ফ্লাইট এক্সপার্ট কেলেঙ্কারি
টিকিট প্রতারণায় গ্রাহকদের পথে বসার শঙ্কা
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
- / 173
অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’ হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে এর সিইও ও ব্যবস্থাপনা অংশীদার সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির অফিস তালাবদ্ধ এবং ওয়েবসাইট অচল অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় তিনজন গ্রেপ্তার হলেও টিকিট প্রতারণায় গ্রাহকদের পথে বসার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০১৭ সাল থেকে অনলাইন টিকিট বিক্রির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা ফ্লাইট এক্সপার্ট অল্প সময়ে দেশের অন্যতম পরিচিত অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি হিসেবে পরিচিতি পায়। কিন্তু অসুস্থ কমিশন প্রতিযোগিতা, অতিরিক্ত ছাড় এবং স্বল্প দামে টিকিট বিক্রির ফাঁদে পড়ে শত শত গ্রাহক আজ ক্ষতিগ্রস্ত। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি টিকিটে বাজার মূল্যের চেয়ে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় দিত, যা বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক গ্যারান্টির পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া, বড় ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর কাছ থেকে টিকিট সংগ্রহ করে পুনরায় বিক্রি করত তারা। অনেকে অগ্রিম টাকা পরিশোধ করেও টিকিট পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
বারবার সতর্ক করেছিল আটাব
ট্রাভেল এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আটাব) দীর্ঘদিন ধরেই ওটিএর প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড এবং অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতার বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এই বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে আটাব।
আটাবের অভিযোগ, অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর একটি অংশ পোর্টাল আইডি শেয়ার করে অস্বাভাবিক ছাড়ে টিকিট বিক্রি করছে। পরে ডিপোজিট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা হঠাৎ করে কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে। অতীতে ‘হালট্রিপ’, ‘২৪টিকেট ডট কম’, ‘লেটস ফ্লাই’-এর মতো অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিও একই কৌশলে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

আটাবের জরুরি বৈঠকে ৫ দফা সিদ্ধান্ত
৩ আগস্ট বিকালে আটাবের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে ফ্লাইট এক্সপার্ট ইস্যুতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়:
প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং সদস্যপদ বাতিল।
যাত্রী হয়রানি রোধে ফ্লাইট এক্সপার্টের টিকিট রিফান্ড স্থগিত রাখার অনুরোধ।
ব্যাংকগুলোকে অনুরোধ, যাতে তারা ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডে অতিরিক্ত ছাড় না দেয়।
অতিরিক্ত ডিসকাউন্টের মাধ্যমে টিকিট বিক্রির প্রচার সরকারের নজরে আনা।
ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের আইনি সহায়তা দেবে আটাব।
জরুরি ভিত্তিতে নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান
এদিকে আটাব বলছে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
গ্রাহকদের জন্য সতর্কতা
যাত্রীদের প্রতি আটাবের আহ্বান; লোভনীয় অফারের ফাঁদে না পড়ে যাচাই-বাছাই করে টিকিট কিনুন। প্রয়োজনে লাইসেন্সধারী ও নির্ভরযোগ্য ট্রাভেল এজেন্সির কাছ থেকেই সেবা গ্রহণ করুন।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’ কেলেঙ্কারির ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন ট্রাভেল মার্কেটের ঝুঁকি কতটা বড় হতে পারে। এ ঘটনায় শুধু ভুক্তভোগী গ্রাহকরাই নন, পুরো এভিয়েশন খাতই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
আরো পড়তে পারেন































