জোর করে কিছু চাপিয়ে দেবে না ঐকমত্য কমিশন: আলী রীয়াজ
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 135
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দেবে না বলে জানিয়েছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ২৯টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, “সনদ বাস্তবায়নের ক্ষমতা কমিশনের নেই। কমিশন কেবল সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারকে সুপারিশ করতে পারে।”
অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও জানান, সর্বশেষ আলোচনায় কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছিল। এর একটি খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে দেওয়া হয়, যা নিয়ে তারা মতামত দিয়েছেন। অঙ্গীকারনামা নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়েছে এবং আশা করা যাচ্ছে চূড়ান্ত খসড়া আজ বিকেলেই দলগুলোর হাতে পৌঁছে যাবে।
তিনি বলেন, এই প্যানেলে দুজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, তিনজন আইনজীবী এবং একজন আইন শিক্ষক ছিলেন। বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে কমিশন বুঝতে পেরেছে যে, জুলাই সনদের কিছু বিষয় অন্তর্বর্তী সরকার বাস্তবায়ন করতে পারে।
কোনো সিদ্ধান্ত কমিশন নিজে থেকে নিতে চায় না উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা বিশেষজ্ঞ প্যানেল ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করতে আগ্রহী।”
বৈঠক শেষে আলী রীয়াজ জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর চূড়ান্ত ভাষ্য আজই পাঠানো হচ্ছে ৷ এ সনদে সকলের মতের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টার মধ্যে দু’জন ব্যক্তির নাম পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ সময় কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আজকের আলোচনায় দু’টি বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
তিনি জানান, সুপারিশের যে সব বিষয় সংবিধান সংশ্লিষ্ট নয় সে সকল বিষয় বাস্তবায়নের জন্যে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করতে পারে এবং সুপারিশের যেসব বিষয় সরকারি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আদেশ ও বিধি প্রনয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব সেগুলো অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করতে পারে ৷
সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে অধ্যাদেশ জারি ও যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে আজকের আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি-সহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
আগামী রোববার দুপুর ২.৩০ ঘটিকায় আবারও রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনায় বসবে কমিশন।
































