাইল লুইসকে আউট করে মাত্র ১৫ বলেই পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট। এর আগে ১৫ বলের মধ্যে কেউই টেস্টে পাঁচ উইকেট পাননি। এ রেকর্ড এতদিন ছিল ১৯ বলের মধ্যে পাঁচ উইকেট নেওয়া আর্নি টশাক (১৯৪৭), স্টুয়ার্ট ব্রড (২০১৫) ও স্কট বোলান্ডের (২০২১) দখলে।
স্টার্কের নেওয়া চতুর্থ উইকেটটি ছিল তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪০০তম। শততম টেস্টে এসে এই মাইলফলক স্পর্শ করে তিনি শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রা ও নাথান লায়নের পর অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে মাত্র চতুর্থ বোলার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন। বাঁহাতি পেসার হিসেবে বিশ্ব ক্রিকেটে তিনি এখন তৃতীয় ব্যক্তি, যিনি টেস্টে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁলেন।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস মাত্র ১২১ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ২০৪ রানের লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু স্টার্কের প্রথম ওভারেই ম্যাচের চেহারা পাল্টে যায়। একপর্যায়ে ক্যারিবিয়ানদের স্কোর দাঁড়ায় ৩ রানে ৫ উইকেট। এরপর হ্যাজেলউড একটি এবং বোলান্ড হ্যাটট্রিকসহ কয়েকটি উইকেট তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয়ে যায় খুবই কম রানে, যা টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোরের একটি।
ম্যাচের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ করেন ৪৮ ও ক্যামেরন গ্রিন করেন ৪৬ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে শামার জোসেফ নেন ৪ উইকেট এবং সিলস ও গ্রেভস পান তিনটি করে উইকেট।
স্টার্কের এমন পারফরম্যান্স শুধু রেকর্ডই ভাঙেনি, বরং প্রমাণ করেছে, বামহাতি এই গতিতারকা এখনও টেস্ট ক্রিকেটে ভয় জাগানো অস্ত্র হয়ে রয়েছেন। তার ১০০তম টেস্ট হয়ে উঠেছে এক চিরস্মরণীয় ক্রিকেট রূপকথা—যা হয়তো বহু বছর মনে রাখবে ক্রিকেট বিশ্ব।































