জ্বালানি ও অর্থনীতিতে নতুন মাত্রায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক : প্রণয় ভার্মা
- সর্বশেষ আপডেট ১১:০৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / 5
বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমেই জ্বালানি, বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলভিত্তিক বাস্তব সহযোগিতায় রূপ নিচ্ছে, যার সুফল সরাসরি দুই দেশের জনগণ ও শিল্পখাতে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
শনিবার (২৪ জানুয়ারী) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত প্রজাতন্ত্র দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত অর্জিত সাফল্যগুলো ভবিষ্যতের জন্য আরও দূরদর্শী ও প্রস্তুত হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
প্রণয় ভার্মা বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার যৌথ ত্যাগের ইতিহাস বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভিত্তি হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সম্পর্ক অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার নতুন স্তরে পৌঁছেছে। সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পকলার মতো অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দুই দেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি সহযোগিতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি ভারতীয় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে উচ্চগতির ডিজেল পরিবহনের আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন এবং ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে ভারত ও নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা আঞ্চলিক জ্বালানি সংযুক্তির একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি করেছে। এসব উদ্যোগ শুধু দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাই নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় বৃহত্তর অর্থনৈতিক সংহতির দিকেও অগ্রসর হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ ছাড়া সরবরাহ শৃঙ্খলের ঘনিষ্ঠ সংযুক্ততা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতকে আরও শক্তিশালী করছে বলেও জানান হাইকমিশনার।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে বাস্তব অগ্রগতি। বিদ্যুৎ আমদানি, জ্বালানি পরিবহন এবং বাণিজ্যিক সংযুক্তির ফলে এই সম্পর্ক এখন কেবল রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, তৈরি পোশাক ও ওষুধ শিল্পের মতো রপ্তানিনির্ভর খাতে সরবরাহ শৃঙ্খলের উন্নয়ন বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, বিশ্লেষকদের অভিমত হলো—বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক একটি নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে, যেখানে ঐতিহাসিক বন্ধন ও সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি জ্বালানি, বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা এই অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও কার্যকর করে তুলছে।































