জেন-জি বিক্ষোভে পালালেন মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩৬:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
- / 103
জেনারেশন জেড নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা। ফরাসি সামরিক বাহিনীর বিমানে করে তিনি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে গেছেন বলে সোমবার (১৩ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে তরুণদের নেতৃত্বে ‘জেন-জি’ আন্দোলনের মুখে মাদাগাস্কারে বিশ্বে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো সরকার পতনের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা সিতেনি রান্দ্রিয়ানাসোলোনিয়াইকো জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর কিছু ইউনিট বিদ্রোহ করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় প্রেসিডেন্ট পালিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, তিনি দেশ ছেড়েছেন। তবে বর্তমানে তার অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু জানা যায়নি।
এর আগে প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছিল, সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন রাজোয়েলিনা। কিন্তু পরবর্তীতে সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ফরাসি সামরিক বিমানে দেশত্যাগ
দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, রোববার ফরাসি সেনাবাহিনীর কাসা বিমান মাদাগাস্কারের সেন্ট মেরি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর একটি উড়োজাহাজ থেকে যাত্রীদের ওই বিমানে স্থানান্তর করা হয়—যার মধ্যে ছিলেন প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা। ফরাসি রেডিও আরএফআই জানিয়েছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক সমঝোতার অংশ হিসেবেই তিনি দেশত্যাগ করেন।
২৫ সেপ্টেম্বর পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই সরকারের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও মৌলিক সেবার ঘাটতির ইস্যুতে পরিণত হয়। নেপাল ও মরক্কোসহ অন্যান্য দেশে তরুণদের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক প্রতিবাদের ঢেউয়ের অংশ হিসেবে মাদাগাস্কারেও এই গণ-অসন্তোষ দেখা দেয়। গত মাসে অনুরূপ বিক্ষোভের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করেন।
সেনাবাহিনীর বিদ্রোহ
২০০৯ সালে রাজোয়েলিনাকে ক্ষমতায় আনতে সহায়তা করা সেনাবাহিনীর বিশেষ ইউনিট ক্যাপসাট এবার বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ায়। তারা জানায়, জনগণের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ অমান্য করে তারা বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে। রাজধানী আন্তানানারিভোর প্রধান স্কয়ারে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর নেতৃত্ব দেয় সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
পরে ক্যাপসাট ইউনিট ঘোষণা করে, তারা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং নতুন সেনাপ্রধান নিয়োগ দিয়েছে। এই ঘটনার পর রাজোয়েলিনা সতর্ক করে বলেন, দেশে ‘ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চলছে’।
সোমবার আধা-সামরিক বাহিনী জেন্ডারমেরির একাংশও বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ সময় সরকারি কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন বলে রয়টার্সের প্রতিনিধি জানান।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট নিয়োগ
বিক্ষোভের সময় সিনেটের সভাপতি পদচ্যুত হন এবং তার স্থলে জ্যঁ আন্দ্রে এনরেমাঞ্জারিকে অন্তর্বর্তীকালীন সিনেট সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট অনুপস্থিত থাকলে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সিনেটের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি
রাজধানীতে সোমবার হাজার হাজার মানুষ ‘এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ চাই’—স্লোগানে রাস্তায় নামে। এক তরুণ বিক্ষোভকারী আদ্রিয়ানারিভনি ফানোমেগান্তসোয়া বলেন, তার মাসিক আয় প্রায় ৩ লাখ আরিয়ারি (প্রায় ৬৭ ডলার), যা দিয়ে কেবল খাদ্য কেনা সম্ভব। তিনি বলেন, “১৬ বছরে প্রেসিডেন্ট জনগণের জন্য কিছুই করেননি, শুধু নিজেদের সম্পদ বাড়িয়েছেন।”
জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন।
প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার দেশ মাদাগাস্কারে গড় বয়স ২০ বছরেরও কম এবং তিন-চতুর্থাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, স্বাধীনতার পর (১৯৬০ থেকে ২০২০) দেশটির মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ৪৫ শতাংশ কমেছে।
ভ্যানিলার সবচেয়ে বড় উৎপাদনকারী দেশ মাদাগাস্কারের প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো নিকেল, কোবাল্ট, টেক্সটাইল ও চিংড়ি—যা দেশের বৈদেশিক আয় ও কর্মসংস্থানের মূল উৎস।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।



































