ঝিনাইগাতী সীমান্তে মানবপাচারকারীসহ সাতজন আটক
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
- / 78
শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তপথে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের সময় নারী ও শিশুসহ সাতজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটককৃতদের মধ্যে দুজন মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) সোমবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার নওকুচি এলাকার কালীমন্দির সংলগ্ন সীমান্ত পিলার ১১০৪/৯-এস থেকে প্রায় ৭০০ গজ বাংলাদেশের ভেতরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
বিজিবি জানায়, আটককৃতদের মধ্যে দুজন মানবপাচারকারী এবং পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। পাঁচজনের মধ্যে তিনজন নারী, একজন শিশু ও একজন পুরুষ। তারা পাসপোর্ট ছাড়া অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ এবং ফেরার সময় ধরা পড়েন।
গ্রেপ্তার মানবপাচারকারীরা হলেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বরুঙ্গা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রমজান আলী (২৪) এবং একই গ্রামের আসমত আলীর ছেলে রাসেল মিয়া (১৬)। তারা মামা-ভাগিনা সম্পর্কের।
আটক ভুক্তভোগীরা হলেন নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বোমভাগ গ্রামের মেলদার শেখের ছেলে শামীম শেখ (২৩), একই গ্রামের হায়দার আলীর মেয়ে আফসানা (২২), কালিয়ার কুলসুর গ্রামের মৃত মনির হোসেন পাটোয়ারীর মেয়ে রুমা বেগম (৩২), একই গ্রামের মৃত উজ্জ্বল বিশ্বাসের স্ত্রী মিলিনা বিশ্বাস (২৮) এবং মিলিনা বিশ্বাসের শিশু সন্তান কাশেম বিশ্বাস (৩)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক অনুপ্রবেশকারীরা জানিয়েছেন, তারা গত ২৩ আগস্ট শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে পাচারকারী রমজান আলী ও রাসেল মিয়ার সহায়তায় জনপ্রতি ২০–৩০ হাজার টাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। সম্প্রতি ভারতীয় পুলিশের অভিযান শুরু হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে তারা পুনরায় একই চক্রের সহায়তায় ঝিনাইগাতী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
গ্রেপ্তার মানবপাচারকারীরা স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশি ও ভারতীয় নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় পাচারচক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বিজিবি জানায়, আটক মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২-এর অধীনে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া পাঁচজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পুলিশের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল আমিন জানিয়েছেন, ধৃত দুই আসামি স্বীকার করেছেন, তারা ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল। তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচারে প্রচেষ্টা ও প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২-এর ধারা ৬, ৭ ও ৮ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পাঁচজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।


































