ঢাকা ০২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঝুঁকির মুখে তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 103

তামিম ইকবাল

প্রবল আপত্তির মধ্যেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) এবং সরকারের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ প্রক্রিয়ায় অব্যাহত ছিল। ‘বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় এবং ক্লাবের সব পর্যায়ের ক্রিকেট খেলোয়াড় ও সংগঠকবৃন্দ’ ব্যানারে তামিমের নেতৃত্বে এক অংশ জাতীয়তাবাদী ঘরানার ক্রিকেট সংগঠক প্রতিবাদ জানালেও কোনো পরিবর্তন আনা যায়নি।

শেষ পর্যন্ত জেলা ও বিভাগ থেকে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পক্ষের লোকজনই কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। জানা যায়, ১৮ সেপ্টেম্বর বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজে চিঠি দিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে অনুরোধ করেছিলেন যে, বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে শুধুমাত্র এডহক কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকে কাউন্সিলর পাঠানো হোক। এই চিঠির বরাত দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়।

তবে এই অভিযোগ কার্যকর হয়নি। গত মঙ্গলবার রাতে বিসিবি প্রকাশিত খসড়া কাউন্সিলর তালিকায় দেখা যায়, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির বাইরে কেউ নির্বাচিত হয়নি।

প্রতিবাদে আজ বুধবার দুপুরে গুলশানের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। সকাল থেকে ঢাকার ক্লাবপাড়া ও ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট মহলে জোর গুঞ্জন রয়েছে যে, তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ বাতিল হতে পারে।

যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন ২৩ সেপ্টেম্বর। সূত্রের মতে, তামিম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে খেলা ছাড়ার ঘোষণা দেননি। অর্থাৎ তিনি এখনও নিয়মিত ক্রিকেটার। বিশ্বে কোনো দেশে খেলোয়াড় থাকা অবস্থায় বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পদে যাওয়ার নজির নেই। বিসিবির গঠনতন্ত্রেও বলা আছে, কোনো ক্রিকেটারকে বোর্ড কর্মকর্তা হতে হলে আগে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করতে হবে।

আগের খেলোয়াড়রা যেমন আকরাম খান, খালেদ মাহমুদ সুজন, নাইমুর রহমান—সবাই বোর্ডে যোগ দিয়েছিলেন খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পর। তাই তামিম আনুষ্ঠানিকভাবে খেলা ছেড়ে কাউন্সিলরশিপ নিলে এ ধরনের প্রশ্ন উঠত না।

অন্যদিকে, খেলোয়াড়ি জীবন চলাকালীন তামিম অন্য পরিচয়ে কাউন্সিলরশিপ চাইতে পারেন, তবে সেখানে শোনা যাচ্ছে গলদ আছে। এ বছর প্রিমিয়ার লিগে গুলশান ক্রিকেটার্সকে অর্থায়ন করেছেন তামিম। যদি তিনি সেই ক্লাবের কর্মকর্তা হিসেবে (সভাপতি, সম্পাদক বা সমন্বয়কারী) আবেদন করেন, তা বৈধ। কিন্তু জানা গেছে, কাগজে-কলমে তিনি গুলশান ক্লাবের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক নন; শুধুমাত্র অর্থদাতা। এই অবস্থায় তার কাউন্সিলরশিপ পেতে ঝক্কি পোহাতে হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঝুঁকির মুখে তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ

সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

প্রবল আপত্তির মধ্যেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) এবং সরকারের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ প্রক্রিয়ায় অব্যাহত ছিল। ‘বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় এবং ক্লাবের সব পর্যায়ের ক্রিকেট খেলোয়াড় ও সংগঠকবৃন্দ’ ব্যানারে তামিমের নেতৃত্বে এক অংশ জাতীয়তাবাদী ঘরানার ক্রিকেট সংগঠক প্রতিবাদ জানালেও কোনো পরিবর্তন আনা যায়নি।

শেষ পর্যন্ত জেলা ও বিভাগ থেকে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পক্ষের লোকজনই কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। জানা যায়, ১৮ সেপ্টেম্বর বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজে চিঠি দিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে অনুরোধ করেছিলেন যে, বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে শুধুমাত্র এডহক কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকে কাউন্সিলর পাঠানো হোক। এই চিঠির বরাত দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়।

তবে এই অভিযোগ কার্যকর হয়নি। গত মঙ্গলবার রাতে বিসিবি প্রকাশিত খসড়া কাউন্সিলর তালিকায় দেখা যায়, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির বাইরে কেউ নির্বাচিত হয়নি।

প্রতিবাদে আজ বুধবার দুপুরে গুলশানের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। সকাল থেকে ঢাকার ক্লাবপাড়া ও ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট মহলে জোর গুঞ্জন রয়েছে যে, তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ বাতিল হতে পারে।

যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন ২৩ সেপ্টেম্বর। সূত্রের মতে, তামিম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে খেলা ছাড়ার ঘোষণা দেননি। অর্থাৎ তিনি এখনও নিয়মিত ক্রিকেটার। বিশ্বে কোনো দেশে খেলোয়াড় থাকা অবস্থায় বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পদে যাওয়ার নজির নেই। বিসিবির গঠনতন্ত্রেও বলা আছে, কোনো ক্রিকেটারকে বোর্ড কর্মকর্তা হতে হলে আগে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করতে হবে।

আগের খেলোয়াড়রা যেমন আকরাম খান, খালেদ মাহমুদ সুজন, নাইমুর রহমান—সবাই বোর্ডে যোগ দিয়েছিলেন খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পর। তাই তামিম আনুষ্ঠানিকভাবে খেলা ছেড়ে কাউন্সিলরশিপ নিলে এ ধরনের প্রশ্ন উঠত না।

অন্যদিকে, খেলোয়াড়ি জীবন চলাকালীন তামিম অন্য পরিচয়ে কাউন্সিলরশিপ চাইতে পারেন, তবে সেখানে শোনা যাচ্ছে গলদ আছে। এ বছর প্রিমিয়ার লিগে গুলশান ক্রিকেটার্সকে অর্থায়ন করেছেন তামিম। যদি তিনি সেই ক্লাবের কর্মকর্তা হিসেবে (সভাপতি, সম্পাদক বা সমন্বয়কারী) আবেদন করেন, তা বৈধ। কিন্তু জানা গেছে, কাগজে-কলমে তিনি গুলশান ক্লাবের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক নন; শুধুমাত্র অর্থদাতা। এই অবস্থায় তার কাউন্সিলরশিপ পেতে ঝক্কি পোহাতে হবে।