ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টেকনাফে মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন অংশে ভাঙন

মোহাম্মদ ইউনুছ অভি, টেকনাফ (কক্সবাজার)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:১২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
  • / 250

টেকনাফে মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন অংশে ভাঙন

সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের সর্বশেষ অংশে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত ও উচ্চ জোয়ারের ফলে সাগরের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক ফুট উঁচু হয়ে মেরিন ড্রাইভে আঘাত হানছে। এর ফলে টেকনাফ অংশে প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে চারটি জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে বসানো জিও টিউব ব্যাগগুলোর অনেকগুলো ফুটো হয়ে গেছে, ফলে বাঁধগুলো দ্রুত বিলীন হচ্ছে। পাশাপাশি, জোয়ারে ভেঙে পড়া ঝাড় গাছগুলো স্থানীয় লোকজন কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে পূর্ণিমার জোয়ারের সময় মেরিন ড্রাইভের একই অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। তখন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) জিও টিউব ব্যাগ ব্যবহার করে মাটির বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধ করেছিল।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, জোয়ারের ধাক্কায় মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হচ্ছে এবং জিও টিউব বাঁধগুলো ধসে পড়ছে। টেকনাফের মুন্ডার ডেইল, বাহারছড়া ও শীলখালীর কিছু অংশ ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। এ সময় জোয়ারে ভেঙে পড়া ঝাড় গাছ সাবরাং মুন্ডার ডেইল ঘাটে স্থানীয় মো. ফিরোজ দুই শ্রমিক দিয়ে কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “শুক্রবার দুপুরে মুন্ডার ডেইল ও বাহারছড়া ঘাট এলাকায় মেরিন ড্রাইভের কয়েকটি অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। সড়কের পশ্চিম পাশে বসানো জিও ব্যাগের বাঁধগুলো বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তবে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন জায়গায় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে সমুদ্রের বালু তুলে জমি ভরাট করছেন। সৈকত থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু তোলার ফলে মেরিন ড্রাইভের গোড়ার অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন জোয়ারের ধাক্কায় ওই দুর্বল অংশগুলোতে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। এছাড়া ভাঙনের ফলে সমুদ্রতীর থেকে বালু সরে যাচ্ছে, যা ভাঙন প্রতিরোধে বাধা সৃষ্টি করছে। এজন্যই একই জায়গাগুলো বারবার ভাঙছে।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। মেরিন ড্রাইভের রক্ষণাবেক্ষণ সেনাবাহিনী করে। ঢেউয়ের আঘাতে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঝাড় গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

টেকনাফে মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন অংশে ভাঙন

সর্বশেষ আপডেট ০৭:১২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫

সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের সর্বশেষ অংশে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত ও উচ্চ জোয়ারের ফলে সাগরের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক ফুট উঁচু হয়ে মেরিন ড্রাইভে আঘাত হানছে। এর ফলে টেকনাফ অংশে প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে চারটি জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে বসানো জিও টিউব ব্যাগগুলোর অনেকগুলো ফুটো হয়ে গেছে, ফলে বাঁধগুলো দ্রুত বিলীন হচ্ছে। পাশাপাশি, জোয়ারে ভেঙে পড়া ঝাড় গাছগুলো স্থানীয় লোকজন কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে পূর্ণিমার জোয়ারের সময় মেরিন ড্রাইভের একই অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। তখন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) জিও টিউব ব্যাগ ব্যবহার করে মাটির বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধ করেছিল।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, জোয়ারের ধাক্কায় মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হচ্ছে এবং জিও টিউব বাঁধগুলো ধসে পড়ছে। টেকনাফের মুন্ডার ডেইল, বাহারছড়া ও শীলখালীর কিছু অংশ ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। এ সময় জোয়ারে ভেঙে পড়া ঝাড় গাছ সাবরাং মুন্ডার ডেইল ঘাটে স্থানীয় মো. ফিরোজ দুই শ্রমিক দিয়ে কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “শুক্রবার দুপুরে মুন্ডার ডেইল ও বাহারছড়া ঘাট এলাকায় মেরিন ড্রাইভের কয়েকটি অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। সড়কের পশ্চিম পাশে বসানো জিও ব্যাগের বাঁধগুলো বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তবে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন জায়গায় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে সমুদ্রের বালু তুলে জমি ভরাট করছেন। সৈকত থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু তোলার ফলে মেরিন ড্রাইভের গোড়ার অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন জোয়ারের ধাক্কায় ওই দুর্বল অংশগুলোতে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। এছাড়া ভাঙনের ফলে সমুদ্রতীর থেকে বালু সরে যাচ্ছে, যা ভাঙন প্রতিরোধে বাধা সৃষ্টি করছে। এজন্যই একই জায়গাগুলো বারবার ভাঙছে।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। মেরিন ড্রাইভের রক্ষণাবেক্ষণ সেনাবাহিনী করে। ঢেউয়ের আঘাতে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঝাড় গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”