ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
গণঅধিকার পরিষদ

জুলাই সবার, কারও একার নয়; ঘোষণাপত্র প্রত্যাখ্যাত

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / 112

গণঅধিকার পরিষদ

অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও স্বীকৃতি ছাড়াই চূড়ান্ত করা হয়েছে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ এই অভিযোগে তা প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। ৩ আগস্ট রোববার রাজধানীর পুরানা পল্টনে আল রাজী কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটি এই অবস্থান তুলে ধরে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের সম্ভাবনায় নতুন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলন শুরু হয়। পরে আন্দোলনে সরকার বলপ্রয়োগ করলে তা রূপ নেয় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনে। এই আন্দোলনের বিস্তৃত অংশগ্রহণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে এক সফল গণঅভ্যুত্থান।

তিনি দাবি করেন, এই গণঅভ্যুত্থান একমাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের ফসল নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ১৪-১৫ বছরের সংগ্রামের ইতিহাস। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনায় ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আলেম সমাজের মধ্যে যে প্রতিরোধবোধ গড়ে ওঠে, তা থেকে শুরু করে ২০১৫ সালের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলন; সব কিছুই একসূত্রে গাঁথা।

রাশেদ খান বলেন, ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিতে বাধ্য করা হয়। সেটি ছিল এক বড় সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক পালাবদল। এরপর শিক্ষার্থীদের মধ্যে জন্ম নেয় ‘হাসিনাকে হারানোর’ সাহস। ওই বছর ২৯ জুলাই দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় সারাদেশে যে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন গড়ে ওঠে, তা ছিল সাহসের পরবর্তী ধাপ।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এখন অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই ঘোষণাপত্রের’ দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছে, কিন্তু এর জন্য বিপ্লবের অংশীজনদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ বা স্বীকৃতির উদ্যোগ নেয়নি। এই উদ্যোগ গণআন্দোলনের সার্বজনীন চরিত্রের পরিপন্থী এবং ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা। গণঅধিকার পরিষদ মনে করে, জুলাই কারও একার সম্পদ নয়। এটি দেশের সব মানুষের, সব আন্দোলনের সম্মিলিত অর্জন।

সংবাদ সম্মেলনের সঞ্চালনায় ছিলেন উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ। আরও বক্তব্য দেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন শাকিল উজ্জামান, শহিদুল ইসলাম ফাহিম, অ্যাডভোকেট সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, জিলু খান, শাহ মুহাম্মদ সাগর, আখতারুজ্জামান সম্রাটসহ ছাত্র ও দলীয় নেতৃবৃন্দ।

গণঅধিকার পরিষদের মতে, কোনো দল বা গোষ্ঠীকে খুশি করতে তৈরি করা একতরফা ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের চেতনাবিরোধী হবে এবং তা ১৯৭১ সালের ইতিহাস বিকৃতির ধারার পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখা হবে। দলটি সব অংশীজনের সম্মতিতে যৌথ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গণঅধিকার পরিষদ

জুলাই সবার, কারও একার নয়; ঘোষণাপত্র প্রত্যাখ্যাত

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও স্বীকৃতি ছাড়াই চূড়ান্ত করা হয়েছে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ এই অভিযোগে তা প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। ৩ আগস্ট রোববার রাজধানীর পুরানা পল্টনে আল রাজী কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটি এই অবস্থান তুলে ধরে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের সম্ভাবনায় নতুন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলন শুরু হয়। পরে আন্দোলনে সরকার বলপ্রয়োগ করলে তা রূপ নেয় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনে। এই আন্দোলনের বিস্তৃত অংশগ্রহণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে এক সফল গণঅভ্যুত্থান।

তিনি দাবি করেন, এই গণঅভ্যুত্থান একমাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের ফসল নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ১৪-১৫ বছরের সংগ্রামের ইতিহাস। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনায় ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আলেম সমাজের মধ্যে যে প্রতিরোধবোধ গড়ে ওঠে, তা থেকে শুরু করে ২০১৫ সালের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলন; সব কিছুই একসূত্রে গাঁথা।

রাশেদ খান বলেন, ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিতে বাধ্য করা হয়। সেটি ছিল এক বড় সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক পালাবদল। এরপর শিক্ষার্থীদের মধ্যে জন্ম নেয় ‘হাসিনাকে হারানোর’ সাহস। ওই বছর ২৯ জুলাই দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় সারাদেশে যে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন গড়ে ওঠে, তা ছিল সাহসের পরবর্তী ধাপ।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এখন অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই ঘোষণাপত্রের’ দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছে, কিন্তু এর জন্য বিপ্লবের অংশীজনদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ বা স্বীকৃতির উদ্যোগ নেয়নি। এই উদ্যোগ গণআন্দোলনের সার্বজনীন চরিত্রের পরিপন্থী এবং ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা। গণঅধিকার পরিষদ মনে করে, জুলাই কারও একার সম্পদ নয়। এটি দেশের সব মানুষের, সব আন্দোলনের সম্মিলিত অর্জন।

সংবাদ সম্মেলনের সঞ্চালনায় ছিলেন উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ। আরও বক্তব্য দেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন শাকিল উজ্জামান, শহিদুল ইসলাম ফাহিম, অ্যাডভোকেট সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, জিলু খান, শাহ মুহাম্মদ সাগর, আখতারুজ্জামান সম্রাটসহ ছাত্র ও দলীয় নেতৃবৃন্দ।

গণঅধিকার পরিষদের মতে, কোনো দল বা গোষ্ঠীকে খুশি করতে তৈরি করা একতরফা ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের চেতনাবিরোধী হবে এবং তা ১৯৭১ সালের ইতিহাস বিকৃতির ধারার পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখা হবে। দলটি সব অংশীজনের সম্মতিতে যৌথ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।