ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জেলহত্যা দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩০:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / 95

জেলহত্যা দিবস আজ

আজ ৩ নভেম্বর, জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকারের চার শীর্ষ নেতা—অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে। এই দিনটি জাতির ইতিহাসে গভীর শোক ও বেদনার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তার ঘনিষ্ঠ এই চার সহযোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতার মধ্যে কারাগারের অভ্যন্তরে রাতের আঁধারে ঘটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পরবর্তীতে ঘটনাটি “জেলহত্যা মামলা” নামে পরিচিতি পায়।

এই মামলার রায়ে আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। কিন্তু দণ্ডপ্রাপ্ত ১১ আসামির মধ্যে ১০ জনই এখনও পলাতক। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন ছিলেন বরখাস্ত ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ, যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাতেও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তিনি ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে গ্রেপ্তার হন এবং একই মাসে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

১৯৭৫ সালের ৪ নভেম্বর তৎকালীন কারা উপমহাপরিদর্শক কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় এ হত্যাকাণ্ডের মামলা করেন। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সরকারের পরিবর্তনের কারণে তদন্ত কার্যক্রম ২১ বছর ধরে স্থবির ছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর মামলাটি পুনরায় সচল হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করে, যা এখনো জাতি ও ইতিহাসে এক গভীর ক্ষতের স্মারক হিসেবে রয়ে গেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জেলহত্যা দিবস আজ

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩০:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

আজ ৩ নভেম্বর, জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকারের চার শীর্ষ নেতা—অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে। এই দিনটি জাতির ইতিহাসে গভীর শোক ও বেদনার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তার ঘনিষ্ঠ এই চার সহযোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতার মধ্যে কারাগারের অভ্যন্তরে রাতের আঁধারে ঘটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পরবর্তীতে ঘটনাটি “জেলহত্যা মামলা” নামে পরিচিতি পায়।

এই মামলার রায়ে আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। কিন্তু দণ্ডপ্রাপ্ত ১১ আসামির মধ্যে ১০ জনই এখনও পলাতক। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন ছিলেন বরখাস্ত ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ, যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাতেও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তিনি ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে গ্রেপ্তার হন এবং একই মাসে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

১৯৭৫ সালের ৪ নভেম্বর তৎকালীন কারা উপমহাপরিদর্শক কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় এ হত্যাকাণ্ডের মামলা করেন। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সরকারের পরিবর্তনের কারণে তদন্ত কার্যক্রম ২১ বছর ধরে স্থবির ছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর মামলাটি পুনরায় সচল হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করে, যা এখনো জাতি ও ইতিহাসে এক গভীর ক্ষতের স্মারক হিসেবে রয়ে গেছে।